ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ-333070 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ আজ

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভায় স্বাধীনতাসংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে পরাধীনতার শিকলে বন্দি বাঙালি জাতি যখন স্বাধীনতার জন্য অধীর অপেক্ষায়, তখন “গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি;/ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।” এমন কাব্যিক ভাষায়ই সেদিন স্বাধীনতাসংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধু আরো বলেছিলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব—ইনশাাল্লাহ!’ দেশের জনগণকে স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রস্তুতির নির্দেশনা দিয়ে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে...প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।’

বঙ্গবন্ধুর সেই ডাকে জেগে উঠেছিল মুক্তিপাগল জনতা। পেয়েছিল স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। মুক্তিকামী বাঙালি নিয়েছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ স্বাধীনতার ইতিহাসে মহামূল্য এক অধ্যায়। ৭ মার্চও তেমনি বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। একাত্তরের এই দিনে স্বাধীনতার মহানায়ক রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ১৯ মিনিটের ভাষণে সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন। আগুন জ্বালিয়েছিলেন কোটি প্রাণে।

অল্প সময়ের ওই ভাষণেই বঙ্গবন্ধু তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক বিষয়ে আলোকপাত করেন, জাতিকে প্রয়োজনীয় দিকনিদের্শনা দেন। তাঁর ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, জনগণের ওপর গুলি চালানো বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ভাষণের দিনটিতে রাজধানীজুড়ে মানুষের ঢল নেমেছিল। মুক্তিকামী জনতার সেই স্রোতের গন্তব্য হয়ে উঠেছিল রেসকোর্স ময়দান। সেদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরো তাতিয়ে দিয়েছিল। তারা স্বাধীনতার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এবং ২৬ মার্চ প্রতিরোধ লড়াইয়ে নামে। এরপর ৯ মাসের বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র লড়াই, ৩০ লাখ শহীদের আত্মাহুতির বিনিময়ে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে জাতি। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের গৌরবযাত্রা শুরু হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আজ বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে পত্রপত্রিকা।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি : দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দিনভর নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ক্ষমতাসীন দলের কর্মসূচির মধ্যে আছে ভোর সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন ও বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন; সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকেল ৩টায় জনসভা, যাতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্তব্য