kalerkantho

জেএসসি প্রস্তুতি

বিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পঞ্চম অধ্যায়

সমন্বয় ও নিঃসরণ

১। উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক) নিউরন কী?     ১

খ) রেচনতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?     ২

গ) উদ্দীপকের চিত্রটির চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করো।   ৩

ঘ) জীবদেহের উদ্দীপনায় উদ্দীপকের X চিত্রের প্রভাব অপরিহার্য—মূল্যায়ন করো।      ৪

উত্তর : ক) স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।

খ) যে তন্ত্র রেচন কার্যে সাহায্য করে তাকে রেচনতন্ত্র বলে। এর মাধ্যমে ৮০ শতাংশ রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়।

গ) উদ্দীপকের চিত্রটি হলো প্রতিবর্ত চক্র।

স্নায়ু তাড়নার মাধ্যমে স্নায়ুর মধ্য দিয়ে অনুভূতি প্রবাহিত হয়। প্রতিবর্ত ক্রিয়া স্নায়ু তাড়নার তাত্ক্ষণিক কার্যকারিতার ফলে ঘটে। ওপরের চিত্রের ন্যায় হাতের ওপর মশা বসলে স্নায়ুর গ্রাহক প্রান্তে উদ্দীপক হলো মশা, এর উপস্থিতি অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে কোষপ্রান্তে সাড়া জাগে। এ সময় আমরা মশাটিকে তাড়িয়ে দিই বা মেরে ফেলি। এসব ক্রিয়া যেন অজ্ঞাতসারে আপনা-আপনি হয়ে থাকে। এরূপ যে ক্রিয়া অনুভূতির উত্তেজনা দ্বারা উৎপন্ন হয়, মস্তিষ্ক দ্বারা চালিত হয় না, তা হলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া।

ঘ) উদ্দীপকের x চিত্রটি হলো মানবদেহের প্রতিবর্ত চক্র। এটি জীবদেহের উদ্দীপনা পরিবহনে ভূমিকা পালন করে। নিচে জীবদেহের উদ্দীপনায় উদ্দীপকের x চিত্রের প্রতিবর্ত ক্রিয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো :

হাতের চামড়ায় পিন ফোটামাত্র অনুভূতিবাহী স্নায়ুতন্ত্র পিন ফোটার যন্ত্রণা গ্রহণ করে। এই যন্ত্রণাদায়ক তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মেরুরজ্জুতে পৌঁছে। ওই একই তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুকোষ থেকে আজ্ঞাবাহী স্নায়ুতে প্রবাহিত হয়। স্নায়ু তাড়না আজ্ঞাবাহী কোষে পৌঁছামাত্র পেশিতে প্রেরণ করে। ফলে পেশি সংকুচিত হয় এবং যন্ত্রণার উৎস থেকে হাত সরিয়ে দেয়। পিন ফুটানোর সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু আজ্ঞাবাহী স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে। এই উদ্দীপনা পরস্পর সংযুক্ত স্নায়ু কোষের মাধ্যমে অনেক আজ্ঞাবাহী কোষে প্রবাহিত হয়। এসব আজ্ঞাবাহী স্নায়ু পেশিতে উদ্দীপনা বহন করে হাত সরিয়ে আনে। এই সময় অনুভূতি মস্তিষ্কেও পৌঁছায়। ফলে আমাদের শরীর কী ঘটছে তা প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মাধ্যমে জানা যায়।

এটি একটি সমন্বিত কার্যক্রম। প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পাঁচটি অংশের যেকোনো একটি অংশের অভাব হলে কাজটি সঠিকভাবে হতে পারে না।

সুতরাং আলোচনা থেকে জানা যায়, জীবদেহের উদ্দীপনার প্রতিবর্ত চক্রের প্রভাব অপরিসীম।

২। চিত্র দুটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক) নিউরন কাকে বলে?      ১

খ) প্রতিবর্ত চক্র বলতে কী বোঝায়?   ২

গ) ‘ঝ’ এর তন্ত্রটির চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।  ৩

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রে ‘S’ ও ‘P’ এর উৎপন্ন বর্জ্যের ভিন্নতা বিশ্লেষণ করো।    ৪

