বানিয়াচংয়ে শিশু হত্যায় যুবকের-331141 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


বানিয়াচংয়ে শিশু হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বানিয়াচংয়ে শিশু হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে একটি মোবাইল ফোন আত্মসাৎ করতে গিয়ে আট বছরের শিশুকে হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম আব্দুর রশিদ (৩০)। সে সাড়ে আট বছর আগে বানিয়াচং সদরের ত্রিকর মহল্লার বাহরাইনপ্রবাসী আব্দুল হামিদের একমাত্র ছেলে শিপনকে ডেকে নিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছিল।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাফরোজা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন। এ মামলার অন্য দুই আসামি সিরাজ মিয়া ও সালেহ আহমদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে সালেহ আহমদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার সূত্রে জানা যায়, বাহরাইনপ্রবাসী আব্দুল হামিদ ক্যামেরাযুক্ত একটি মোবাইল ফোন দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে। এই মোবাইল ফোনটি পেতে মরিয়ে হয়ে ওঠে একই মহল্লার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রশিদ। সে ২০০৭ সালের ৮ অক্টোবর সকাল ১১টায় ছবি তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশু মেহেদী হাসান শিপনকে তার মায়ের মোবাইল ফোনটিসহ ডেকে নেয়। এর পর থেকে শিপন নিখোঁজ ছিল। এর দুদিন পর পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে, মোবাইল ফোন আত্মসাতের জন্যই সে শিপনকে ডেকে নেয় এবং তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। পরে লাশটি স্থানীয় জঙ্গলের কাদামাটিতে পুঁতে রাখে। পরে পুলিশ শিপনের লাশ এবং আব্দুর রশিদের হেফাজতে থাকা শিপনের মায়ের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে। পরে আব্দুর রশিদ আদালতেও একই স্বীকারোক্তি দেয়। এ মামলায় ২০০৮ সালের ১৪ মার্চ পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে রায় হলো গতকাল।

রায়ে প্রতিক্রিয়া : গতকাল যখন মেহেদী হাসান শিপন হত্যার রায় হয়, তখন তার মা স্বপ্না বেগম গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিলেটের রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে সোমবার সেখানে তাঁর একটি অস্ত্রোপচার হয়। টেলিফোনে আসামির মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে তিনি আনন্দে কেঁদে ফেলেন। তবে অসুস্থ থাকায় কথা বলতে পারছিলেন না বলে তাঁর সঙ্গে থাকা স্বজনরা জানায়।

শিপনের গ্রামের বাড়িতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে, তার দাদি ময়না বিবি বলেন, শিপন ছিল তাঁর ছেলের একমাত্র ছেলেসন্তান এবং বংশের চেরাগ। একমাত্র নাতিকে হারিয়ে তাঁরা যে কষ্ট পেয়েছিলেন রায় শুনে তাঁরা আনন্দ প্রকাশ করেন। ফুফু নাছরিন বেগমও ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা  জানান, শিপনের বাহরাইনপ্রবাসী বাবা আব্দুল হামিদ রায় শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য