kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু

সিলেট অফিস   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু

গতকাল সিলেটে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) বলেছেন, ‘বিচারকরা রায় লিখুন। বিচার যেটা হবে তার রায় লেখা হোক এক মাস, দুই কিংবা তিন মাসের সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে।

অথচ কোনো কোনো বিচারক ছয়-সাত বছর হচ্ছে অবসরে গেছেন অথচ রায় লেখা পড়ে আছে। ’ এ বিষয়ে কথা বললে টক শোতে তাঁর বিরোধিতা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজের যাঁরা ভালো কথা বলেন বিভিন্ন টক শোতে আমার এই কথাগুলো তাঁদের কাছে অপলাপ হয়। তাঁরা উল্টো প্রধান বিচারপতিকে কিভাবে হেয় করা যায় সেটা চিন্তা করেন। ’

গতকাল বুধবার সিলেটে ডিজিটালাইজড উইটনেস ডিপজিশন সিস্টেমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। গতকাল দুপুরে সিলেটে আদালত চত্বরে বিভাগটির ২০ আদালতকে প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা), অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সিদ্দিকী। সিলেট থেকে যাত্রা শুরু হওয়া এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সারা দেশে চালু করা হবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের দেশে মিডিয়া যথেষ্ট স্বাধীনতা লাভ করেছে। আজ আমরা অনেক মিডিয়ায় বিভিন্ন কিছু দেখি। রাত হলেই টক শোতে আলোচনা হয়। প্রিন্ট মিডিয়ায় বিচার বিভাগ নিয়ে আলোচনা হয়। আমি  আজ সবাইকে বলতে চাই, আমাদের মিডিয়ায় কথা বলার স্বাধীনতা আমাদের আছে। স্বাধীনতা আছে কিন্তু আর্টিকেলের ৩৯এ আনলিমিটেড লিবার্টি দেয়নি। আমাদের দেশ বা বিভিন্ন দেশে বেশি স্বাধীনতা কিন্তু মঙ্গল নিয়ে আসে না। স্বাধীনতার একটা সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত। কতটা স্বাধীনতা থাকবে, এই স্বাধীনতার সঙ্গে কিন্তু আইনের একটা সংযোগ আছে। জাস্টিসের সম্পর্ক আছে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকে স্বাধীনতার কথা চিন্তা করি। কিন্তু স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে অন্যের স্বাধীনতায় আঘাত হচ্ছে, ক্ষয় হচ্ছে সমাজের, এটা আমরা ভুলে যাই। স্বাধীনতার সঙ্গে মরালিটির কথা না বললে চলবে না। স্বাধীনতা যাতে মাত্রা না ছাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখব। সাধারণ মানুষ যারা তাদের কথা আমরা চিন্তা করব। তাহলে এই লাখ লাখ মানুষ যারা বিচারের জন্য যায় তাদের উপকার হবে। ’

ডিজিটালাইজড উইটনেস ডিপজিশন সিস্টেমকে দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে দিতে ইউএনডিপির সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্র আমাদের যাত্রা শুরু করলাম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীতে এ বছরই এই কার্যক্রম শুরু করতে চাই। সে জন্য আপনাদের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন। ’

বিচার বিভাগের আধুনিকায়নে সবার সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, কেউ চাইলে মোবাইলে টিপ দিয়ে তার মামলা কোন বেঞ্চে কোন সময় কোন অবস্থায় আছে তা জানতে পারবেন। কিন্তু আইনজীবীদের বাধার কারণে তা এখনো পুরোপুরিভাবে চালু করা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘সব মানুষ যাতে বিচার পায় সেজন্য বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা দিয়েছি আমরা। তবে দেশের সামাজিক ব্যবস্থা এখনো উন্নত নয়, তাই সবাই বিচার পায় না। সবাই যাতে বিচার পায় সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। ’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আমরা মোটামুটিভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পেরেছি। ’ বিচার বিভাগে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় বিচারব্যবস্থা আরো আধুনিক হবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক এমপি, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের সহযোগিতায় ইউএনডিপির অর্থায়নে জুডিশিয়াল স্ট্রেনদেনিং প্রকল্পের আওতায় সিলেটের ৪০টি আদালতের মধ্যে ২০টি আদালতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলো। এসব আদালতে আর কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য বা জেরা হাতে লেখা হবে না। এখন থেকে বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষ, আসামি এবং বাদী-বিবাদীপক্ষের আইনজীবীদের সামনে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কম্পিউটার মনিটর থাকবে। আদালতের কম্পোজিটর সাক্ষীর সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই সব পক্ষ তাদের সামনে থাকা মনিটরে তা দেখতে পাবে। নির্ভুলভাবে জবানবন্দি লিপিবদ্ধ হচ্ছে কি না তাও তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এ ছাড়া সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে সঙ্গে সঙ্গেই আদালতের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত কপি সব পক্ষকে সরবরাহ করা হবে। শুধু তাই নয়, টাইপিংয়ের পাশাপাশি পুরো সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যেগুলো সিডি আকারে সংরক্ষণ করা হবে। বিদ্যুৎ সমস্যার কথা মাথায় রেখে আদালতগুলোতে এক ঘণ্টা ব্যাকআপ রাখার মতো যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয়েছে।


মন্তব্য