kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে মন্ত্রীর ক্ষমতা কমল

আরিফুর রহমান   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে মন্ত্রীর ক্ষমতা কমল

উন্নয়ন প্রকল্পের ‘পরিচালক’ পদটি আকর্ষণীয়, লাভজনকও বটে। মন্ত্রী-সচিবকে ভজিয়ে একবার পদটি ভাগিয়ে নিতে পারলে হাতের মুঠোয় বিশাল সাম্রাজ্য।

সার্বক্ষণিক গাড়ি পাওয়া যায়, বিদেশ ঘোরা যায়; ক্ষমতার চর্চাও বেশ করা যায়।

এসব কারণে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদে নিয়োগ পেতে কোমর বেঁধে তদবিরে নামেন সরকারি কর্মকর্তারা। মন্ত্রীর সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া থাকলে এ সুযোগ সচিবও কাজে লাগান। সুবিধা নেওয়ার জন্য তিনি অনুগত কর্মকর্তাকে পিডি নিয়োগের সুপারিশ করেন।

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে পিডি নিয়োগের রীতি অনুযায়ী সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এককভাবে পিডি নিয়োগ দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও বিভিন্ন প্রকল্পে পিডি নিয়োগ দিয়ে থাকে। কেবল আনুগত্যের জোরে অনেক অদক্ষ কর্মকর্তা পিডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এ কারণে অনেক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। ফলে এসবের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ, আর করের টাকার অপচয় হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের এ রীতিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন প্রকল্পে পিডি নিয়োগ দেওয়ার জন্য আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এর সভাপতি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রধান; পরিকল্পনা কমিশন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুবিভাগের একজন প্রতিনিধি।

গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। জারির দিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। এর ফলে পিডি নিয়োগে মন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমল; সচিবের নিয়ামক ভূমিকাও খর্বিত হলো।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনাসচিব তারিক উল ইসলাম বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পে সাধারণত দুইভাবে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ক্যাডার সার্ভিস থেকে পিডি নিয়োগ করে। কারিগরি ও অন্যান্য প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পিডি নিয়োগ দেন। ’ তিনি বলেন, যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পিডি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; জনপ্রশাসনের নিয়োগের ক্ষেত্রে নয়। ভবিষ্যতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হবে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, এখন থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে একজন পূর্ণকালীন পিডি নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনজন দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তার নাম কমিটিতে পাঠাতে হবে। কমিটি একজনকে চূড়ান্ত করবে।

পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, এখন থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, চাকরির বয়স, কেনাকাটার বিষয়ে প্রশিক্ষণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম-অভিজ্ঞতা প্রভৃতি খতিয়ে দেখা হবে। চাকরির মেয়াদ মাত্র ছয় মাস বাকি আছে এমন কর্মকর্তাকে পিডি নিয়োগ করা হবে না।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, একজন কর্মকর্তা একটি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে একজনকে সর্বোচ্চ দুই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। যেসব কর্মকর্তা দুইয়ের অধিক প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন, তাদের বাড়তি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। তবে অভিজ্ঞ ও দক্ষদের একাধিক দায়িত্বে বহাল রাখা যেতে পারে।

পরিপত্রে একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদনের পর পিডি নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে, আগে নয়। সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে অন্য মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের কর্মকর্তাকে নিয়োগ না দেওয়াই উচিত।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির জন্য পিডির অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতা অনেকাংশে দায়ী। মূলত প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতেই নতুন পরিপত্র জারি হয়েছে। তবে এটা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাঁদের। কারণ এর আগে পিডি পরিবর্তনে অনুমতি নিতে পরিকল্পনামন্ত্রীকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কমিটিকে না জানিয়েই ব্যবস্থা নিচ্ছে।


মন্তব্য