kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খালুর সঙ্গে বিরোধ তাই খালাতো ভাইকে হত্যা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



খালুর সঙ্গে বিরোধ তাই খালাতো ভাইকে হত্যা

শাহীন

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেতজুরি গ্রামে শাহীন (৮) নামের এক শিশুকে হত্যা করেছে তারই খালাতো ভাই পাপ্পু মিয়া (১৭)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে একটি খাল থেকে শিশুটির ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শাহীন ওই গ্রামের সুলতান উদ্দিন মেমোরিয়াল একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাপ্পু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

পাপ্পু মিয়া পুলিশকে জানিয়েছে, ওয়ার্কশপে কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে তার খালুর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। আর এই কারণে প্রতিশোধ নিতে সে তার খালাতো ভাই শিশু শাহীনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,  গাজীপুরের শ্রীপুর বেতজুরি গ্রামে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বাস করেন এমদাদুল হক। তাঁর গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর নবাবগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ জয়দেবপুর গ্রামে। তিনি নতুনবাজার এলাকায় একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। তাঁর স্ত্রী শাহিদা আক্তারও একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান শিশু শাহীন স্থানীয় স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। দুই বছর আগে খালা-খালুর কাছে কাজের জন্য আসে পাপ্পু মিয়া। সেই থেকে তারা একসঙ্গে বাস করছিল। পাপ্পুর বাড়ি দিনাজপুর হাকিমপুরের চাঙ্গিরামপুর গ্রামে। খালু ইমদাদুল তাঁর ওয়ার্কশপে পাপ্পুকে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ১৫ দিন আগে ওয়ার্কশপে কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে খালুর সঙ্গে তার বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে গত বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে শিশু শাহীনকে স্থানীয় বেতজুরি খালের পাড়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে খালে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় পাপ্পু। এরপর ওই দিন সন্ধ্যায় মা শাহিদা আক্তার অফিস থেকে ফিরে দেখেন বাসায় শিশু শাহীন নেই। পরে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রতিবেশীরা জানায়, সন্ধ্যার দিকে পাপ্পুর সঙ্গে শাহীনকে ঘুরতে দেখেছে তারা। খবর পেয়ে গতকাল সকালে পাপ্পুকে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে সে।

পাপ্পু মিয়া পুলিশকে জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় চকোলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে শাহীনকে বাইরে নিয়ে যায় সে। বাইরে গিয়ে আগেই কিনে রাখা চকোলেট খেতে দেয় শাহীনকে। পরে শাহীনকে নিয়ে পাশের বেতজুরি খালের পাড়ে যায়। সেখানে আগেই সংগ্রহে রাখা মোটা লাঠি দিয়ে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শাহীন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ খালে ফেলে দেয় পাপ্পু।

পাপ্পু পুলিশকে আরো জানায়, ওয়ার্কশপের মালিকের কাছ থেকে দুই মাসের বকেয়া টাকা পেত সে। কিন্তু সেই টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন তার খালু এমদাদ। টাকা চাইলে তাকে চড়-থাপ্পড় ও অপমান করা হতো। তাই সে রাগ করে শাহীনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবা অবিরত আহাজারি করছেন। মা শাহিদা আক্তার বলছিলেন, ‘বোনের ছেলেকে নিজের ছেলে বলে সবাইকে বলতাম। কত আদর করতাম। সেই পাপ্পু একি করল। সন্তান হারানোর কষ্ট সহ্য করতে পারতেছি না। ’ বাবা এমদাদুল হক বলেন, ‘কয়েক মাস আগেই বুঝেছিলাম ছেলেটা বখে গেছে। শুনেছি গাঁজায় আসক্তও হয়ে পড়েছিল। আমার ওপর রাগ ছিল কি না, একবারও তাকে দেখে বুঝিনি। আমি তার ফাঁসি চাই। ’

বাবা এমদাদুল হক আরো বলেন, ‘এক বছর আগে থেকেই বখে যায় পাপ্পু। কাউকে কিছু না জানিয়ে পাপ্পু অন্য ওয়ার্কশপে কাজও নেয়। আমাদের সঙ্গে থাকলেও একপর্যায়ে সে পাশে একটি কক্ষ ভাড়া নেয়। ১৫ দিন আগে আগের ওয়ার্কশপের মালিকের কাছ থেকে বকেয়া টাকা তুলে দেওয়ার জন্য আমাকে জানায় পাপ্পু। এরপর সপ্তাহখানেক আগেও আমার বাসায় গিয়ে ফের পাপ্পু পাওনা দাবি করে। ওই সময় পাপ্পুর সঙ্গে আমার সামান্য ঝগড়া হয়েছিল। ’

শ্রীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, নিহত শিশু শাহীনের মরদেহ উদ্ধার করে গতকাল দুপুরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা এমদাদুল হক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।


মন্তব্য