ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই-332719 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


ড. আতিউর বললেন

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই ব্যাংক ঋণ পায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই ব্যাংক ঋণ পায় না

ফাইল ফটো

পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপের বরাত দিয়ে গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই ব্যাংক ঋণ পায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে দেখা গেছে যে গত এক দশকে আমাদের অর্থনৈতিক ইউনিট দ্বিগুণ হয়েছে। এসব ইউনিটের ৮০ শতাংশই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। এসব উদ্যোক্তার বেশির ভাগই ব্যাংক ঋণ পায়নি।

‘ডেভেলপমেন্ট অব মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এমএসএমইএস) ইন বাংলাদেশ : শেয়ারিং এশিয়ান এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড  এমএসএমইএস ব্যাংকিং ফেয়ার’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার দুই  দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হয় সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি তেজগাঁওয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে।

যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিরডাপ ও ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গর্ভনর বলেন, এ উদ্যাক্তারা নিজের জমানো অর্থ ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করেছে। আর্থিক খাতের দায়িত্ব এসব উদ্যোগকে ঋণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা করে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সহযোগিতা করা। এ ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের আরো বেশি করে সহযোগিতা করার ওপর জোর দেন তিনি।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের বড়ই সৌভাগ্য রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, কৃষি, শিল্প ও রপ্তানিতে সর্বত্র নারীর দৃপ্ত পদচারণ দেখতে পাচ্ছি। তাই নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ব্যাংক খাত থেকেই সহযোগিতা দিচ্ছি। কারণ পৃথিবীর সেই সব দেশের উন্নয়ন টেকসই হয়েছে, যেখানে নারীর ক্ষমতায়ন ঘটেছে। আমাদের জনসংখ্যার বড় অংশই উদ্যমী ও তরুণ। এদের প্রয়োজন উদ্যোক্তা হতে পারার সুযোগ পাওয়া। তাই কৃষি, এমএসএমইএস, নারী উদ্যোগ, সবুজ ও নানা মাত্রিক অর্থায়নে ব্যাংক খাত সুযোগ করে দিয়েছে।

গর্ভনর বলেন, ‘এসব সুযোগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। রপ্তানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদার নয়া ইঞ্জিন যুক্ত হওয়ার ফলে আমাদের অর্থনীতি বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সুষম, ভারসাম্য, টেকসই ও প্রাণোদীপ্ত। এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে আমাদের খুদে উদ্যোক্তাদের।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, সিরডাপের মহাপরিচালক ড. সিসেপ ইফেন্ডি, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) কনসালট্যান্ট সুকোমল সিংহ চৌধুরী প্রমুখ।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ছাড়াও ব্যাংক ও উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মন্তব্য