kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাল টিকিটেরও বাণিজ্য!

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জাল টিকিটেরও বাণিজ্য!

সোনার হরিণ হয়ে ওঠা এশিয়া কাপের ফাইনালের টিকিট নিয়ে হাপিত্যেশ, হাহাকার, এসবের খবর পুরনো। বাংলাদেশে ক্রিকেট উন্মাদনা যে পর্যায়ে, তাতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা না বাড়ালে ও টিকিট বিক্রির ব্যবস্থায় পরিবর্তন না এলে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে নিয়মিতই এই দৃশ্য চোখে পড়বে।

তবে এবারের এশিয়া কাপের ফাইনালকে ঘিরে কালোবাজারে টিকিটের দাম ছুঁয়েছে নতুন উচ্চতা। দেড়শ টাকার গ্যালারি টিকিট বিকিয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকাতেও। ক্রিকেটভক্ত যারা, তাদের অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে পুলিশের লাঠির আঘাত ও কাঁদানে গ্যাসের

ঝাঁজ সহ্য করেও টিকিট পাননি। তবে ভিআইপিরা পেয়েছেন অনায়াসেই। যদিও তাদের চাহিদা অনুযায়ী টিকিট সরবরাহ করতে হলে মিরপুর স্টেডিয়ামকে রাতারাতি ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে বদলে ফেলতে হতো। সেটা সম্ভব নয় বলেই চড়চড়িয়ে উঠেছে টিকিটের দাম! আর সেই সুযোগেই হয়েছে জাল টিকিটের বাণিজ্য। হয়েছে টিকিট নিয়ে প্রতারণাও। দেখতে অবিকল আসল টিকিটের মতোই। টিকিটের গায়ে লেখা বাংলাদেশ-ভারত, কোথাও ফাইনাল ম্যাচ কথাটি লেখা নেই। বাকি সব কিছুই আসল টিকিটের মতো। তবে যখনই ট্রান্সটেল গেটে টিকিটের বারকোড অংশটি লেজারের নিচে ধরতেই গোমড় ফাঁস হয়ে যায়, সবুজের বদলে জ্বলে ওঠে লাল আলো। এমনই জাল টিকিট নিয়ে কাল মাঠে খেলা দেখতে এসে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতে ধরা পড়েছেন অনেকেই। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের টিকিট নিয়েই জালিয়াতি হয়েছে বেশি। জাল টিকেটধারীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হবে, স্টেডিয়ামের বাইরে মাইকে এমন ঘোষণাই বেজেছে অবিরত। তবে অনেক ক্ষেত্রেই জাল টিকিট ছিঁড়ে ফেলে ক্রেতাকে মাঠে ঢুকতে না দেওয়াটাই সাব্যস্ত করেছেন গেটে উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা, কারণ অনেক ক্রেতাই না বুঝে শিকার হয়েছেন প্রতারণার।

টিকিটের এই উত্তুঙ্গ চাহিদার ফাঁকতালে অনেকেই এভাবে জাল টিকিট বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। টিকিটের জন্য টাকা আগাম বিকাশ করে পাঠিয়ে পরে বিক্রেতার ফোন বন্ধ পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফাইনালকে ঘিরে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে এভাবেই ফায়দা তুলেছে একশ্রেণির প্রতারকচক্র।


মন্তব্য