kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


২০ রানের আফসোস মাশরাফির

মাসুদ পারভেজ   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



২০ রানের আফসোস মাশরাফির

তখন মধ্যরাত কিন্তু সন্ধ্যার ঝড়ের তাণ্ডবলীলা বোঝার উপায় বলতে কেবল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইলেকট্রনিক্স স্কোরবোর্ডের ভাঙা ফ্রেম। যেটি শেষ পর্যন্ত ভাঙা হাটের প্রতীকী চিহ্ন হয়েও দাঁড়িয়ে থাকল যেন।

অথচ আশ্চর্য রকমের নীরবতায় নিথর হয়ে যাওয়া স্টেডিয়ামে তখন উৎসবের মাতাল হাওয়ায় ভেসে যাওয়ারই প্রস্তুতি ছিল সবার। আশা ছিল বিজয়ের আনন্দে দর্শক অভিবাদনের জবাব দিতে ‘ভিক্টরি ল্যাপ’ দেবেন মাশরাফি বিন মর্তুজারা। এবার ফাইনালে জয় দেখার আশায় স্টেডিয়ামে হুমড়ি খেয়ে পড়া দর্শকদের হই-হল্লা করতে করতেই বাড়ির পথ ধরারও কথা ছিল। কিন্তু পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতে গণ্যমান্যদের বক্তব্য চলার সময়ই স্টেডিয়াম ফাঁকা করে দিয়ে নীরবে প্রস্থান করেছে হতাশ দর্শক।

যারা টিকিট কেনার জন্য ব্যাংকের সামনে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। ক্লান্তিকর দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকিট না পাওয়ার ক্ষোভে ফুঁসে উঠে পুলিশের ধাওয়াও খেয়েছে অনেকে, তাড়াহুড়োয় আহত হওয়া লোকের সংখ্যাও খুব কম নয়। কিংবা যারা মাঠে আসতে পারেনি, ঘরে বসে কাজ ফেলেও অনেকে টিভির সামনে বসে গেছে এবার ফাইনালের ‘গেরো’ কাটতে দেখার আশায়। সেটি না কেটে যা হলো, তাতে মাঠের মধ্যেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগও তৈরি হলো। বাংলাদেশ জিতলে নিশ্চয়ই ক্রিকেটের আসন্ন ‘দরপত্র’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার ফুরসত মিলত না। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে আগে সেটিও তো ঘটে গেল!

মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার রাতে ক্রিকেটাররাও কম হতাশ নন। সেই হতাশার কথা শোনা গেল অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠেও, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ তাদের কাজ রেখে খেলা দেখেছে। অনেকে টিকিটের জন্য আহত হয়েছে। এটা আমাদের জায়গা থেকে হতাশাজনক। আমাদের খুব খারাপ লাগছে। ’ আজ সকালেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার আগে এমন মন খারাপ অনুভূতিই সঙ্গী হচ্ছে তাঁদের। এমন হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় মাশরাফির মুখে কিছু রান কম হওয়ার আক্ষেপের কথাই শোনা গেল শুধু, ‘উইকেট ব্যাটিং সহায়কই ছিল। আমি বলব এটি ১৩৫-১৪০ রানের উইকেট ছিল। আমরা ২০ রান কম করে ফেলেছি। ’

১২০ রানের পুঁজি নিয়েও তবু কিছু করা সম্ভব ছিল বলে মনে হয়েছিল তাঁর। সম্ভব ছিল যদি শুরুতেই ভারতের কিছু উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া যেত, ‘উইকেট নিতে পারলে আমরা যে রান করেছি, তা নিয়েও লড়াই করা যেত। কিন্তু আমরা উইকেট নিতে পারিনি। ওদের হাতে অনেক উইকেট ছিল। একেই আমরা ২০ রান কম করেছি, তার ওপর শুরুতে আরো এক-দুটো উইকেট তুলে নিতে না পারার কারণেই হতাশ হতে হলো আমাদের। ’ যদিও সেই হতাশা যথাসম্ভব দ্রুত ভুলেও যেতে হবে বাংলাদেশ শিবিরকে। কারণ দুই দিন পরই যে ভারতের ধর্মশালায় গিয়ে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি অভিযানে নেমে পড়তে হবে।

ফাইনালে হারলেও অধিনায়ক বরং এই টুর্নামেন্টকে অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎসই ধরছেন, ‘আমি বলব আমাদের অনুপ্রাণিত হওয়ার অনেক কিছুই আছে। কারণ কেউ তো টুর্নামেন্টের শুরুতে আশা করেনি যে আমরা ফাইনালে খেলব। আর আমরা ফাইনালে হেরেছিও এক নম্বর দলের কাছে। টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় আমরা যে এ পর্যন্ত এসেছি, সেটিও তো অনেক। ’ অনেক দূর এসেও ২০ রানের আফসোস নিয়েই শেষ করতে হলো মাশরাফিদের। তাই সম্ভাব্য উৎসবের রাত হয়ে গেল কেবলই সুনসান নীরবতার রাতও!


মন্তব্য