এবার ভারতকে হারানোর ছক-331970 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


এবার ভারতকে হারানোর ছক

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এবার ভারতকে হারানোর ছক

শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পরপরই বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে বেজে গিয়েছিল পাকিস্তান ম্যাচের ঘণ্টা। ম্যাচটা জিততে পারলেই যে ফাইনাল নিশ্চিত। সেটি হয়ে যাওয়ার পর ফাইনালের ‘পাগলাঘণ্টি’ বাজাতে চাননি কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে, হাতে তিন-তিনটা দিন বাকি আছে যে! তাই কাল ছিল মাশরাফি বিন মর্তুজাদের অখণ্ড ছুটি। আজ জুমার নামাজের পর মাঠেই আবার জড়ো হবে পুরো দল।

ততক্ষণ অবশ্য বসে নেই দেশের আম ক্রিকেট অনুসারীরা। পাকিস্তানকে হারানোর পরই ফেসবুকে ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মচারীর পোস্ট—‘প্লিজ, কেউ টিকিট চাইবেন না। সব ফুরিয়ে গেছে!’ কারো পোস্ট— শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের পর এবার ভারতকে ‘ধরে দিবানে!’ আশ্চর্যের ব্যাপার, সাধারণের এ কল্পনাকে এখন আর বাড়াবাড়ি মনে করছে না বাংলাদেশ দলও! বাংলাদেশ এখনো পুরোদস্তুর টি-টোয়েন্টি দল হয়ে ওঠেনি বলা তামিম ইকবালের ঠোঁটের কোণেও সম্ভাবনার ঝিলিক, ‘ভারতের সঙ্গে খেলাটা বছর দুয়েক পরে হলে অন্যভাবে বলতাম। এখন সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। এটা বলছি আমাদের দলের মোমেন্টাম দেখে। ভারত খুবই শক্তিশালী দল। অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে আসা সহজ কথা নয়। তা ছাড়া এ টুর্নামেন্টেও দুর্দান্ত ফর্মে আছে। তবে আমরা যেভাবে এগিয়ে চলেছি, তাতে যেকোনো কিছু সম্ভব।’ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের মনে আশার উঁকিঝুঁকি আরো বেশি। প্রথম ম্যাচে ভারতকে ‘ধরে ফেলে’ও ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার দুঃখ এখনো তাঁর মনে, ‘ওই ম্যাচটা তো জিতেও যেতে পারতাম। ভারত ভালো খেলে, না স্বীকার করে উপায় নেই। তবে আমরা যদি মাঠে পরিকল্পনামতো খেলতে পারি, তাহলে জেতা অসম্ভব নয়।’

প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার সুবাদে ফাইনালের রণপরিকল্পনা করাতে কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। শিষ্যদের ছুটি দিয়ে সে পরিকল্পনা নিয়েই একবেলা গলফ খেলা ছাড়া বাকিটা সময় কাটিয়েছেন কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে। কোচের ভাবনার অনুমান করা কঠিন। তবে বাংলাদেশ দলের ইতিউতি ঘুরে ভারতকে ঘিরে নতুন কোনো ভাবনার খোঁজ মেলেনি। এই যেমন, এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের হোমওয়ার্কে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা। ফাইনালের আগেও যা নিশ্চিতভাবেই বহাল থাকছে। সেদিন আচমকা হিরো বনে যাওয়া হার্দিক পাণ্ডেকে ঘিরে নতুন প্ল্যান বলতে এক্সপ্রেস বোলারদের লেলিয়ে দেওয়া।

পুরনো আরেকটি চিন্তাও অব্যাহত আছে বাংলাদেশ দলে, তা যতই এশিয়া কাপে ভারতের বোলিং আক্রমণের পার্শ্বচরিত্র হয়ে উঠুন না কেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন! এ আসরে ভারতের বোলিং নেতৃত্বে দেখা যাচ্ছে পেসারদেরই। তাই খুব বেশি খাটাখাটনি না করলেও চলছে অশ্বিনকে। যদিও বাংলাদেশ দলের বিশ্বাস, ফাইনালের উইকেটে পেসারদের জন্য খুব বেশি সাহায্য থাকবে না। তার ওপর তামিম ফেরায় দুই বাঁহাতি ওপেনারকে দেখে অশ্বিনের অফস্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করতে পারেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তা ছাড়া অফস্পিনের বিপক্ষে নিজেদের সুপ্রাচীন দুর্বলতা একান্তে মেনেও নেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। অগত্যা ভারতীয় বোলিংকে ঘিরে বাংলাদেশের দলীয় পরিকল্পনার শীর্ষ নামটি রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

নিজেদের ছকেও বড় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই বাংলাদেশের। ফাইনালের মতো উচ্চগ্রামের ম্যাচে নতুন কাউকে খেলানোর ঝুঁকি বোধগম্য কারণেই নেবে না দল। তাই তিন পেসারেই ফাইনালের একাদশ সাজানোর সম্ভাবনা বেশি। পরিবর্তন যদি হয়ই, বড়জোর মোহাম্মদ মিথুনের জায়গা নিতে পারেন নুরুল হাসান।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের কথাই অবশ্য বলা হয়নি। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়ের কথা ভেবেই নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে ওঠার পর সে ভাবনাটা রূপ নিয়েছে আত্মবিশ্বাসে। হোক না, প্রকাশ্যে তা ফিফটি-ফিফটি!

মন্তব্য