kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুলিশের গাফিলতি ছিল এসআই বরখাস্ত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পুলিশের গাফিলতি ছিল এসআই বরখাস্ত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে চার শিশুকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি পেয়েছে এ বাহিনীরই গঠন করা তদন্ত কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বাহুবল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিটি।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এ কমিটি গতকাল রবিবার পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্রের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর দুপুর ২টার দিকে এসআই জিয়াউদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে তিনি বাহুবল মডেল থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তসহ তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান জেলার পুলিশ সুপার জয়দেব।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিল করার বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্তে চার শিশু নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসআই জিয়া ও থানার ওসির (তদন্ত) গাফিলতি পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন দাখিল করার সময় তদন্ত কমিটির প্রধানসহ তিন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই সদস্য হলেন হবিগঞ্জ ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় ও হবিগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক কাজী কামাল উদ্দিন।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাতো ভাই আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাঈল হোসেনের (১০) মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করা হয় গ্রামের একটি ছড়া থেকে। তারা গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল।

নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতেই মনিরের বাবা আবদাল মিয়া বাহুবল থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ সেটা গ্রহণ করেনি; বরং শিশুদের অভিভাবককে কবিরাজের কাছে যেতে বলা হয়।

শিশুদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ নিয়ে শিশুদের পরিবারের সদস্যরা থানায় যাওয়ার পর দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহমান ‘লেখার লোক নেই’ জানিয়ে পরের দিন আসতে বলেন। পরের দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বরত কর্মকর্তা একটি সাধারণ ডায়েরি নেন। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি থানার ওসি মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চার শিশুর বাড়ি যায় তদন্ত করতে। শিশুদের খোঁজ না পাওয়ায় ১৬ ফেব্রুয়ারি অপহরণ মামলা গ্রহণ করা হয়। তবে সেখানে কাউকে আসামি করা হয়নি। শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজনদের নাম জানানো হয়েছিল। পুলিশ বলেছিল, এখন কাউকে ধরা যাবে না। ধরলে শিশুদের জীবিত উদ্ধার করা যাবে না। শিশুদের পরিবার অভিযোগ করে বলেছিল, পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হয়তো শিশুগুলোকে বাঁচানো যেত।  

শিশুদের পরিবারের এ অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।

মামলার বাদী আবদাল মিয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং এসআই জিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করার খবর পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ যদি প্রথম থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করত, তাহলে হয়তো চার শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দুই পঞ্চায়েতের মধ্যে বিরোধের জের ধরে এই চার শিশুকে হত্যা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী ও গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে। ইতিমধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন আবদুল আলী বাগালসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আবদুল আলীর দুই ছেলে, ভাতিজা ও এক সহযোগী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া যে অটোরিকশায় করে শিশুদের অপহরণ করা হয়েছে সেটার চালক বাচ্চু মিয়া র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন উস্তার মিয়া ও বাবুল মিয়া নামের আরো দুজনকে ধরতে অভিযান চলছে।

এদিকে গতকাল দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হবিগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোক্তাদির আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হত্যা মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তবে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল আলী বাগাল, তাঁর ছেলে জুয়েল ও রুবেল, একই গ্রামের শাহেদ, সালেহ আহমেদ ছায়েদ, আরজু ও বশির নামে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


মন্তব্য