বিচার বিভাগ সরকারের অংশ নয়, রাষ্ট্রের-330698 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


ফখরুলকে সতর্ক করে প্রধান বিচারপতি

বিচার বিভাগ সরকারের অংশ নয়, রাষ্ট্রের অঙ্গ

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিচার বিভাগ সরকারের অংশ নয়, রাষ্ট্রের অঙ্গ

বিচার বিভাগ সরকারের অংশ নয়। রাজনীতিকরা বিচার বিভাগকে সরকারের অংশ বলে থাকেন, এটি ঠিক নয়। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের একটি অঙ্গ। দেশের সংবিধান মানলে বিচার বিভাগকে মানতে হবে। এ বিভাগের ওপর জনগণ আস্থা হারায় এমন কিছু করা উচিত হবে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন-সংক্রান্ত আবেদন ও বিচার  বিভাগ নিয়ে তাঁর মন্তব্যের ব্যাখ্যার বিষয়ে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগে শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা এসব কথা বলেন।

শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করেন এবং বিচার বিভাগ নিয়ে মন্তব্যের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগ সম্পর্কে আইনজীবীরা বলেন, সরকারের মন্ত্রীরাও বলেন, আপনারাও বলেন। এ রকম করলে বিচার বিভাগ যাবে কোথায়?

ভবিষ্যতে বিচার বিভাগ সম্পর্কে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে আপিল বিভাগ বলেন, বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয় এমন মন্তব্য করা থেকে রাজনীতিকদের বিরত থাকা উচিত।

এদিকে, আদালত মির্জা ফখরুলের জামিন-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করে তাঁর জামিনের মেয়াদ ১৫ দিন বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে তাঁকে নিম্ন আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

গতকাল মির্জা ফখরুলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সগীর হোসেন লিওন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সিলেটে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য প্রকাশের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর ব্যাখ্যা জানতে চান আপিল বিভাগ। আইনজীবীর মাধ্যমে ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি ব্যাখ্যা দেন, কিন্তু আদালত তা গ্রহণ করেননি। হলফনামা আকারে তাঁকে সরাসরি ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। সেদিনই তিনি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সামনে হাজির হয়ে ব্যাখ্যাযুক্ত হলফনামায় সই করেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে শুনানির পর ২৯ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়। গতকাল সকালে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন মির্জা ফখরুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

হলফনামায় বলা হয়, দুটি পত্রিকা (বাংলাদেশ প্রতিদিন ও আমাদের সময়) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য সঠিকভাবে প্রকাশ করেনি। পরে এ দুটি পত্রিকায় সংশোধনী ছাপা হয়।

শুনানি শেষে আদালত ব্যাখ্যার বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন। এরপর মির্জা ফখরুলের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আদালত এ আবেদনও নিষ্পত্তি করে দেন এবং তাঁর জামিনের মেয়াদ ১৫ দিন বাড়িয়ে দেন।

উল্লেখ্য, নাশকতার অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা তিন মামলায় গত ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট মির্জা ফখরুলকে তিন মাসের জামিন দেন। ‘জামিন সংক্ষিপ্ত’ হওয়ায় ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে গত ৭ জানুয়ারি লিভ টু আপিল করেন তিনি।

মন্তব্য