kalerkantho


একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র

বিজ্ঞান হচ্ছে বিশেষ জ্ঞান, যা কার্যত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল। এটি যুক্তিনির্ভর পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য সর্বাধিক কল্যাণ সাধন। এমন জ্ঞানই বিজ্ঞান, যা নতুন সত্য আবিষ্কারের জন্য নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করে

দ্বিতীয় অধ্যায়

উদ্দীপক : মারিয়া লক্ষ করলেন, সব খাদ্যদ্রব্য সিদ্ধ করলেই নরম হয় না, যেমন—ডিম। তখন তাঁর স্বামী আব্দুল কাইয়ুম এর কার্যকারণ নির্ণয় করতে গিয়ে দেখলেন, প্রোটিনজাতীয় খাবার যেমন—ডিম সিদ্ধ করলে শক্ত হয়; কিন্তু শর্করাজাতীয় খাবার যেমন—চাল, আলু সিদ্ধ করলে নরম হয়। এটি পরীক্ষা, প্রমাণ ও যুক্তি দ্বারা নির্ণীত বুদ্ধিপ্রাপ্ত জ্ঞান।

ক) ‘Scientia’ শব্দের অর্থ কী?

খ) সমস্যা নির্বাচন বলতে কী বোঝো? ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকে নির্ণীত বুদ্ধিপ্রাপ্ত জ্ঞানকে কী বলে অভিহিত করা যায়?              

ঘ) উদ্দীপকের বিষয়টি সম্পর্কে তোমার ধারণা বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর : ক) ‘Scientia’ শব্দের অর্থ হলো ‘জ্ঞান’।

খ) গবেষণার প্রথম পর্যায়ের কাজ হচ্ছে গবেষণার জন্য বিষয় বা সমস্যা নির্বাচন।

দৈনন্দিন জীবনে যেসব ঘটনা বা বিষয় কৌতূহলের উদ্রেক করে, আমরা সেসব বিষয় বা ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হই। এ ক্ষেত্রে গবেষক, গবেষণা বিষয়ের আওতায় পড়ে শুধু এমন কোনো বিষয়কে সমস্যা হিসেবে নির্বাচন করেন। এ ছাড়া সমসাময়িক সমাজে সমস্যাটির পরিধি, গুরুত্ব, যৌক্তিকতা বিবেচনায় আনতে হয়।

 

গ) উদ্দীপকে নির্ণীত বুদ্ধিপ্রাপ্ত জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে অভিহিত করা যায়।

বিজ্ঞান হচ্ছে বিশেষ জ্ঞান, যা কার্যত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল। এটি যুক্তিনির্ভর পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য সর্বাধিক কল্যাণ সাধন। এমন জ্ঞানই বিজ্ঞান, যা নতুন সত্য আবিষ্কারের জন্য নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করে। এবং গবেষণালব্ধ তথ্য সুসংঘবদ্ধভাবে শ্রেণিবদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সাধারণ সূত্র প্রতিষ্ঠা করে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মারিয়া ও তাঁর স্বামী আব্দুল কাইয়ুম যুক্তিপূর্ণ পরীক্ষা ও কার্যকারণ নির্ণয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করলেন যে প্রোটিনজাতীয় খাবার সিদ্ধ করলে শক্ত হয়; কিন্তু শর্করাজাতীয় খাবার সিদ্ধ করলে নরম হয়, যা বিজ্ঞানের জ্ঞানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সুতরাং উপযুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে নির্ণীত বুদ্ধিপ্রাপ্ত জ্ঞান হলো বিজ্ঞান।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে নির্দেশ করছে বলে আমি মনে করি।

যে যৌক্তিক পদ্ধতিতে সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিষয়াবলি বর্ণনা, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাধারণ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে ধারাবাহিক, বস্তুনিষ্ঠ ও সুশৃঙ্খল জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আহরিত ফলাফল যাচাইকৃত, নিরপেক্ষ, সুশৃঙ্খল ও কষ্টসাপেক্ষ। গবেষণার ক্ষেত্রে যে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তার কয়েকটি প্রধান পর্যায় রয়েছে। যেমন—সমস্যা নির্বাচন, পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, কল্পনা বা প্রকল্প প্রণয়ন, সত্য যাচাই বা সাধারণীকরণ ও ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করা। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম একটি সমস্যা নির্বাচন করে তারপর পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস ও প্রকল্প প্রণয়ন করে। উক্ত পর্যায় শেষ করে আগে অনুমিত প্রকল্পের সত্যতা যাচাইয়ের পর সাধারণীকরণ ও ভবিষ্যদ্বাণী প্রদান করে।

উদ্দীপকে উল্লিখিত মারিয়া প্রথমে একটি সমস্যা নির্ণয় করেছিলেন। যেমন—সব খাদ্যদ্রব্য সিদ্ধ করলে নরম হয় না, যা প্রমাণ করার জন্য মারিয়া ও তাঁর স্বামী আব্দুল কাইয়ুম যুক্তিপূর্ণ পরীক্ষা ও কার্যকারণ নির্ণয়ের মাধ্যমে তা প্রমাণ করেছেন এবং সর্বশেষে একটি সাধারণীকরণ করেছেন। যেমন—প্রোটিনজাতীয় খাবার সিদ্ধ করলে শক্ত হয় এবং শর্করাজাতীয় খাবার সিদ্ধ করলে নরম হয়।

উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকেই নির্দেশ করা হয়েছিল।



মন্তব্য