kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এরা হবেন জনপ্রতিনিধি!

জলদস্যু সম্রাট, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত,খুনের আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাধারীরাও ভোটে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এরা হবেন জনপ্রতিনিধি!

সকেট কামাল ও সকেট জামাল দুই ভাই। দুজনই ‘জলদস্যু সম্রাট’ নামে খ্যাত।

দুজনের বিরুদ্ধেই রয়েছে গাদা গাদা মামলা। এই দুই ভাই পাশাপাশি দুটি ইউনিয়ন থেকে এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন।

মনির হোসেন মোল্লা ও আলকাস মোল্লা দুই ভাই। দুজনই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এই দুই ভাইও দুটি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ভয়ংকর আসামি হওয়ার কারণে দুজনই নাম পাল্টে অন্য নামে ভোটে দাঁড়িয়েছেন।

আবার একটি ইউনিয়নে সাত প্রার্থীর মধ্যে তিনজন ডাবল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আর দুজন দ্রুত বিচার আইনের মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাধারী আসামি।

এমনই সব ভয়ংকর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খুঁজে পেয়েছেন আমাদের প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এঁদের কেউ আওয়ামী লীগের, কেউ বিএনপির, কেউ জাতীয় পার্টির প্রার্থী। আবার এসব দলের বিদ্রোহী অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধেও রয়েছে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা।

ভোলায় জলদস্যু দুই ভাই প্রার্থী : জলদস্যু সম্রাটখ্যাত কামাল হোসেন ওরফে সকেট কামাল ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুল কবির জানান, সকেট কামাল শুধু এই থানাতেই অন্তত সাতটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। কয়েকটি মামলায় আবার নিম্ন আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তবে একটি মামলা পেন্ডিং ছিল। ওই মামলায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিন পান। জানা যায়, সকেট কামালের বিরুদ্ধে প্রায় ২২টি মামলা রয়েছে।

তবে সকেট কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে বিরোধের কারণে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তিনি আমার বিরুদ্ধে প্রায় ১৮টি মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। ’

জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে জলদস্যুতার মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি জামাল হোসেন ওরফে সকেট জামাল প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বিএনপিদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি সকেট কামালের ভাই। দৌলতখান থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান, সকেট জামালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা ও আদালতে অনেক মামলা রয়েছে।

ঝালকাঠিতে মাদক মামলা মাথায় নিয়ে ভোটে : মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার পরও এনামুল হক শাহীন পেয়েছেন নলছিটি উপজেলার মগড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। শাহীন এলাকায় ফেনসিডিলের ব্যবসা করতেন বলে স্থানীয়রা জানায়। ২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর নলছিটির বড়প্রেমহার গ্রামীণফোনের টাওয়ার-সংলগ্ন ঝালকাঠি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে দুই হাজার দুই বোতল ফেনসিডিলসহ শাহীন ও চালক মাসুম বিল্লাহকে আটক করে র‌্যাব। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। কিছুদিন জেলহাজতে থেকে জামিনে মুক্তি পান শাহীন। ২০১২ সালের ২৭ মে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। ঝালকাঠির জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পুলিশের সঙ্গে সখ্য থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কাগজ উধাও হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ মগড় গ্রামের বাসিন্দাদের। আর নলছিটি থানা পুলিশ বলছে, তাদের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কোনো কাগজ নেই।

এদিকে কাঁঠালিয়ার আওড়াবুনিয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলাম তালুকদারের নামে রয়েছে একই ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ সিকদার হত্যা মামলা। হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে নলছিটির দপদপিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের নামে। এ ছাড়া কাঁঠালিয়ার চেঁচরিরামপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী হায়দার মিয়া, সদর ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী নাসির উদ্দিন মুন্সি,

স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান, রাজাপুরের সুক্তাগড় ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, সাতুরিয়া ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হেমায়েত হোসেন নূরু, ঝালকাঠি সদরের গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লিটন, নলছিটির মগড় ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী কাজী আমিনুল ইসলাম ও সুবিদপুর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম শাহীনের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা।

ঝালকাঠি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহানুর খান বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, এ ধরনের কোনো তথ্য কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাইনি। কেউ যদি তথ্য গোপন করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’

যাবজ্জীবন, ডবল যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরাও প্রার্থী : বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনির হোসেন মোল্লা। তাঁর ছোট ভাই আলকাস মোল্লা ওই উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। এই দুই ভাই একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কিন্তু মনোনয়নপত্রে মনির হোসেন মোল্লা ব্যবহার করেছেন এস এম ফয়সল আহমেদ এবং আলকাস মোল্লা ব্যবহার করেছেন এনামুল হক নাম। তাঁরা জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ভাতিজা বলে জানা গেছে।

বাউফলের বগা ইউনিয়নে তিন প্রার্থী ডাবল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এ ছাড়া দুজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।   উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব হাওলাদার ২০০১ সালে জোড়া খুনের ঘটনায় ডাবল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাঁর ছেলে মাহামুদ হাসান এবং আওয়ামী লীগকর্মী আব্দুল হক সিকদারও ওই মামলায় সমপরিমাণ সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাঁরা সবাই এ ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী। এ ছাড়া হাসানের নামে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। মোতালেবের আরেক ছেলে হাসিবুর রহমান হাসিব আবার হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত জানুয়ারি মাসে হাসিব ও হাসানের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই তাঁরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আরেক প্রার্থী এস এম ইউসুফ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

