kalerkantho


ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরক্ত ডিসিরা

আশরাফুল হক রাজীব   

২৮ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০



ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরক্ত ডিসিরা

সরকারি জমি দেদার বেহাত হচ্ছে। এর নেপথ্যে প্রভাবশালীরা।

ফলে জমি দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। শুধু জমি দখলই নয়, ব্যবস্থাপনা নিয়েও সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। সরকারের অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মালিক যা পায়, তা অতি নগণ্য। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ভূমি ব্যবস্থাপনায় গতি নেই। বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে জটিল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জলমহাল নিয়ে উচ্চ আদালতে জমা মামলার জট খোলার বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই। ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন আইনও পরস্পরবিরোধী। জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বের করেছেন। তাঁদের এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে আজ থেকে শুরু হওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে। তিন দিনের এ সম্মেলন আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। এতে আলোচনার জন্য ডিসিরা ২৫৩টি প্রস্তাব করেছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের এক ডিসি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, 'বাংলাদেশে যেসব মামলা হয়, তার ৮০ শতাংশই ভূমিকেন্দ্রিক। নিশ্চয়ই ভূমি ব্যবস্থাপনায় গলদ রয়েছে। না হলে এত মামলা-মোকদ্দমা কেন? প্রতিবছরই আমরা মাঠপর্যায়ের ভূমি ব্যবস্থাপনার নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে প্রতিকারের রাস্তাও বের করে দিই। কিন্তু ফলাফল একই। গত ডিসি সম্মেলনেও ভূমি বিষয়ে ৭৮টি ইস্যু নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান পরিবর্তন কোথায়? এবারও অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পাবে। কারণ ভূমি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন না আনতে পারলে সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। ভূমি কর্মকর্তারা আসেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে। কয়েক বছর কাজ করে তাঁরা আবার জনপ্রশাসনে ফিরে যান। উপজেলা পর্যায়ের সাব-রেজিস্ট্রারদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি দেয় আইন মন্ত্রণালয়। উচ্চপর্যায়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কোনো কর্মকর্তা নেই। এখানে ভূমি মন্ত্রণালয় নিধিরাম সর্দার। এর পরিবর্তন দরকার।

১৯৮২ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইন এবং ১৯৪৮ সালের জরুরি হুকুমদখল আইন পরস্পরবিরোধী। এ আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছেন চট্টগ্রামের ডিসি। তিনি বলেছেন, স্থাবর সম্পত্তি আইনের ১৭ ধারা এবং হুকুমদখল আইনের ৮ ধারা বিপরীতমুখী। দুটি আইনই কার্যকর থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা পদ দুটিতে নতুন জনবল নিয়োগ বা তাঁদের পদোন্নতি দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তাঁরাই মূল কাজটি করেন। এসব পদে লোকের অভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনার কাজে গতি আসছে না। খুলনা, মাগুরা, যশোর ও ঝিনাইদহের ডিসি এসব পদে জনবল নিয়োগের প্রস্তাব করেছেন।

জলমহাল ইজারা দেওয়া হয়, কিন্তু ইজারার মেয়াদ শেষ হলে ইজারাদাররা মামলা ঠুকে দিয়ে বসে থাকেন। এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের উচ্ছেদ করা যায় না। সাতক্ষীরার ডিসি জলমহাল লিজের বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য স্পেশাল ড্রাইভ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।

ইজারা প্রদান ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না- রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এ বিধান সংশোধনের প্রস্তাব করেছেন সাতক্ষীরা ও মৌলভীবাজারের ডিসি। ভূমি ব্যবস্থাপনা কাজে জড়িত কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের কথা বলেছেন যশোর ও ঝিনাইদহের ডিসি। জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাক্কলন বা এস্টিমেট তৈরির পর ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা দেওয়ার সময় মাত্র দুই মাস। কিন্তু কোনো কোনো সময় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অধিগ্রহণের মামলা বাতিল হয়ে যায়। এ অবস্থা দূর করার জন্য বরিশাল ও চট্টগ্রামের ডিসি সরকারি প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা দেওয়ার সময় দুই মাসের পরিবর্তে ছয় মাস করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকারি জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ অপ্রতুল। এটা বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য রাজশাহী ও নওগাঁর ডিসিরা প্রস্তাব করেছেন।

কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার পর বন্দোবস্তগ্রহীতা কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে ওই বন্দোবস্ত বাতিল হয়; কিন্তু এ-সংক্রান্ত দলিল বাতিল হয় না। ফলে নতুন বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ঝালকাঠির ডিসি এ ক্ষেত্রে দলিল বাতিলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চেয়েছেন।

উপজেলা পর্যায়ের এসি ল্যান্ড বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভূমি ব্যবস্থাপনা ছাড়াও নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করেন। কোনো কোনো উপজেলায় মহিলা কর্মকর্তা কর্মরত। তাঁদের পক্ষে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় খুলনা, মাগুরা, যশোর, ঝিনাইদহ ও রংপুরের ডিসিরা সহকারী কমিশনারের জন্য গাড়ি চেয়েছেন।

জামালপুরের ডিসি ভূমি দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, সরকারি জমির অবৈধ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার বিচারের বিষয়টি সরকারও চিন্তা করছে। ডিসি সম্মেলনে বিষয়টি আলোচিত হলে তাঁদের পক্ষে এ ধরনের আইনের খসড়া প্রণয়ন সহজ হবে।

ভূমিবিষয়ক সেবা প্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে দূরত্ব রয়েছে। এ দূরত্ব দূর করার জন্য রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার তথ্য ও সেবা এবং পরামর্শ প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেছেন।

পরিত্যক্ত ভূমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ভূমি মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু সেসব ভূমির ওপর অবস্থিত ভবন বা অবকাঠামোর মালিক গৃহায়ণ ও পূর্ত মন্ত্রণালয়। এ কারণে সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা জটিল হচ্ছে। এ জটিলতা নিরসনের প্রস্তাব করেছেন বগুড়ার ডিসি।

মন্ত্রিপরিষদসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সরকারের দর্শন, নীতি ও প্রাধিকার সম্পর্কে ডিসিরা এ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্দেশনা গ্রহণ করবেন। আর মাঠপর্যায়ে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের জানাবেন তাঁরা। ডিসিদের পাঠানো বিভিন্ন প্রস্তাবের আলোকে সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। '

সম্প্রতি মন্ত্রিসভা বৈঠকে মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিসিদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অপরাধী দোষ স্বীকার না করলেও তাদের শাস্তি দিতে পারবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এটি ছিল ডিসিদের দীর্ঘদিনের দাবি। এ দাবি পূরণ হতে না হতেই ডিসিরা মোবাইল কোর্ট আইনে আরো ক্ষমতা চেয়েছেন। ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ এ-জাতীয় মাদকদ্রব্যের ১০০ গ্রাম পর্যন্ত বিচার করার ক্ষমতা মোবাইল কোর্ট আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার। তিনি আরো প্রস্তাব করেছেন অর্থদণ্ড বাড়ানোর। কারণ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯০ ধারার অপরাধের অর্থদণ্ডের পরিমাণ মাত্র ২০০ টাকা। প্রায় এক যুগ আগে মোবাইল কোর্ট আইন হলেও এর বিধিমালা হয়নি এখনো। এ বিধিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন রাজশাহীর ডিসি। এ ছাড়া জুয়া খেলার জরিমানা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন জয়পুরহাটের ডিসি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১২টি প্রস্তাব রয়েছে। ভারতীয় সীমানার চারপাশে রিং রোড রয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশের সীমান্তেও রিং রোড নির্মাণের প্রস্তাব করেছেন পঞ্চগড় ও কক্সবাজারের ডিসিরা। প্যারোলে মুক্তির ক্ষেত্রে কারাবন্দি কতটুকু দূরত্বে যেতে পারবেন তা সুনির্দিষ্ট করার সুপারিশ করেছেন ঝালকাঠির ডিসি।

