kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উন্নয়ন আরো দ্রুত করতে পিপিপিতে জোর প্রধানমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



উন্নয়ন আরো দ্রুত করতে পিপিপিতে জোর প্রধানমন্ত্রীর

দেশে দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত উন্নতি করতে চাই।

এটা শুধু সরকারি বিনিয়োগে সম্ভব নয়। এ জন্য পিপিপি প্রয়োজন। পিপিপি বাস্তবায়নের কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। ’ এ প্রসঙ্গে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেন, সেখানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রথম বোর্ড অব গভর্নরসের সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, সভায় বিগত কয়েক বছরের পিপিপি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, পিপিপি পাইপলাইনে বিভিন্ন খাতের ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে সম্ভাব্য ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসবে। এ ছাড়া পিপিপি প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন, বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও সামগ্রিক বিনিয়োগের সম্ভাব্য পরিমাণ ও সময় সম্পর্কে সভাকে অবহিত করা হয়।

জানানো হয়, ছয়টি প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে। পিপিপি কারিগরি তহবিলের ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮টি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পগুলোতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে। এ ছাড়া বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১১টি প্রকল্পে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হতে পারে। সম্ভাব্য পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ১০টি প্রকল্প সমীক্ষার কাজ যাচাই পর্যায়ে রয়েছে।

প্রেসসচিব বলেন, সভায় সংশ্লিষ্ট আইন মোতাবেক বোর্ডের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পলিসি ইস্যু এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব প্রকল্প বাস্তবায়নের বাধা নিরসনের বিষয় তদারকি করবেন। পিপিপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে থাকবে বাস্তবায়ন কার্যক্রম। এ ছাড়া সভায় আনসলিসিটেড প্রস্তাবগুলো চিহ্নিত ও প্রক্রিয়াকরণে এক গাইড লাইন পেশ করা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, সংশ্লিষ্ট সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আন্তরাষ্ট্রীয় কমিশন জরুরি’ : এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার বিদায়ী রাষ্ট্রদূত অ্যালেকজান্ডার এ নিকোলায়েভ বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারকরণে ‘আন্তরাষ্ট্রীয় কমিশন’ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গতকাল সকালে তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

নিকোলায়েভ আরো বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের যেকোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সেই সফরের ফলে বাংলাদেশ-রাশিয়ার সম্পর্কের ভিত আরো মজবুত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিনকে দিন আরো এগিয়ে যাচ্ছে। ’

বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে রাশিয়ার ভূমিকা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সব সময়ই এই সম্পর্ককে মূল্য দেয়। ’


মন্তব্য