kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এবার এটিএম বুথে সরাসরি লুট

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এবার এটিএম বুথে সরাসরি লুট

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপেজলায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে টাকা ভরার সময় এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার হরিণহাটি এলাকায় ব্যাংকটির ফাস্ট ট্র্যাক বুথে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় বুথের এক নিরাপত্তারক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। টাকা লুটের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কালিয়াকৈর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিরাপত্তা ও এটিএম ব্যবস্থাপনায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ‘মানিপ্ল্যান্ট’ প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানির কর্মকর্তা ও নিরাপত্তারক্ষীরা বুধবার গভীর রাতে ওই বুথে টাকা ভরতে এসেছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে টাকাভর্তি দুটি ট্রাংক লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। দুটি ট্রাংকে এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ছিল। মানিপ্ল্যান্টের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মিরপুরে।  

বুথে টাকা ভরতে আসা লোকজন ও বুথের নিরাপত্তারক্ষী মিলিয়ে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কালিয়াকৈর থানায় নিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে গতকাল ভোরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি পুকুর থেকে ট্রাংক দুটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে লুট হওয়া টাকার কোনো হদিস মেলেনি।  

মামলায় করা অভিযোগের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকার আশপাশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন এটিএম বুথে টাকা ভরতে বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মানিপ্ল্যান্টের প্রধান কার্যালয় থেকে নিজস্ব মাইক্রোবাসে করে রওনা দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির এটিএম বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা, সবুজ হোসেন, নিরাপত্তারক্ষী ইবারত ফকির, ওবায়দুল মোল্লা, জিয়াউর রহমান, শেখ খিলাফত হোসেন। তাঁদের গাড়িচালকের নাম শাজাহান। তাঁদের সঙ্গে ছিল পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ঢাকার আশপাশে পর্যায়ক্রমে তাঁরা প্রায় ১৬টি এটিএম বুথে টাকা ভরেন। সবশেষে রাত আড়াইটার দিকে কালিয়াকৈরের হরিণহাটি এলাকায় এপেক্স ফুটওয়্যার গেটসংলগ্ন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথে আসেন। এ সময় বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিনজন। তাঁরা হলেন এজাব উদ্দিন, পয়েম উদ্দিন ও লোকমান। তাঁদের উপস্থিতিতে মাইক্রোবাস থেকে টাকাভর্তি দুটি ট্রাংক নিয়ে মানিপ্ল্যান্টের লোকজন বুথের ভেতর ঢোকেন। ঠিক তখনই নীল রঙের পিকআপ ভ্যান সেখানে পৌঁছায়। ওই গাড়ি থেকে ১২-১৩ জন একসঙ্গে নেমে সোজা বুথে ঢুকে পড়ে। তারা রড, চাপাতি, দাসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের মারধর করে ট্রাংক দুটি নিয়ে দ্রুত চন্দ্রার দিকে চলে যায়।

মানিপ্ল্যান্টের নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘মাসের প্রথম দিকে এ অঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়। তাই বুথে বেশি করে টাকা ভরতে হয়। আমাদের লোকজনকে মারধর করে ট্রাংক নিয়ে যাওয়ার সময় দৃর্বুত্তরা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল। তাদের গায়ে কালো গেঞ্জি ও পরনে প্যান্ট ছিল। তাদের ধরতে আমরা চন্দ্রা পর্যন্ত যাই। কিন্তু তাদের কোনো হদিস মেলেনি। পরে ফিরে এসে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। ’

পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে নিরাপত্তারক্ষী শেখ খেলাফত হোসেনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টাকা লুটের অভিযোগে গতকাল বিকেলে মানিপ্ল্যান্টের কর্মকর্তা মাসুদ রানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ১২-১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

খবর পেয়ে বুধবার রাতেই ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে যান মানিপ্ল্যান্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ আফজালুর আবেদিন। গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকার আশপাশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে টাকা ভরা শেষে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে আমাদের লোকজন কালিয়াকৈরে এপেক্স ফুটওয়্যার কারখানাসংলগ্ন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্ট ট্র্যাক বুথে টাকা ভরতে আসে। এ সময় ডাকাতদল দুটি ট্রাংকসহ এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ’ 

জানতে চাইলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কালিয়াকৈরের সফিপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘মানিপ্ল্যান্ট আমাদের এটিএম বুথগুলোতে টাকা সরবরাহের কাজ করে। তবে বুধবারের ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। এ ব্যাপারে কথা বলবে আমাদের হেড অফিস। ’

গতকাল যোগাযোগ করা হলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ‘কালিয়াকৈরে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে মানিপ্ল্যান্ট আমাদের জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিতে বলা আছে, রাস্তা বা অন্য কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তার দায়-দায়িত্ব মানিপ্ল্যান্টের। মানিপ্ল্যান্টের লোকজনও তো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। কাজেই ব্যাংক এ ঘটনার দায় নেবে না। ’  

গতকাল দুপুরে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কালিয়াকৈর থানার ওসি আবদুল মোতালেব মিয়া বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মামলা হয়েছে, পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। মানিপ্ল্যান্ট ও বুথের নিরাপত্তাকর্মীসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।    

ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাঁশদী কড়ইতলা গ্রামে একটি পুকুরে ভাসমান অবস্থায় গতকাল দুটি খালি ট্রাংক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ট্রাংকে করেই কালিয়াকৈরের এটিএম বুথ থেকে টাকা লুট করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে। দুটি ট্রাংকই খোলা ছিল, তাতে কোনো টাকা ছিল না। ট্রাংকের ভেতর থেকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি এটিএম শপিং কার্ড পাওয়া গেছে।  

ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রিফাত খান রাজিব জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ট্রাংক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাংক দুটি শনাক্তের জন্য কালিয়াকৈর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য