বিএসটিআই অধ্যাদেশ অনুযায়ী কয়েকটি ধারার শাস্তি ন্যূনতম সাত হাজার টাকা। এসব ধারা সংশোধন করে শাস্তি বাড়ানোর সুপারিশ আসে দিনাজপুরের ডিসির কাছ থেকে। কুমিল্লা একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। এ জেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় পর্যাপ্তসংখ্যক রেকার চেয়েছেন কুমিল্লার ডিসি।

পাবনায় পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। এর নিরাপত্তা নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন পাবনার ডিসি। মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা বাড়লেও নিষ্পত্তির হার অনেক কম। এ-সংক্রান্ত মামলার বিচারের জন্য একটি আদালতকে নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব করেছেন যশোরের ডিসি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট ছয়টি প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলনে আলোচনা হবে। হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে প্রায় শিক্ষার্থীই অনুপস্থিত থাকে। এ সময়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণার সুপারিশ করেছেন সুনামগঞ্জের ডিসি। এ জেলার চা বাগানের ৪০টি প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণ করা হলেও সেখানে ভবন নির্মাণ ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করেছেন মৌলভীবাজারের ডিসি। শিক্ষককের অভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছেন মাগুরার ডিসি। মানিকগঞ্জের ডিসি প্রস্তাব করেছেন প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করার।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রস্তাব উঠছে। আর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রংপুর শহরে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের সুপারিশ করেছেন রংপুরের ডিসি। জনসংখ্যা ও শিল্পাঞ্চলের বিষয় বিবেচনা করে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করেছেন গাজীপুরের ডিসি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট ১৬টি প্রস্তাব উঠছে ডিসি সম্মেলনে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় এ কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পঞ্চগড়, মাগুরা ও শরীয়তপুরের ডিসি। চট্টগ্রামে ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু করা হলেও সেখানে শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পাচ্ছে না। পাঠদানের জন্য নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও ভৌত অবকাঠামো। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন চট্টগ্রামের ডিসি। কিশোরগঞ্জের কোনো কোনো বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একেকটি ক্লাসরুমে ৯০/১০০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত সম্ভব হচ্ছে না বলে ক্লাসরুম বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন কিশোরগঞ্জের ডিসি। বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের সমাধির কাছে তাঁর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন রাজবাড়ীর ডিসি। এ ছাড়া রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জেলা-উপজেলায় সরকারি বই ও শিক্ষা উপকরণ রাখতে গুদাম নির্মাণের সুপারিশ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাব রয়েছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে সব বিভাগীয় শহরে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাব করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার।

মন্ত্রণালয়ের মতো মাঠ পর্যায়ের অফিসেও গতিশীলতা নেই। এর জন্য নীলফামারী, হবিগঞ্জ, যশোর, খুলনা ও মেহেরপুরের ডিসি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তার একটি পদ সৃষ্টি করার প্রস্তাব করেছেন। স্থানীয়ভাবে সৃজন করা প্রবাসী কল্যাণ শাখা, এনজিও সেল ও হেল্প ডেস্কের জন্য পদ সৃজনের প্রস্তাব দিয়েছেন গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও বাগেরহাটের ডিসি।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কাজের শৈথিল্য দূর এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য দপ্তর প্রধানদের নিজ জেলায় পদায়ন না করার প্রস্তাব করেছেন জামালপুরের ডিসি। উল্লেখ্য, বর্তমানে ডাক্তারদের নিজ জেলা, এমনকি উপজেলায় পদায়ন করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসকরা তাঁদের বেশ কিছু সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ডিসি ও ইউএনওর মতো মাঠ প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোন ভাতা প্রদান, ডিসি ও এডিসির জ্বালানি ও যানবাহন মেরামত ব্যয় বাড়ানো, জেলা পুলের গাড়ির টায়ার কেনার বরাদ্দ বৃদ্ধি, জেলা পুলে একটি ডিজেলচালিত ডাবল পিকআপ সরবরাহ, সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য এককালীন যৌথ বীমা এক লাখ টাকা থেকে তিন লাখ টাকা করা এবং কল্যাণ ভাতা ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ।


মন্তব্য