kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইউআইটিআরসিই উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রযুক্তিতেই দেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রযুক্তিতেই দেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতার মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত করা সহজ হবে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে।

নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে। বাংলাদেশ কোনোমতেই পিছিয়ে থাকতে পারে না। ’

গতকাল বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর তেজগাঁও কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১২৫ উপজেলায় ‘আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন (ইউআইটিআরসিই)’-এর উদ্বোধন করে এ কথা বলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ব্যুরো ও পরিসংখ্যানের (বেনবেইস) উদ্যোগে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করলে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করা, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা, আরো ব্যাপকভাবে নিরীক্ষা কার্যক্রম চালানো এবং উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করা—এই কাজগুলো খুব সহজ হয় শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন আমরা প্রথমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব ঘোষণা দেই, অনেকে এটা নিয়ে ঠাট্টা-তামাশাও করেছে। সে সময় নানা সমস্যা ছিল। বিদ্যুৎ, পানি, রাস্তা-ঘাট, অবকাঠামোর সমস্যা ছিল। কোথাও কেউ সমস্যায় পড়লে আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করতেন—এই তো ডিজিটাল হয়ে গেছে। কিন্তু আজকে প্রমাণ হয়েছে—বাংলাদেশ সত্যিই ডিজিটাল। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের শিক্ষা পদ্ধতি সম্পূর্ণ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হবে। এ জন্য ১২৫টি ইউআইটিআরসিইর আজ উদ্বোধন হলো, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ১৬০টি সেন্টার নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সমগ্র দেশের ৪৮৯টি উপজেলাতেই এই কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ’

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে ডিজিটাল ক্লাসরুম করে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ২৬ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের অন্তত একটি করে হলেও আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দেব। ’

প্রধানমন্ত্রী মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা যে যেই স্কুলে লেখাপড়া করেছেন সে স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনে একটি করে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দিয়ে হলেও সহযোগিতা করুন। আপনার স্কুলকে আপনিই দিন। যে স্কুলে লেখাপড়া করেছেন সেই স্কুলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে হলেও আপনাদের এগিয়ে আসা দরকার। ’

পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক শিক্ষককে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। শুধু শহর নয়, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে দেশের সব উপজেলায় আইসিটি রিসোর্স সেন্টার গড়ে তোলা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। সারা দেশে পাঁচ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ২০০ ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের আট হাজার পোস্ট অফিসকেও ডিজিটাল করার উদ্যোগ গ্রহণে মানুষের নানা সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন ১৬ কোটি মানুষ ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার করে, অনেকে দু-তিনটাও ব্যবহার করে। কল সেন্টারের মাধ্যমে মানুষ দুই শতাধিক সেবা ঘরে বসেই পাচ্ছে।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার ক্ষেত্রে নিজের ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে কৃতিত্ব দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সে-ই কিন্তু সব সময় পরামর্শ দিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে তার কাছ থেকেই আমরা পরামর্শ নিই। মা হয়েও আমি বলব, আমার কম্পিউটার শিক্ষা, আমি আমার ছেলের কাছ থেকে শিখেছি, এখনো শিখছি। এটাও ঠিক, শেখার কোনো শেষ নেই, সীমা নেই। এটা হলো বাস্তবতা। ’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন রিপাবলিক অব কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত অং সিউয়েন ডো। ইউআইটিআরসিইর প্রকল্প পরিচালক এবং ব্যানবেইসের পরিচালক ফসীউল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগমসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউআইটিআরসিইর উদ্বোধন শেষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, রাজশাহীর পবায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় করেন।


মন্তব্য