জোড়া খুন মামলার দুই আসামি নিহত-331972 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


নরসিংদীতে ‘বন্দুকযুদ্ধ’

জোড়া খুন মামলার দুই আসামি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জোড়া খুন মামলার দুই আসামি নিহত

নরসিংদীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে আরো একজন। গত বুধবার রাত ৩টায় শহরের ইউএমসি জুট মিলের পাশের বালুর মাঠে এই ঘটনা ঘটে। হতাহত ব্যক্তিরা বুধবার সন্ধ্যায় শহরের ভাগদীতে জোড়া খুন মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

নিহতরা হলো শহরের নাগরিয়াকান্দি এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৩) ও সাঈদ মোল্লার ছেলে রাকিব মোল্লা (২৫)। একই এলাকার হাসানের ছেলে হোসেন আলীকে (২৮) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে জোড়া খুনের ঘটনায় বুধবার রাতে নিহত ব্যবসায়ী খোকন খন্দকারের বড় ভাই সেলিম খন্দকার বাদী হয়ে নাগরিয়াকান্দি এলাকার সন্ত্রাসী ইসলামকে (২৪) প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরো চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলো একই এলাকার জহিরুল ওরফে জহির (২৫), জাহিদুল ইসলাম (২৩), রাকিব মোল্লা (২৫), চৌয়ালার জাহিদুল ওরফে জাইদুল (২৩), হোসেন আলী ওরফে হাসান (২৮), ফয়সাল (২৭), আলামিন মোল্লা (২৫), আলমগীর মোল্লা (৩৬), হানিফ (২৫), সালমান শাহ (২২), বিল্লাল ওরফে চোরা  বিল্লাল, সাটিরপাড়া বকুলতলার হেলাল ওরফে ডাকাত হেলাল (৩০), শালিধা এলাকার নাঈম (২৩) ও শাপলা চত্বরের রাজু (২৫)। মামলার এজাহারে বাদী দাবি করেছেন, নতুন বাড়ি করার সময় সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় শহরের ভাগদীতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ী খোকন খন্দকার ও তাঁর বন্ধু আরিফ খন্দকারকে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় রাতেই মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে শহরে বিশেষ অভিযান চালায়। শহরের নাগরিয়াকান্দি এলাকার ইউএমসি জুট মিলের পাশের বালুর মাঠে আট থেকে ১০ জন আসামি অবস্থান করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৩টায় পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে। ওই সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জোড়া খুন মামলার এজাহারনামীয় আসামি জহিরুল, রাকিব ও হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাকি দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাকিবের মৃত্যু হয়।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের হামলায় আমিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। নিহত ও আহতরা পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।’ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুর ১টায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহতদের মরদেহ ভাগদীর বাড়িতে পৌঁছে। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। আশপাশের শত শত লোক নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে তাঁদের বাড়িতে ভিড় জমায়।

নিহত ব্যবসায়ী খোকন খন্দকারের স্ত্রী ঝুনু বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আমার দেড় মাসের শিশু ইয়ামিনের জ্বর। দুপুরে ওনাকে (খোকন) ডাক্তারের কাছে কখন নিয়ে যাবে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সন্ধ্যায় যাবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর আগেই সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলল। আমার দুই ছেলে বাপ পাগল। বড় ছেলে আড়াই বছরের জিহাদ সারাক্ষণ বাবা কোথায় জানতে চায়। তার প্রশ্নের কোনো জবাব আমার কাছে নেই।’

নিহত আরিফ খন্দকারের বাবা আবদুল মতিন খন্দকার বলেন, গতকাল (বুধবার) বিকেলে তাঁর বড় ছেলে খায়রুল বাশার খন্দকার অস্ট্রেলিয়ায় যান। বড় ভাইকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আরিফ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল না, বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানোয় তাঁকে জীবন দিতে হলো।

মামলার বাদী নিহত ব্যবসায়ী খোকন খন্দকারের বড় ভাই সেলিম খন্দকার বলেন, ‘আমাদের একটাই চাওয়া, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার।’

মন্তব্য