kalerkantho

এসএসসি প্রস্তুতি

জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



জীববিজ্ঞান

পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ৮টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে

প্রশ্নপত্র থেকে ৫টির উত্তর দিতে হবে

সৃজনশীল প্রশ্ন

# উদ্দীপক :

সোহেল বাসায় ঢুকতেই খাবারের সুগন্ধ পেল। ঘরে ঢুকে টেবিলের ওপরে গরম বাটির ঢাকনা ওঠালে গরমের কারণে তা ছেড়ে দিলে ফ্লোরে পড়ে যায়। সুগন্ধ পাওয়ার বিষয়টি মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও পরবর্তী ঘটনাটি মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়।

ক) ডোপামিন কী?

খ) পিঁপড়াদের এক সারিতে চলাচল করতে দেখা যায় কেন?

গ) প্রথম ঘটনাটি মস্তিষ্ক দ্বারা কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়—ব্যাখ্যা করো।

ঘ) পরবর্তী ঘটনাটি মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয় কেন? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) স্নায়ুকোষ থেকে নিঃসৃত এক প্রকার নির্যাস হলো ডোপামিন।

খ) সমন্বয় সাধনের জন্য নানা প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। কোনো পিঁপড়া খাদ্যের খোঁজ পেলে খাদ্য উৎস থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে, যাকে ফেরোমেন বলে। এর ওপর নির্ভর করে অন্য পিঁপড়াগুলো খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। এ কারণে পিঁপড়াদের এক সারিতে চলাচল করতে দেখা যায়।

গ) উদ্দীপকের প্রথম ঘটনাটি হলো সোহেল বাসায় ঢুকেই খাবারের সুগন্ধ পেল, যা মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আর মস্তিষ্কের কার্যকর একক স্নায়ুকোষ নিউরন। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো—

১) কোষ দেহ : প্লাজমা মেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

২) প্রলম্বিত অংশ : কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন নিয়ে গঠিত। কোষ দেহের চারদিকে শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রাইট সংখ্যা শূন্য থেকে কয়েকটি পর্যন্ত হতে পারে।

কোষ দেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা শাখাহীন তন্তুটির নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা পরিবেষ্টিত অ্যাক্সনকে স্নায়ুতন্ত্র বলে। নিউরিলেমা ও অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটির স্তর থাকে। একে মায়োলিন বলে। এই আবরণটি অবিচ্ছিন্ন নয়। নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর এটি সাধারণত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে। এ বিচ্ছিন্ন অংশে নিউরিলেমার সঙ্গে অ্যাক্সনের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ ঘটে। এ আবরণবিহীন অংশটি র‌্যানভিয়ারের পর্ব নামে পরিচিত। অ্যাক্সনের মূল অক্ষের আবরণীকে অ্যাক্সলেমা বলে।

ঘ) উদ্দীপকে সোহেলের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ঘটনাটি হলো ঘরে ঢুকে বাটির ঢাকনাটি ওঠাতে গিয়ে গরমের কারণে তা ছেড়ে দিলে ফ্লোরে পড়ে যায়, যা একটি প্রতিবর্তী ক্রিয়া। এটি মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—

প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলতে উদ্দীপনার আকষ্মিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়াকে বোঝায়। আমরা ইচ্ছা করলে প্রতিবর্তী ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। প্রতিবর্তী ক্রিয়া মূলত সুষুম্মা কাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আর নিউরন মানবদেহের সব কার্যাবলির নিয়ন্ত্রক। স্নায়ুতন্ত্র বা নিউরন পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করে। পরবর্তী সময়ে গৃহীত উদ্দীপনা অনুযায়ী উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়নও করে। অর্থাৎ স্নায়ুতন্ত্রের কাজের একক হিসেবে নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা গ্রহণ করে তা দেহের ভেতরে পরিবহন করে। সিন্যাপসের মধ্য দিয়ে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে স্নায়ু তাড়না প্রবাহিত হয়। স্নায়ুকাণ্ডের ধূসর অংশে অবস্থিত সংবেদী নিউরনের অ্যাক্সন থেকে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে উদ্দীপনা মোটর বা আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর ডেনড্রাইটে প্রবেশ করে। সংবেদী স্নায়ুর অ্যাক্সন ও আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর পেশিতে প্রবেশ করে। মোটর বা আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর নিউরনের ডেনড্রাইট থেকে উদ্দীপনা পেশিতে পৌঁছালে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশে পেশির সংকোচন ঘটে।

 

# চিত্র দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক) ভার্নালাইজেশন কী?

খ) প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলতে কী বোঝায়?

