kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নরসিংদীতে দুই বন্ধুকে গুলি করে হত্যা

স্বজনদের দাবি, চাঁদা চেয়ে না পেয়েই খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নরসিংদীতে দুই বন্ধুকে গুলি করে হত্যা

কাঁদছেন নিহত খোকনের স্বজনরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদীতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এক ব্যবসায়ী ও তাঁর বন্ধুকে গুলি করে হত্যা করেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদী পৌর শহরের ভাগদী এলাকার ২ নম্বর সেতুসংলগ্ন বালুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

জোড়া খুনের পর শহরজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতদের স্বজনরা দাবি করেছে, চাঁদা চেয়ে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা এমন নৃশংসতা ঘটায়।

নিহতরা হলো ভাগদী এলাকার মোরশেদ খন্দকারের ছেলে রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী খোকন খন্দকার (৩২) ও মতিন খন্দকারের ছেলে আরিফ খন্দকার (৩০)।

নিহত খোকন খন্দকারের বড় ভাই সেলিম খন্দকার জানান, তাঁর নিকটাত্মীয় সদর উপজেলার আলোকবালী এলাকার প্রবাসী রফিক খন্দকার এক বছর আগে শহরের ভাগদী বালুর মাঠ এলাকায় জমি কেনেন। সম্প্রতি দেশে ফিরে তিনি সেখানে বাড়ি করার কাজ শুরু করলে চৌয়ালা এলাকার কয়েক সন্ত্রাসী চাঁদা দাবি করে। রফিক ঘটনাটি খোকনকে জানান। গতকাল সন্ধ্যায় চাঁদাবাজরা ঘটনাস্থলে গেলে রফিক খন্দকার ফোন করে খোকনের সহযোগিতা চান। ব্যবসায়ী খোকন তাঁর বন্ধু আরিফকে নিয়ে সেখানে গেলে তাঁদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কথাকাটাকাটি হয়। চাঁদাবাজরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দুই বন্ধুও সেখান থেকে বের হয়ে ২ নম্বর সেতুসংলগ্ন বালুর মাঠ পর্যন্ত গেলে সেখানে তাঁদের গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জেলা হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, নিহত খোকন খন্দকারের পেটের বাঁ পাশে এবং আরিফ খন্দকারের পিঠের ডান পাশে গুলি বিদ্ধ হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে রাতে জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে লাশের পাশে কাঁদছে স্বজনরা। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে যায় পরিবেশ। আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি এলাকার লোকজন নিহতদের লাশ দেখতে হাসপাতালে ছুটে আসে। খবর পেয়ে নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল হাসপাতালে গিয়ে নিহতের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন। ওই সময় স্বজনরা মেয়রের কাছে খুনিদের  দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানায়।

নিহত খোকন খন্দকারের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে ছোট ছেলের বয়স মাত্র এক বছর। স্বামী খুন হওয়ার পর থেকে থামছে না স্ত্রী ঝুনু বেগমের আহাজারি। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার শিশুসন্তানদের কী বলে বুঝ দেব? তারা বাবাকে খুঁজলে আমি কী বলব? এখন আমি তাদের নিয়ে কোথায় যাব? কেন তারা আমার স্বামীকে মেরে চারদিক অন্ধকার করে দিল। ’

নরসিংদী শহরে ডাকাতির সঙ্গে ঘটছে একের পর এক হত্যা। আইনশৃঙ্খলার এমন ভয়ানক অবনতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে শহরবাসী।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, নিহতদের স্বজনদের দাবি, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁরা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।


মন্তব্য