এবার খালি হাতে ফেরেননি কাপ্রিও-330690 | প্রথম পাতা | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


এবার খালি হাতে ফেরেননি কাপ্রিও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এবার খালি হাতে ফেরেননি কাপ্রিও

অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ। লিওনার্দো ডিকাপ্রিওর হাতে উঠল অস্কার। তাঁর পাশেই সেরা অভিনেত্রী ব্রি লারসন। ছবি : এএফপি

বেশ কয়েকবার মনোনয়নের পরও অস্কার না পাওয়ার হতাশা পেয়ে বসেছিল লিওনার্দো ডি কাপ্রিওর ভক্তদেরও। এর উদাহরণ সাইবেরিয়ার মেয়েরা। তারা নিজেদের গয়না গলিয়ে একটা ট্রফি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রিয় অভিনেতা লিওকে দেবে বলে। তবে শেষমেশ আসল ট্রফিই উঠছে লিওর হাতে। আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনারিতুর ‘দ্য রিভেন্যান্ট’ সিনেমায় অভিনয় করে জিতে নিয়েছেন এবারের সেরা অভিনেতার অস্কার। খালি হাতে ফেরেননি ইনারিতুও। তাঁর হাতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উঠেছে সেরা পরিচালকের স্বর্ণাভমূর্তি। তবে ‘দ্য রিভেন্যান্ট’কে টপকে সেরা ছবি হয়েছে টম ম্যাককার্থির জার্নালিজম ড্রামা ‘স্পটলাইট’।

অস্কারে মনোনয়ন পাওয়া কুশলীদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য—এমন অভিযোগে হলিউডের অনেকেই ৮৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। তবে সব কিছু ছাপিয়ে ক্যামেরাগুলো তাক করা ছিল লিওর দিকে। কারণ এর আগে চার-চারবার সেরা অভিনেতা হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। কিন্তু কোনোবারই শেষ হাসি হাসতে পারেননি। এবারও তেমনটি ঘটতে পারত। কারণ লিওর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছিলেন মাইকেল

ফাসবেন্ডার (স্টিভ জোবস)।

‘রুম’ সিনেমায় অপহৃত মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়েই বাজিমাত করেছেন ব্রাই লারসন। সেরা সহ-অভিনেতার খেতাব পেয়েছেন ‘ব্রিজ অব স্পাইজ’ ছবির মার্ক রায়লেন্স। আর ‘দ্য ড্যানিশ গার্ল’ সিনেমায় অভিনয়ের সুবাদে অ্যালিসিয়া ভিকান্দার হয়েছেন সেরা সহ-অভিনেত্রী। এবার ‘অরিজিনাল স্ক্রিনপ্লে’র পুরস্কার জিতেছেন টম ম্যাককার্থি ও হোসে সিঙ্গার (স্পটলাইট)। আর সেরা সিনেমাটোগ্রাফার হয়েছেন ইমানুয়েল লুবেজকি (রেভন্যান্ট)।

সেরা এনিমেটেড ফিচার ফিল্ম ‘ইনসাইড আউট’। সেরা বিদেশি ভাষার ছবি ‘সন অব সওল’ (হাঙ্গেরি)। অন্যদিকে সেরা ডকুমেন্টারি ফিচারের মুকুট জিতেছে ‘অ্যামি’। আর সেরা এনিমেটেড শর্ট ফিল্ম হয়েছে ‘বেয়ার স্টোরি’।

গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সব আলোচনাতেই এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় টাইটানিকের লিওকে নিয়ে। কারণ অস্কার পাওয়া নিয়ে তাঁর উপাখ্যান শুরু গত শতাব্দীতে। ১৯ বছর বয়সে ‘হোয়াট ইজ ইটিং গিলবার্ট গ্রেপ’-এ (১৯৯৩) মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরের অভিনয় করে  প্রথমবার মনোনয়ন পান তিনি। এরপর ১৯৯৫ সালের ‘বাস্কেটবল ডায়েরিজ’ ছবিটিকে লিওর অন্যতম সেরা ধরা হয়। কিন্তু অস্কারে মনোনয়ন নেই সেটির। ‘টোটাল এক্লিপস’-এ সমকামী কবির চরিত্র লিও করেছেন কয়েক বছর আগে। পুরস্কার পাননি। এরপর ‘রোমিও জুলিয়েট’ তাঁকে বার্লিনে পুরস্কার এনে দিলেও অস্কার এনে দিতে পারেনি। আর এখনো অনেকের কাছে পরিষ্কার নয়, ‘টাইটানিক’-এ (১৯৯৭) লিও অস্কারের মনোনয়ন পেলেন না কেন।

এবারও লিওকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য অভিনয় করতে হয়েছে বেশ কষ্ট সয়ে। সত্যি ঘটনা অবলম্বনে ইনারিতুর ‘দ্য রেভন্যান্ট’-এ হিউ গ্লাসের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য লিওর একাগ্রতা চোখে পড়ার মতো। ওই চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে কাঁচা মাছ ও বাইসনের কলিজা পর্যন্ত খেতে হয়েছে। ঘুমাতে হয়েছে মৃত ঘোড়ার পেটের ভেতরেও।

এবারের অস্কারে অভিনেতা ও সহ-অভিনেতা ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পাওয়া শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে সবাই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। তাই বর্ণবৈষম্যের অভিযোগে সমালোচনাও চলছিল মনোনয়নের পর থেকেই। রবিবার রাতেও তার রেশ ছিল উপস্থাপক ক্রিস রকের ভাষায়। অনেকটা কৌতুক করেই তিনি বলেন, ‘আজ আমি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করছি। এটি হোয়াইট পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড নামেও পরিচিত। এই শ্বেতাঙ্গরা যদি উপস্থাপকও মনোনয়ন দিত, তাহলে আমাকে হয়তো এ মঞ্চে দেখা যেত না।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য