কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের-331142 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় এক দিন আগে নিখোঁজ তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মনোহরগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশের রাজের গড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রিয়াদ হোসেন (৯) উপজেলা সদরের দিশাবন্দ পশ্চিমপাড়া এলাকার হোটেল কর্মচারী খোকন মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় দিশাবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।

সম্প্রতি হবিগঞ্জের বাহুবলে একসঙ্গে তিন চাচাতো ভাইসহ চার শিশু হত্যা, কুমিল্লার সদর দক্ষিণে দুই শিশু হত্যা, লাকসামে এক শিশু হত্যাসহ আরো কয়েক জায়গায় শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ ও নিহত রিয়াদের পরিবার জানায়, সোমবার রাত থেকে রিয়াদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।  গতকাল সকাল ৭টার দিকে রাজের গড় এলাকায় পরিত্যক্ত একটি দোকানঘরের পাশে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেয় তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বস্তার ভেতর থেকে রিয়াদের লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

রিয়াদের বাবা খোকন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সোমবার রাত ১১টার দিকেও রিয়াদকে মনোহরগঞ্জ বাজারে ঘোরাফেরা করতে দেখেছি। আমি বাজার থেকে বাড়ি ফিরে দেখি সে ফেরেনি। এর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করি, কিন্তু কোথাও তাকে পাইনি। সকাল ৭টার দিকে লোকজনের কাছে খবর পেয়ে বাজারের পাশে গিয়ে দেখি আমার ছেলের বস্তাবন্দি লাশ।’

তিনি বলেন, ‘কে বা কারা, কী কারণে আমার ছেলেকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করেছে, তা আমি জানি না। তবে যারাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।’

মনোহরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাদেকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বলা যাবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। আশা করছি, শিগগিরই খুনিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’ 

খবর পেয়ে গতকাল সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘রিয়াদসহ সব শিশুর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে রিয়াদের লাশ পাওয়ার খবর বাড়িতে পৌঁছার পর থেকেই পরিবারে কান্নার রোল পড়ে যায়। তার মা নয়ন বেগমের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ছেলের শোকে বাবা খোকন মিয়াও অনেকটাই বাকরুদ্ধ। এলাকাবাসীর মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবাই রিয়াদের হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়েছে।

‘ডাব চুরি করতে গিয়ে নিহত হয় লাকসামের শিশু সোহাগ’ :  এদিকে কুমিল্লার লাকসামে রবিবার ডোবা থেকে যে শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেই শিশু মোহাম্মদ হোসেন সোহাগের (৮) মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ।

গতকাল পুলিশ সুপার শাহ মো. আবিদ হোসেন বলেছেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রমজান আলী রাজু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় লাকসামের চুনাতি এলাকার রাজু ও সোহাগ নারিকেলগাছ থেকে ডাব চুরির জন্য গাছে ওঠে। একপর্যায়ে সোহাগ গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যায়। তখন রাজু গাছ থেকে দেখে সোহাগ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। তখন সোহাগের পকেট থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে রাজু সোহাগের দেহ ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরো জানান, রাজুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজুর কর্মস্থল লাকসাম জংশন এলাকার শামীম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ থেকে সোহাগের ওই মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

মন্তব্য