kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাউন্সিল

পেছানোর চিন্তা আ. লীগের

তৈমুর ফারুক তুষার   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পেছানোর চিন্তা আ. লীগের

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের কারণে জাতীয় সম্মেলন পেছানোর চিন্তাভাবনা চলছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে। সে ক্ষেত্রে আগামী এপ্রিল কিংবা জুলাইয়ে এ সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নির্ধারিত দিনেই সম্মেলনের পক্ষেও মত রয়েছে দলটিতে। শিগগিরই কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের জরুরি বৈঠক ডেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দলটি। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে।

গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। ৯ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ২৮ মার্চ জাতীয় সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করে আওয়ামী লীগ। এ বৈঠকেই বর্তমান কমিটির মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে নেওয়া হয়। সে হিসাবে আগামী ৮ জুলাই কমিটির বর্ধিত মেয়াদ শেষ  হবে।

জাতীয় সম্মেলন পেছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দুজন নেতা। সম্মেলন পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের গতকাল সোমবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি দ্রুত সম্মেলনের নির্দেশ দিয়েছেন। ’ গত শনিবার তিনি বলেছিলেন, সম্মেলন পেছানো নিয়ে দলের ভেতর আলোচনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সম্মেলন পেছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ’

কাউন্সিল পেছানোর কারণ প্রসঙ্গে দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ইউপি নির্বাচনের কারণে মার্চে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে আগে থেকেই কিছুটা দ্বিধা ছিল। তবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ধারণা ছিল, ইউপি নির্বাচন নিয়ে শুধু দলের তৃণমূল নেতারা ব্যস্ত থাকবেন। এতে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে তেমন প্রভাব পড়বে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউপি নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেক সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রায় সবাইকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে এ নির্বাচন নিয়ে।

প্রার্থী মনোনয়নের জন্য অনেক সময় লাগছে। সর্বশেষ দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত স্থানীয় সরকার/ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডকে ছয় দিন ছয় দফায় বৈঠক করতে হয়েছে। প্রথম দফার মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন বোর্ডকে চার দিন বৈঠক করতে হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানো, মনোনয়নবঞ্চিতদের বাগে আনা, মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ ও তা যাচাই-বাছাইয়েও কেন্দ্রীয় অনেক নেতাকে সময় দিতে হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় কাউন্সিল পেছাতে চাইছেন নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, পেছানোর আলোচনার প্রভাব দেখা দিয়েছে সম্মেলন প্রস্তুতির কাজেও। ২৮ মার্চ জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে মার্চের ১-২ তারিখে দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের একটি পোস্টার প্রকাশের কথা ছিল। জঙ্গিবাদমুক্ত আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানসংবলিত এ পোস্টারের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় প্রচার উপকমিটি। কিন্তু সম্মেলন পিছিয়ে যাওয়ার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল পর্যন্ত এ পোস্টার প্রকাশে আওয়ামী লীগ সভাপতির সবুজ সংকেত মেলেনি।

তবে ইউপি নির্বাচনের কারণে দলের জাতীয় সম্মেলনের কাজে অসুবিধা হবে না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফলভাবে অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন উপকমিটি কাজ করছে। তারা যাবতীয় আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। আর আওয়ামী লীগ ছোট কোনো দল নয়। এখানে ইউপি নির্বাচন আর কেন্দ্রীয় সম্মেলন তত্ত্বাবধানের জন্য যথেষ্ট যোগ্য নেতা রয়েছেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, ‘সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আওয়ামী লীগ সভাপতি আমাকে ব্যাপক গতিতে সম্মেলনের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। ’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য কাউন্সিলের কাজের কোনো সমস্যা হবে না। ’

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মার্চে যে দুই দফা ইউপি নির্বাচন হবে সেগুলোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ফলে ২৮ তারিখে কেন্দ্রীয় সম্মেলন হতে তেমন কোনো অসুবিধা দেখছি না। যেটুকু অসুবিধা হবে তা তো সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের আগেই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ’

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, সম্মেলন পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ নিয়েও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে একাধিক মত দেখা দিয়েছে। একটি অংশ চাইছে এপ্রিলের শেষ বা মের শুরুতে সম্মেলনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে। তবে আরেক অংশের নেতাদের মতে, যদি ইউপি নির্বাচনের জন্য দলের সম্মেলন পেছানো হয়, তবে নির্বাচন একেবারে শেষ হওয়ার পর সম্মেলন করা উচিত। ২৮ মার্চ সম্মেলনের ক্ষেত্রে যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, তা এপ্রিল ও মে-তেও থাকবে। এ ছাড়া এপ্রিল ও মে-তে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। সম্মেলন উপলক্ষে সারা দেশে উৎসবের আমেজ তৈরি করতে যে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড টাঙানোর কথা রয়েছে সেগুলো বর্ষা মৌসুমে এক-দুই দিনেই নষ্ট হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ৪ জুন ইউপি নির্বাচনের শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।


মন্তব্য