kalerkantho


ঈদের কেনাকাটা শুরু

নাঈম সিনহা

২৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



ঈদের কেনাকাটা শুরু

মডেল : অভিনেতা রওনক হাসান ও তাঁর ছেলে রণজয় এবং বারিশ ♦ ছবি : কাকলী প্রধান ♦ কৃতজ্ঞতা : মান্যবর, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখা

রেমন্ড

ঈদ উপলক্ষে ফ্যাশন ব্র্যান্ড রেমন্ডে এসেছে নতুন কালেকশন। রেমন্ডের এক্সিকিউটিভ তরিকুল ইসলাম জানান, এবার ঈদ আয়োজনে রয়েছে পাঞ্জাবি, ওয়েস্ট কোট, কটি, ফর্মাল শার্ট ও প্যান্ট, টি-শার্ট, জ্যাকেট, ট্রাউজার ও জিন্স। আছে পছন্দের কাপড় দিয়ে পোশাক বানানোর সুবিধা। রয়েছে বোতাম সেট, সিল্ক টাই, কোট পিন, বেল্ট, ওয়ালেট, রুমাল ইত্যাদি।

 

মান্যবর

বরাবরের মতোই এবারের ঈদে মান্যবরের সবচেয়ে মনকাড়া কালেকশন পাঞ্জাবি, কুর্তা, শাড়ি নিয়ে। সিল্ক, সুতি, তসর, জুটসহ নানা ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে। নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে মোগল ধারা।

 

মেঘ

ফ্যাশন হাউস মেঘ ঈদ উপলক্ষে এনেছে ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, মেয়েদের কামিজ, শিশুদের ফতুয়া, ফ্রক ও টি-শার্ট। আরামদায়ক কাপড়ে উজ্জ্বল রঙে এসব পোশাকের নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উৎসবের আমেজ।

 

নিখুঁত বাংলাদেশ

ফ্যাশন হাউস নিখুঁত বাংলাদেশে এসেছে মেয়েশিশুদের সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও স্কার্ট। সুতি কাপড়ে তৈরি এসব পোশাকের নকশায় আছে হাতের কাজ।

লুবনান

ঈদে পাঞ্জাবির বিশেষ আয়োজন এনেছে লুবনান। লুবনানের সিনিয়র ডিজাইনার ইমন আহমেদ জানান, এবার পাঞ্জাবিতে সুতি কাপড়ের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎসবের ছাপ পোশাকে ফুটিয়ে তুলতে কাতান, সিল্কের মতো জমকালো কাপড়ও ব্যবহার করা হয়েছে। ঈদের পাঞ্জাবিতে উৎসবের রঙিন রং ফুটিয়ে তোলার চেষ্টাও করা হয়েছে। মেরুন, নীল, খয়েরি, সবুজ—এসব রং বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। পাঞ্জাবির নকশায় কারচুপি, প্রিন্ট, এমব্রয়ডারির কাজ করা হয়েছে। শুধু ঈদই নয়, সব সময়ের চাহিদার কথা মাথায় রাখা হয়েছে। সাদা, অফহোয়াইট ও ক্রিম রঙে করা এসব পাঞ্জাবি গরম আবহাওয়ার এই ঈদেও আরাম দেবে। কাটে স্লিম ফিটের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রিচম্যান ও ইনফিনিটি

ঈদে রিচম্যান ও ইনফিনিটির শার্টে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে পপলিন, সাটিন ও কটন—এই তিন ধরনের কাপড়। স্লিম ফিট ও সেমি ফিট কাটের শার্ট করা হয়েছে। ডিজাইনের ক্ষেত্রে স্ট্রাইপ, চেক ও প্রিন্ট প্রাধান্য পেয়েছে। প্যান্টে সব সময়ের মতো গ্যাবার্ডিন ও জিন্স রয়েছে। তবে রং, কাট ও প্যাটার্নে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ক্যাজুয়াল প্যান্টে নতুন প্যাটার্ন ও শেপ আনা হয়েছে। গ্যাবার্ডিন প্যান্টে আছে রেগুলার ও স্লিম ফিট, স্মার্ট শেপ, সুপার স্লিম ও স্কিন ফিট। গ্যাবার্ডিন প্যান্টে আরামের কথা চিন্তা করে স্টিচড কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে।

