সন্তান খুনের অভিযোগ গ্রেপ্তার আরো-332694 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


সন্তান খুনের অভিযোগ গ্রেপ্তার আরো দুই মা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সন্তান খুনের অভিযোগ গ্রেপ্তার আরো দুই মা

কিশোরগঞ্জে দেড় বছরের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে আটক মা সালমা খাতুন

ঢাকায় দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক মাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। এরই মাঝে গতকাল শনিবার কিশোরগঞ্জে দা দিয়ে কুপিয়ে দেড় বছরের ছেলেকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সালমা খাতুন নামের এক মাকে। মৌলভীবাজারে বিষপান করিয়ে ছয় বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন পারভীন বেগম (২৫) নামের আরেক মা। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন। রংপুরে এক কুমারী মা সদ্যোজাত ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতার সূত্রে ঘটছে এ ধরনের ঘটনা। বেশির ভাগ ঘটনাতেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে মা সন্তান হত্যার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দেড় বছর বয়সী ছেলে মাহাথিরকে হত্যার অভিযোগে মা সালমা খাতুনকে (৩৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের প্যারাভাঙ্গা গ্রামের। গতকাল দুপুরে নানার বাড়িতে খুনের শিকার হয়েছে মাহাথির।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, পারাভাঙ্গা গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে সালমার বিয়ে হয়েছে ১৭ বছর আগে। স্বামী আবুল কালাম কৃষিকাজ  করেন। বাড়ি করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নে। এ দম্পতির তিন মেয়ে সুরাইয়া, কলি ও তাইয়েবা। বড়টির বয়স ১৫ বছর, ছোটটির চার বছর। সব শেষে দেড় বছর আগে জন্ম নিয়েছে মাহাথির। প্রতিটি শিশু জন্মের পর পরই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন সালমা। কিছুদিন চিকিৎসার পর স্বাভাবিক আচরণ করতেন। এক মাস আগে হত্যার উদ্দেশ্যে সালমা ছেলেকে পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি মাত্রারিক্ত অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকলে অভিভাবকরা তাঁকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। শুরু হয়েছিল চিকিৎসা। এরই মাঝে গতকাল সকালে ছেলে হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে নানার বাড়ির বসতঘরে খেলা করছিল ছোট্ট শিশু মাহাথির। মা সালমা ঘুম থেকে উঠেই একটি দা নিয়ে শিশুটিকে জবাই করেন। রক্তাক্ত দা নিয়ে বাইরে বের হতেই স্বজনরা তাঁকে আটক করে।

গতকাল পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় সালমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইজ মাতার মইদ্যে কী অইছে কইতাম ফরি না, বাচ্চারে মইরালছি। জামাই খালি বাফের বাড়িতে ফালাইয়া থয়। বইনেরা খালি সারা দিন বহে। এনো কেরে খাই থাহি। কাম তো কইরাইলছি, অহন তো আমার ফুতেরে আর ফাইতাম না।’

মারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি মর্মান্তিক। খবর জেনে ঘটনাস্থলে গিয়ে সালমাকে আটকের ব্যবস্থা করি। পুত্রহত্যার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে, সে নির্বিকার ছিল।’

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোর্শেদ জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সালমা তাঁর শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ওদিকে মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, মেয়েকে নিয়ে একসঙ্গে বিষ খেয়ে মৃত্যুর চেষ্টা করেছিলেন পারভীন বেগম। সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মৃত্যু হয় ছয় বছরের মেয়ে সাদিয়ার। সেখানেই পুলিশ প্রহরায় মা পারভীন বেগমের চিকিৎসা চলছে। মেয়ে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে গতকাল মামলা করেছেন স্বামী জাকির হোসেন। ঘটনাটি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল গ্রামের।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্বামী জাকির হোসেন দীর্ঘদিন কাতারে অবস্থান শেষে দেড় মাস আগে বাড়ি আসেন। দাম্পত্য কলহ না থাকলেও পারভীনের কিছু অনুযোগ ছিল স্বামীর কাছে। বৃহস্পতিবার রাতে জাকির গ্রামের একটি দোকানে বসে ক্রিকেট খেলা দেখার সময় খবর পান একমাত্র সন্তান সাদিয়া বমি করছে। বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে দ্রুত ছোটেন সিলেটে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে পারভীনও বমি করতে থাকলে জাকিরের সন্দেহ হয়। স্ত্রী ও মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তিনি। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে চিকিৎসকরা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ঘটনাটি কেন ঘটেছে।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুর রহমান সিদ্দিকী জানান, পুলিশি পাহারায় পারভীনের চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হয়ে উঠলে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে রংপুর অফিস জানিয়েছে, সদ্য প্রসব হওয়া ছেলেকে হাসপাতালের বাথরুমে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে এক কুমারী মা। বিষয়টি জানাজানি হতেই ওই মা পালিয়েছে হাসপাতাল থেকে। গতকাল দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুমারী মায়ের প্রসব বেদনা উঠলে গতকাল সকালে স্বজনরা তাকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাৎক্ষণিক বেডের ব্যবস্থা না হওয়ায় অবস্থান নেয় ওয়ার্ডের মেঝেতে। গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখার আগেই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রসব বেদনা তীব্র রূপ নেয়। এ সময় দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত মহিলাদের টয়লেটে ঢুকে সে দরজা বন্ধ করে দেয়। টয়লেট থেকে শিশুর কান্না শুনে হাসপাতালের স্টাফরা এগিয়ে যান। দরজা না খোলা হলে পরে তা ভেঙে উদ্ধার করা হয় মা ও ছেলেকে। আটকের পর সে স্বীকার করে, নবজাতককে টয়লেটে ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে সে। না পেরে শ্বাসরোধ করার সময় অন্যরা পৌঁছে যায়। নবজাতককে দ্রুত অক্সিজেন সাপোর্ট চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সরা। এ অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় ওই মা।

চিকিৎসক রাজিয়া বেগম জানান, শিশুটির  মাথায় ও চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে অক্সিজেন দেওয়ার পর এখন সুস্থ আছে। উদ্ধারকারী আয়া জাহানারা বেগম তার দেখাশোনা করছেন।

মন্তব্য