উত্তর : ক) স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।

খ) যে ক্রিয়া অনুভূতির উত্তেজনা দ্বারা উৎপন্ন হয়, মস্তিষ্ক দ্বারা চালিত হয় না, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। প্রতিটি প্রতিবর্ত চক্রের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা—গ্রাহক অঙ্গ, অনুভূতিবাহী স্নায়ু, প্রতিবর্ত কেন্দ্র, আজ্ঞাবাহী স্নায়ু এবং সাড়ার অঙ্গ।

গ) ‘S’-এর তন্ত্রটি হলো মানবদেহের রেচনতন্ত্রের অংশ বৃক্ক। নিচের রেচনতন্ত্রের চিহ্নিত চিত্র দেওয়া হলো।

ঘ) উদ্দীপকের চিত্র ‘S’ হলো বৃক্ক।

বৃক্ককে মূত্র তৈরির কারখানা বলে। বৃক্ক ছাঁকনির মতো কাজ করে। যকৃত আমাদের দেহের অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডকে ভেঙে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে। বৃক্ক রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে নেয়। এই ক্ষতিকর পদার্থগুলো পানির সঙ্গে মিশে হালকা হলুদ বর্ণের মূত্র তৈরি করে। মূত্র মূত্রথলিতে জমা থাকে। মূত্রথলিতে মূত্রের পরিমাণ বেশি হলে মূত্রপথ দিয়ে মূত্র নির্গত হয়।

উদ্দীপকের চিত্র ‘P’ হলো শ্বসনতন্ত্রের ফুসফুস। আমাদের দেহে শ্বসনের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এই কার্বন ডাই-অক্সাইড কোষের জন্য ক্ষতিকর। দেহকোষ থেকে রক্ত শ্বসনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বের করে দেয়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, বৃক্ক ও ফুসফুসের উৎপন্ন বর্জ্যের ভিন্নতা রয়েছে।

৩। উদ্দীপকটি লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক) রেচনতন্ত্র কী?    ১

খ) খাটো উদ্ভিদে জিব্বেরেলিন প্রয়োগে কী ঘটে? ব্যাখ্যা করো। ২

গ) ‘অ’ অঙ্গটিতে সুচ ফোটামাত্র পেশি সংকুচিত হওয়ার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো। ৩

ঘ) ছকে উল্লিখিত ‘B’ অঙ্গটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।   ৪

উত্তর : ক) যে তন্ত্র রেচন কার্যে সাহায্য করে তাকে রেচনতন্ত্র বলে।

খ) জিব্বেরেলিন এক ধরনের বৃদ্ধিবর্ধক হরমোন। খাটো উদ্ভিদে জিব্বেরেলিন প্রয়োগে উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। এতে খাটো উদ্ভিদ লম্বা উদ্ভিদে পরিণত হয়।

গ) উদ্দীপকের ‘A’ অঙ্গটি হলো চর্ম।

চামড়ায় সুচ ফোটামাত্র পেশি সংকুচিত হওয়ার প্রক্রিয়া নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো—

চামড়ায় সুচ ফোটামাত্র অনুভূতিবাহী স্নায়ুতন্ত্রের সুচ ফোটার যন্ত্রণা গ্রহণ করে। এই যন্ত্রণাদায়ক তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মেরুরজ্জুতে পৌঁছায়। ওই একই তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুকোষ থেকে আজ্ঞাবাহী স্নায়ুতে প্রবাহিত করে। স্নায়ু তাড়না আজ্ঞাবাহী কোষে পৌঁছামাত্র পেশিতে প্রেরণ করে। ফলে পেশি সংকুচিত হয় এবং যন্ত্রণার উৎস থেকে হাত সরিয়ে নেয়।

ঘ) উদ্দীপকে প্রদর্শিত ছকের ‘B’ অঙ্গটি হলো বৃক্ক। বৃক্কের গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো—

বৃক্ককে মূত্র তৈরির কারখানা বলে। বৃক্ক ছাঁকনির মতো কাজ করে। যকৃত আমাদের দেহের অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিডকে ভেঙে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে। বৃক্ক রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ ছেঁকে নেয়। এই ক্ষতিকর পদার্থগুলো পানির সঙ্গে মিশে হালকা হলুদ বর্ণের মূত্র তৈরি করে।

অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে বৃক্ক ভূমিকা পালন করে।

বৃক্ক মানবদেহে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্লোরাইড ইত্যাদির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। তা ছাড়া মানবদেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে।

 



মন্তব্য