অঞ্জন’স

ঈদ আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে অঞ্জনসের ডিজাইনার শাহীন আহমেদ বলেন, ‘ঈদে মেয়েদের জন্য থাকছে নতুন ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি। ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি ও শার্ট। সব বয়সীদের জন্যই বিভিন্² সাইজের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। পোশাক নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে জিওমেট্রিক, ফ্লোরাল মোটিফ। করা হয়েছে এমব্রয়ডারি ও প্রিন্ট ম্যাটেরিয়ালের কাজ।

ছেলেদের পাঞ্জাবিতে এমব্রয়ডারির নকশা করা হয়েছে। কাপড় হিসেবে সুতি, অ্যান্ডি ও অ্যান্ডি কটন ব্যবহার করা হয়েছে। সুতি শাড়িতে প্রিন্ট, ব্লক, এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট করা হয়েছে। শুধু পোশাক নয়, গয়না ও পার্সেও ঈদে এসেছে নানা নকশা। থাকছে গৃহসজ্জার নানা সামগ্রীও।

বিশ্বরঙ

‘বিশ্বরঙ’ ঈদ আয়োজন সাজিয়েছে বর্ষা ঋতুকে প্রাধান্য দিয়ে। ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, পোশাক আরামদায়ক করতে এবার সুুতি কাপড় প্রাধান্য পেয়েছে। উৎসবে অনেকেই জমকালো পোশাক পছন্দ করেন। সে ক্ষেত্রে অ্যান্ডি, অ্যান্ডি সিল্ক, সিল্ক, মসলিন, রেশমি কটনের পোশাকেও সাধারণ ও ভরাট নকশার সূক্ষ্ম কাজ করা হয়েছে। সালোয়ার-কামিজের কাটিং ও প্যাটার্নে অনেক নতুনত্ব আনা হয়েছে। প্যাটার্নে রয়েছে লেয়ার কাট, লং লেয়ার কাট, কটি, ড্রেপিং টেকনিক ও পিনটাক। বর্ষার নীল রং ছাড়াও হালকা বা উজ্জ্বল সব রঙের সমন্বয় করা হয়েছে। নকশায় ব্লক, টাই-ডাই, স্ক্রিনপ্রিন্ট, অ্যাপ্লিক, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, আরি, হাতের ভরাট কাজ, লেস, কাতানপাড় ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে।

এমব্রেলা

ফ্যাশন হাউস এমব্রেলার উপদেষ্টা ডিজাইনার এমদাদ হক জানান, এই ঈদে বর্ণিল শাড়িতে রয়েছে সিল্ক, টাঙ্গাইল, কটন, অ্যান্ডি প্রভৃতি। সালোয়ার-কামিজে রয়েছে ডিজিটাল প্রিন্ট, হ্যান্ডলুম, হাফ সিল্ক, মসলিন, জর্জেট, এমব্রয়ডারি, কারচুপি। প্যাটার্নে রাখা হয়েছে ভিন্² ভিন্² ছাঁট। থাকছে মেয়েদের পছন্দসই টিউনিক, যাতে ব্যবহার করা হয়েছে একই ম্যাটেরিয়াল। পাঞ্জাবিতে আছে অ্যান্ডি, কটন, অ্যান্ডি সিল্ক, জ্যাকার্ড, ইন্ডিয়ান গিজা কটন, ফ্যাব্রিক প্রিন্ট, সিল্ক এমব্রয়ডারি, কারচুপি, টাই-ডাই। ছেলেদের জন্য রয়েছে প্রিন্টেড শার্ট, পোলো শার্ট ও টি-শার্ট। শিশুদের জন্য রয়েছে আরামদায়ক বেবি ফ্রক, সালোয়ার-কামিজ, শার্ট ও পাঞ্জাবি।

