অর্ধশত ব্যবসায়ীর যোগসাজশ!-331145 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


এটিএম জালিয়াতি

অর্ধশত ব্যবসায়ীর যোগসাজশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অর্ধশত ব্যবসায়ীর যোগসাজশ!

জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা লোপাটের ঘটনায় দেশের প্রভাবশালী ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যবসায়ী জড়িত। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ব্যাংকের এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় বিদেশি নাগরিক শজেপ্যান মাজুরেক পিওতরসহ সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জালিয়াতচক্রের সদস্য পিওতর গত এক বছরে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ কাজে তাঁকে দেশি-বিদেশি শতাধিক জালিয়াত সহযোগিতা করেছে। এতে  ব্যাংকারদের পাশাপাশি দেশের ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যবসায়ী জড়িত। অসাধু ব্যবসায়ী, হোটেল ব্যবসায়ী, মানি চেঞ্জিং প্রতিষ্ঠান, ট্রাভেল এজেন্ট, আদম ব্যবসায়ীসহ ব্যাংক ও সংগীতাঙ্গনের লোকজন মিলিয়ে বড় একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। গ্রেপ্তার ছাড়াও  সিন্ডিকেটের বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত তিন-চারজন ব্যবসায়ীকে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদে সীমিত তথ্য দিয়েছেন, তবে পিওতরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মিলছে সব তথ্য। 

গোয়েন্দা সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধীচক্রের সদস্য ইউক্রেন বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক শজেপ্যান মাজুরেক পিওতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিদেশি চক্রের অনেক সদস্য ও পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এদের সবাইকেই পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে অহেতুক কাউকে হয়রানি, নাজেহাল বা গ্রেপ্তার করা হবে না বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

সাত দিন ধরে পিওতরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, তাঁর সঙ্গে বিদেশি বন্ধুদের পাশাপাশি অন্তত ৫১ সদস্যের সিন্ডিকেটসহ প্রভাবশালী শতাধিক ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল। জালিয়াতির টাকার কিছু অংশ তাদের পকেটেও গেছে। এক বছর ধরে তিনি বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সর্বশেষ এটিএম বুথ থেকে হাতিয়ে নেওয়া প্রায় ২২ লাখ টাকা নিজের কাছে ডলার করে রেখেছিলেন পিওতর। সেই ২৭ হাজার ডলার তাঁর কাছ থেকে ইউক্রেনের নাগরিক এন্ডারসন ওরফে এনডি ও বুলগেরিয়ার নাগরিক রোমিও নিয়ে নিয়েছে। এরা দুজনই পিওতরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও এটিএম, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির সহযোগী। এই চক্রে পিওতরের অন্যান্য বিদেশি বন্ধুদের মধ্যে পূর্ব ইউরোপের রুমানিয়া, বুলগেরিয়া এবং এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছে। এরা বাংলাদেশসহ ওই সব দেশেও জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত।

মন্তব্য