kalerkantho

এসএসসি প্রস্তুতি

জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



জীববিজ্ঞান

অস্টিওপরোসিস একটি ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন

# উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : অধিক শ্রম ও উত্তেজনার কারণে সোহেল জ্ঞান হারায়। মুখমণ্ডল লাল বর্ণ ধারণ করে। হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ায় তার জ্ঞান ফিরে পায়। অপরপক্ষে রহিম মিয়ার বয়স পঞ্চাশের ওপরে হওয়ায় তার দেহে বিশেষ ধরনের নির্যাস তৈরি হচ্ছে না। ফলে তার মাংসপেশি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

ক) বায়োলজিক্যাল ক্লক কী?

খ) অস্টিওপরোসিস ও আর্থ্রাইটিস বলতে কী বোঝো?

গ) সোহেলের রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয় কী হতে পারে ব্যাখ্যা করো।

ঘ) রহিম মিয়ার অবস্থা তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলে।

 

খ) অস্টিওপরোসিস একটি ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ। দেহে খনিজ লবণ, বিশেষ করে ক্যালসিয়ামের অভাবে এ রোগ হয়। বয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের সাধারণত এ রোগ হয়।

 আর্থ্রাইটিস এক ধরনের বাত রোগ। অনেক দিন যাবৎ বাতজ্বরে ভুগলে এবং এর যথাযথ চিকিৎসা না করা হলে এ রোগটি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণত বয়স্করা এ রোগে আক্রান্ত হয়।

 

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহেলের রোগটি হলো স্ট্রোক। নিচে স্ট্রোকের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয় ব্যাখ্যা করা হলো।

 

চিকিৎসা :

১. এ রোগে আক্রান্ত হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

২. মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা রক্ত জমাট বেঁধেছে কি না তা নির্ণয় করে এ রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

৩. রোগীর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা, রোগীর উপযুক্ত শুশ্রূষা, মলমূত্র ত্যাগের সুব্যবস্থা করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পথ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।

৪. রোগীর জ্ঞান ফিরে এলে নিজ চেষ্টায় নড়াচড়া করতে উৎসাহিত করা উচিত।

৫. ধূমপান পরিহার করা, যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাঁদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা, দুশ্চিন্তামুক্ত, সুন্দর ও সাধারণ জীবনযাপন করা।

 

প্রতিরোধে করণীয় :

ধূমপান পরিহার করা, যাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তাঁদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাঁদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা, দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুন্দর ও সাধারণ জীবনযাপন করা।

 

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিম মিয়ার রোগটি হলো—পারকিনসন। পারকিনসন রোগের ফলে রহিম মিয়ার স্বাভাবিক জীবনযাপনের ওপর যে প্রভাব পড়বে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

পারকিনসন রোগের ফলে রোগীর মাংসপেশি কার্যকারিতা হারায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারকিনসনের কারণে রোগীর মাংসপেশি আরো অকার্যকর হয়ে ওঠে, ফলে রোগীর চলাফেরা, লেখালেখি ইত্যাদি কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকট রূপে দেখা দেয়। রোগী প্রাথমিক অবস্থায় হালকা হাত বা পা কাঁপা অবস্থায় থাকে। ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়। এ ছাড়া চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা, কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা, মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া, নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া যেমন—চেয়ার থেকে ওঠা কিংবা হাঁটতে শুরু করার সময় অসুবিধা দেখা দেয়।

এভাবে পারকিনসন রোগের কারণে রহিম মিয়ার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়।

 

# চিত্র দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক) হরমোন কী?

খ) বংশগতি ব্যাধি বলতে কী বোঝো?

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত A এর গঠন ও কাজের এককের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত B এর বিভিন্ন অংশের কাজ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) মানব ও বিভিন্ন প্রাণীর দেহে এক ধরনের বিশেষ নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস, যা রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। নালিবিহীন গ্রন্থি নিঃসৃত এ রসই হলো হরমোন।

 

খ) যেসব রোগ বংশগতি সম্পর্কিত তাকে বংশগতি ব্যাধি বলে। অর্থাৎ যেসব রোগ মাতা-পিতা থেকে বংশগতি বস্তুর মাধ্যমে তাদের সন্তান-সন্ততিতে স্থানান্তরিত হয়, তাকে বংশগতি ব্যাধি বলা হয়। যেমন—কালার ব্লাইন্ড বা বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি বংশগতি ব্যাধি।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘A’ হলো স্নায়ুতন্ত্র। স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কাজের একক হলো নিউরন। নিচে নিউরনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘B’ হলো মস্তিষ্ক। মস্তিষ্ক ৩টি অংশে বিভক্ত—ক) অগ্র মস্তিষ্ক খ) মধ্য মস্তিষ্ক

গ) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক অগ্র মস্তিষ্কের কাজ : অগ্র মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেরিব্রাম। এটি হলো প্রত্যেক অঙ্গ থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণের এবং প্রত্যেক অঙ্গে স্নায়ু তাড়না প্রেরণের উচ্চতর অঙ্গ। দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজের ও অনুভূতির কেন্দ্র হলো সেরিব্রাম। এটি আমাদের চিন্তা, চেতনা, জ্ঞান, স্মৃতি, ইচ্ছা, বাকশক্তি ও ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কোন উদ্দীপকের প্রতি কী ধরনের সাড়া দেবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

মধ্য মস্তিষ্কের কাজ : বিভিন্ন পেশির কাজের সমন্বয় সাধন ও ভারসাম্য রক্ষা করা মধ্য মস্তিষ্কের কাজ।

পশ্চাৎ মস্তিষ্কের কাজ : পশ্চাৎ মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সেরিবেলাম। সেরিবেলাম চলনে সমন্বয় সাধন, দেহের ভারসাম্য রক্ষা, দৌড়ানো, লাফানোর কাজে জড়িত পেশিগুলোর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। মেডুলা অবলংগটা থেকে উৎপন্ন করোটিকা স্নায়ু খাদ্য গলাধঃকরণ, হৃৎপিণ্ড, গলবিল, ফুসফুস ইত্যাদির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তা ছাড়া এই স্নায়ুগুলো শ্রবণ ও ভারসাম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত।ওপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন কাজে নিয়োজিত।



মন্তব্য