ইজি

ঈদে নান্দনিক ও আরামদায়ক পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছে ইজি ফ্যাশন। তারুণ্যের পছন্দের সব ধরনের পোশাক রাখা রয়েছে ইজির সব আউটলেটে। ইজির প্রায় সব পোশাকই সুতি কাপড়ের তৈরি। ঈদে বিশেষ আয়োজন হিসেবে রয়েছে   টি-শার্ট ও পোলো টি-শার্ট। ইজিতে আরো রয়েছে কালারফুল ক্যাজুয়াল ও ফরমাল শার্ট, শর্ট ও লং পাঞ্জাবি এবং প্যান্ট।

 

কে ক্রাফট

ফ্যাশন হাউস কে ক্রাফটের ঈদ আয়োজনে রং ও মোটিফের বৈচিত্র্য এসেছে। এবারের ঈদ আয়োজনে আছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, লং কুর্তি, রেগুলার কুর্তি, টপস-স্কার্ট, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট। শিশুদের পোশাক তো থাকছেই। যুগল ও ফ্যামিলি পোশাক থাকবে বরাবরের মতো। কাপড়ে থাকছে হ্যান্ডলুম কটন, ভয়েল, লিনেন, টু-টোন কটন, অ্যান্ডি কটন, হাফ সিল্ক, কোটা মসলিন, জ্যাকার্ড, জর্জেট ইত্যাদি। ক্রিট, আফ্রিকান, কলমকারি, এথনিক, জ্যামিতিক, জামদানি, ফ্লোরাল, টেক্সটাইল টেক্সচার ও ইসলামিক মোটিফের ছোঁয়া থাকবে পোশাক ডিজাইনে। লেয়ার্ড স্টাইলের কামিজ ও কুর্তি, ড্রপ স্লিভ ও ফোল্ড স্লিভ, এ লাইন কামিজ ও কুর্তি, কটিসহ কামিজ ও কুর্তি, আনারকলি স্টাইল, ইন্দো-ওয়েস্টার্ন স্টাইল, ক্লাসিক কামিজ পেটার্ন—সব থাকছে এবার ঈদে। নেক লাইন, হেম-স্লিভে আনা হয়েছে বৈচিত্র্য।

রং হিসেবে নেওয়া হয়েছে লাইট ব্লু, কফি, অ্যাশ, বিস্কুট, সাদা, লাইট আকাশি, পেস্ট বার্গান্ডি, সবুজ, ফিরোজা, বেগুনি, ব্রিকরেড, কালো ইত্যাদি।

রঙ বাংলাদেশ

ইসলামিক, ফ্লোরাল, জিওমেট্রিক ইত্যাদি মোটিফ এসেছে পাঞ্জাবি, শার্ট, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ওড়নাসহ সব পোশাকে। নারীদের পোশাকের মধ্যে আছে শাড়ি, থ্রিপিস, টুপিস, কুর্তি, লং ফ্রক, গাউন, ওড়না, সিঙ্গল ব্লাউজ, টপস, পালাজো, আনস্টিচ থ্রিপিস। ছেলেদের পোশাকে রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট, পায়জামা, ধুতি, লুঙ্গি, টুপি, উত্তরীয়। ছোটদের পোশাকে থাকছে সিঙ্গল কামিজ, ফ্রক, স্কার্ট, টপস, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট, কাতুয়া, ফতুয়া, পায়জামা, ধুতি, টুপি। রয়েছে কাপল ও ফ্যামিলি ড্রেস।

ওটু

ঈদে ছেলেদের পাঞ্জাবি নিয়েই বেশি কাজ করেছে ওটু। পাঞ্জাবির কাটে রেগুলার ও স্লিম ফিট গুরুত্ব পেয়েছে। ডিজাইনে গুরুত্ব পেয়েছে হাতের কাজ। করা হয়েছে পাঞ্জাবি-পায়জামার সেট। প্যান্ট কাট পায়জামা করা হয়েছে, যা শার্ট ও পাঞ্জাবি দুটির সঙ্গেই পরা যাবে। একে বলা হচ্ছে ফ্লাগস। পাওয়া যাবে সাদা ও কালো রঙে। এবারের পাঞ্জাবিতে আরামের কথা চিন্তা করে সুতি কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। আছে হাতের কাজের কাবলি সেট। মেয়েদের পোশাকে মসলিন কাপড় ব্যবহার করা  হয়েছে বেশি।


মন্তব্য