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত P এর চলনে S-মুখী হওয়ার জন্য কোন হরমোন দায়ী? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উদ্দীপকে P এর বিপরীতে R এর চলন এরূপ কেন? মূল্যায়ন করো।

উত্তর : ক) শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।

খ) প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলতে উদ্দীপনার আকস্মিকতা ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়াকে বোঝায়। হঠাৎ করে আঙুলে সুচ ফুটলে অথবা হাতে গরম কিছু পড়লে আমরা অতিদ্রুত হাতটি উদ্দীপনার স্থান থেকে সরিয়ে নিই। এটি প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফল। প্রতিবর্তী ক্রিয়া মূলত সুষুম্মা কাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত P হলো উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা। অন্যদিকে S হলো সূর্যালোক। উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখার চলন সূর্যালোকমুখী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো—

উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বিকাশ বা চলনে হরমোন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বিকাশ, উদ্ভিদাঙ্গ সৃষ্টি এবং উদ্ভিদ অঙ্গের চলন নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে বলা হয় হরমোন। কাণ্ডের সূর্যালোকমুখী চলন অক্সিন নামক হরমোনের ঘনত্বের তারতম্যের কারণে ঘটে থাকে। আলোর উপস্থিতিতে অক্সিন হরমোন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। অর্থাৎ অক্সিন আলোর বিপরীতে বা অন্ধকারের দিকে চলে আসে। উদ্দীপকের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। এখানে উদ্ভিদের কাণ্ডের সূর্যালোকের দিকের অংশের অক্সিন হরমোন নিষ্ক্রিয় হওয়ায় অন্ধকারের দিকে অক্সিজেনের ঘনত্ব বেড়ে গিয়েছে। যার ফলে উদ্ভিদটির সূর্যালোকমুখী কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে উদ্ভিদটি আলোর দিকে বেঁকে গেছে।

উপযুক্ত ব্যাখ্যা থেকে বলা যায়, S (কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখার)-এর চলন S (সূর্যালোক) মুখী হওয়ার জন্য দায়ী হরমোনটি হলো ‘অক্সিন’।

ঘ) উদ্দীপকে P হলো উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা। R হলো উদ্ভিদের মূল। উদ্ভিদের মূলের চলন কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখার বিপরীত দিকে। নিচে তা মূল্যায়ন করা হলো—

উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গের বিকাশের ক্ষেত্রে আলোর প্রভাব লক্ষণীয়। যেহেতু উদ্ভিদ অন্যান্য জীবের মতো অনুভূতি ক্ষমতাসম্পন্ন। তাই সে সূর্যালোকের উপস্থিতি বুঝতে পারে। উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধিকারক ফাইটো হরমোনটি নিষ্ক্রিয় বা সেখানে তার ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। ফলে উদ্ভিদের মূলে ফাইটো হরমোনটির ঘনত্ব বেশি হয়ে যায় এবং মূলের বৃদ্ধিকে সে বাড়িয়ে দেয়। এভাবে সূর্যালোকের উদ্দীপনাকে গ্রহণ করে উদ্ভিদের কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা তার (সূর্যালোক) অনুগামী হয় আর মূল সোজা থাকে বা তার বিপরীতগামী হয়।

অতএব, উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে সূর্যালোকের প্রভাবে অক্সিন নামক ফাইটো হরমোনের ওঠানামার কারণে উদ্দীপকে উল্লিখিত P এর বিপরীতে R এর চলন ঘটে।



মন্তব্য