একই উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী তসলিম তালুকদারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুটি মামলা চলমান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী লাভলু হওলাদারের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। দশমিনায় বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া তিনি দশমিনা আদালতে আগুন দিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোট বাইশদিয়া ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিখন তালুকদারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে।

বরিশালের ৯ প্রার্থী আসামি : বানারীপাড়ার চাখার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মজিবুল হক টুকু ও সলিয়াবাকপুরের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মিন্টু জাসদ নেতা হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার আসামি। থানা পুলিশ মামলার তদন্ত শেষে মিন্টু ও টুকুকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিচারিক আদালতে মামলাটির কার্যক্রম চলছে।

জানতে চাইলে মিন্টু বলেন, ‘হুমায়ুন হত্যা ঘটনা ঘটেছে চাখার বাসস্ট্যান্ডে। ওই সময় আমি ছিলাম থানার ওসির রুমে। কবির হত্যার খবরও আমি তৎকালীন ওসির কাছ থেকেই শুনেছিলাম। তার পরও রাজনৈতিকভাবে আমাকে সমাজে হেয় ও হয়রানি করার জন্য মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া তৎকালীন এমপির সঙ্গে আমাদের বিরোধ ছিল বলে পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তার করে চার্জশিটে আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করানো হয়েছে। ’

এ উপজেলার সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল জলিল ঘরামীর বিরুদ্ধে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট জালিয়াতির মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

উজিরপুর উপজেলার বড়াকোট ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মো. ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে পেট্রলবোমা মেরে গাড়িচালক হত্যার একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বাবুগঞ্জের মাধপাশা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী ওয়াহেদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে নাশকতা ও গাড়ি ভাঙচুরের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চাঁদপাশা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আলগমীর হোসেনের বিরুদ্ধে নাশকতার একটি মামলা রয়েছে। কেদারপুর ইউনিয়নের হেমায়েত উদ্দিন খান হিমুর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, নাশকতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া এই ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থী মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর শামসুল হক হত্যা মামলা এবং আরো ১৩টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মুলাদী সদর ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী কবির হোসেন একটি নাশকতার মামলায় জামিনে আছেন।

পিরোজপুরে ছয় প্রার্থীর নামে মামলা : সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হানিফ খানের বিরুদ্ধে রয়েছে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা।

নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম কাইয়ুমুজ্জামানের বিরুদ্ধে রয়েছে চেক জালিয়াতি মামলা ও মালিখালি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে রয়েছে ৯৮টি ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার একটি মামলা। জিয়ানগরের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মশিউর রহমান মঞ্জুর বিরুদ্ধে যুবলীগকর্মী স্বপন শীল হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হায়দার আলী ও সোহেল আকন সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

জাল ডলার ব্যবসায়ী, হত্যা মামলার আসামি, মাদকসেবীরাও ভোটে : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান সদস্য শাহনেওয়াজ ভূঁইয়া। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকসেবী হিসেবে তিনি ব্যাপক সমালোচিত। করগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেলায়েত হোসেন বাদল মাস্টার একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।  

একই ইউনিয়নে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে স্বীকৃত এক ডলার প্রতারককে। জাল ডলারের ব্যবসা করে ওই প্রতারক কোটিপতি বনে গেছেন।

শিক্ষক লাঞ্ছনা মামলার আসামিও প্রার্থী : ২০১৪ সালের ২২ জুন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলাতাপাড়ায় সংসদ নির্বাচনে ভূমিকার জের ধরে মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে দিগম্বর করা হয়। সারা দেশে এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ এ ঘটনায় ওই দিনই ডৌহাখলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা শহীদুলকে প্রধান আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই শহীদুলই এবার ডৌহাখলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এদিকে ভাংনামারী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ফজলে মাসুদের বিরুদ্ধে ২০০১ সালে দুর্নীতির অভিযোগ এনে এলাকায় বিশাল গণ-আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে চর এলাকা থেকে শত শত লোক ময়মনসিংহ শহরে এসে মিছিল সমাবেশ করেছিল।

ভূঞাপুরে অনেকেই আসামি : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল হোসেন চোকদারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অন্য বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জমি দখল মামলা ও আমিনুল ইসলাম আমিনের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। নিকরাইল ইউনিয়নে জামায়াতের শামীম আল মামুনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা ও গাড়ি পোড়ানো মামলা রয়েছে। ফলদা ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী সেলিমুজ্জামান সেলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ও গাবসারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দলের কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে উল্লেখ করার মতো অভিযোগ বা মামলা নেই। দলের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

[প্রতিবেদনটির জন্য তথ্য দিয়েছেন বরিশালের রফিকুল ইসলাম ও এস এম মঈনুল, পিরোজপুরের শিরিনা আফরোজ, ঝালকাঠির কে এম সবুজ, পটুয়াখালীর এমরান হাসান সোহেল, ভোলার শিমুল চৌধুরী, হাওরাঞ্চলের (কিশোরগঞ্জ) নাসরুল আনোয়ার, ময়মনসিংহের নিয়ামুল কবীর সজল ও টাঙ্গাইলের অরণ্য ইমতিয়াজ। ]


মন্তব্য