kalerkantho

এসএসসি

জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জীববিজ্ঞান

সপ্তম অধ্যায় থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

জারিফের দাদির অনেক দিন ধরে খুসখুসে কাশি এবং প্রতিদিন বিকেলের দিকে জ্বর আসে। ক্রমেই শুকিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি বলেন, সহজে এ রোগ প্রকাশ পায় না। জীবাণুগুলো শ্বেতরক্ত কণিকাকে পরাস্ত করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।

ক) ব্রংকাস কাকে বলে?

খ) রাতের বেলা গাছের নিচে ঘুমানো বিপজ্জনক কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ) জারিফের দাদির রোগ, রোগের কারণ ও লক্ষণগুলো উল্লেখ করো।

ঘ) ওই রোগের জন্য দায়ী জীবাণুকে কিভাবে প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সমাজে এ রোগ নির্মূল করা যায়? সে ক্ষেত্রে তোমার ভূমিকা উল্লেখ করো।

উত্তর :

ক) শ্বাসনালির শেষ অংশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যে শাখানালি গঠন করে, তাদের ব্রংকাস বলে।

খ) রাতের বেলা সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না। অন্যদিকে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। ফলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উৎপাদন চলতে থাকে। এই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস পাতার স্টোমাটার মাধ্যমে পরিবেশে বের হয়ে যায়। পরিণত কাণ্ডের বাকলে যে লেন্টিসেল তৈরি হয়, তার মাধ্যমেও এসব গ্যাসের বিনিময় হয়। এ জন্য বড় গাছের নিচে রাতের বেলা ঘুমালে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

গ) জারিফের দাদি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত। যক্ষ্মা একটি পরিচিত বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। Mycobacterium tuberculosis  নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।

লক্ষণ :

১. দীর্ঘদিন ধরে খুসখুসে কাশি ও বুকে ব্যথা হয়।

২. ভগ্ন স্বর, ওজন হ্রাস এবং ক্ষুধামান্দ্য

৩. হাঁপানি, ঘন ঘন জ্বর আসা।

৪. বারবার ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়া দ্বারা সংক্রমিত হওয়া।

৫. হাড়ে ব্যথা অনুভব, দুর্বলতা, কোনো গ্রন্থি অবশ হয়ে যাওয়া, জন্ডিস দেখা দেওয়া।

ঘ) উদ্দীপকের রোগটি হলো যক্ষ্মা। সমাজ থেকে যক্ষ্মা বিতাড়িত করতে নিম্নলিখিত প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে রোগটি নির্মূলে কাজ করতে গেলে তা ব্যক্তিপর্যায় থেকে শুরু করতে হবে।

প্রতিকার ব্যবস্থা :

১. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।

২. এ রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগ নিবারণের নিয়মগুলো কঠিনভাবে মেনে চলতে হবে। এ জন্য পরিবার ও সমাজের সবাইকে সহযোগী হতে হবে।

৩. রোগীকে হাসপাতালে বা স্যানোটেরিয়ামে পাঠানো অধিক নিরাপদ।

৪. রোগীর ব্যবহারের সব কিছু পৃথক রাখতে হবে।

৫. রোগীর কফ বা থু থু মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা :

১. এই মারাত্মক রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে হলে শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিষেধক বিসিজি টিকা দেওয়া উচিত। শিশুদের জন্মের পর থেকে এক বছরের মধ্যে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। আর টিকার প্রয়োজনীয়তা টিভি, যোগাযোগমাধ্যমে বা মাইকিং ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজে সবাইকে অবহিত করতে হবে।

২. বর্তমানে দেশের সব টিকাদান কেন্দ্রে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

তা ছাড়া নিয়মিত ক্যাম্পেইনিং করেও আমরা রোগটি নির্মূল করতে পারি।

 

যক্ষা হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে



মন্তব্য