kalerkantho


দশম শ্রেণি ► জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দশম শ্রেণি ► জীববিজ্ঞান

পঞ্চম অধ্যায়

 

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক : ফারিহা ও জারিফ দুই ভাই-বোন। সকালের নাশতায় ফারিহা পরোটা এবং মাংস পছন্দ করে। জারিফ রুটির সঙ্গে চিনি খেতে পছন্দ করে।

ক) ক্যালরি কী?

খ) সম্পূরক আমিষ বলতে কী বোঝো?

গ) ফারিহা যে খাবার খেতে পছন্দ করে তার পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত দুই ভাই-বোনের মধ্যে খাবার হজমের জন্য কার বেশি এনজাইমের প্রয়োজন? বিশ্লেষণ করো।

উত্তর :

(ক) এক কিলোগ্রাম পানির উষ্ণতা ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি করতে যে তাপের প্রয়োজন তাকে কিলোক্যালরি বলে। কিন্তু পুষ্টিবিদরা একে সাধারণভাবে ক্যালরি বলে থাকেন।

(খ) দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করে খাদ্যমান বাড়ানোর ফলে আট রকম অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। বিভিন্ন আমিষের সংমিশ্রণে তৈরি এরূপ মিশ্র আমিষকে সম্পূরক আমিষ বলে। যেমন : চালের সঙ্গে দুধ দিয়ে পায়েস, ক্ষীর ও ফিরনি তৈরি ইত্যাদি সম্পূরক আমিষ।

(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ফারিহা পরোটা এবং মাংস খেতে পছন্দ করে। পরোটায় ময়দা ও তেল থাকে। তাই ফারিহার পছন্দনীয় খাবার মূলত শর্করা, চর্বি ও আমিষের পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো—

খাদ্য গ্রহণের পর মুখ গহ্বর থেকে যে লালারস নিঃসৃত হয় সেখানে টায়ালিন থাকে। ওই টায়ালিন শর্করাকে মলটোজে পরিণত করে। মুখগহ্বরে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাক ঘটে না। খাদ্য পাকস্থলীতে পৌঁছালে হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যের জীবাণুকে মেরে ফেলে এবং নিস্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে। এখানে পেপসিন আমিষকে ভেঙে পেপটাইডে পরিণত করে। পাকস্থলীতে শর্করা ও স্নেহের পরিপাক ঘটে না। পাকস্থলীতে খাদ্যগুলো মিশে পাকমণ্ড তৈরি করে, পাকমণ্ড পাকস্থলী থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছালে সেখানে অগ্নাশয় থেকে পাকচ রস নিঃসৃত হয়। পাচক রসে এনজাইমের ক্রিয়ার ফলে শর্করা ও আমিষের পরিপাক কাজ চলতে থাকে এবং স্নেহ পদার্থের পরিপাক শুরু হয়। এখানে পিত্তরসের পিত্তলবণ স্নেহ পদার্থের ক্ষুদ্র কণাগুলোকে পানির সঙ্গে মিশতে সাহায্য করে। অগ্নাশয়ের লাইপেজ এনজাইম স্নেহকে বিশ্লেষিত করে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। ক্ষুদ্রান্তের আন্ত্রিকরসের মলটেজ এনজাইম মলটোজকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে। আবার আন্ত্রিক রসের টিপসিন আমিষের আংশিক পরিপাককৃত পেপটাইড ভেঙে অ্যামাইনো এসিডে পরিণত করে।

এভাবে মানবদেহে শর্করা, স্নেহ ও আমিষের পরিপাক ঘটে।

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ফারিহার পছন্দনীয় খাবার হলো পরোটা ও মাংস, যাতে শর্করা, স্নেহ ও আমিষ রয়েছে। আর জারিফের পছন্দনীয় খাবার হলো রুটি ও চিনি, যাতে শুধু শর্করা থাকে।

খাদ্য গ্রহণের পর মুখ গহ্বর থেকে যে লালারস নিঃসৃত হয় সেখানে টায়ালিন থাকে। ওই টায়ালিন শর্করাকে মলটোজে পরিণত করে

শর্করা পরিপাকের এনজাইম :

১) টায়ালিন শর্করাকে মলটোজে পরিণত করে।

২) মলটেজ—মলটোজকে গ্লুকোজে পরিণত করে।

আমিষ পরিপাকে এনজাইম :

১) পেপসিন আমিষকে ভেঙে পেপটাইডে পরিণত করে।

২) ট্রিপসিন পেপটাইডকে ভেঙে অ্যামাইনো এসিডে পরিণত করে।

স্নেহ পরিপাকে এনজাইম :

লাইপেজ স্নেহ পদার্থকে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে। এসব আলোচনা থেকে দেখা যায়, শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পরিপাকে মোট পাঁচটি এনজাইম যথা : টায়ালিন, মলটেজ, পেপসিন, ট্রিপসিন ও লাইপেজ কাজ করে। আর শুধু শর্করা পরিপাকে টায়ালিন ও মলটেজ—এ দুটি এনজাইম কাজ করে। অতএব উদ্দীপকের জারিফ খাদ্য পরিপাকে দুটি এনজাইম ও ফারিহার খাদ্য পরিপাকে পাঁচটি এনজাইম কাজ করে।

সুতরাং ফারিহা ও জারিফের মধ্যে খাবার হজমের জন্য ফারিহার বেশি এনজাইম প্রয়োজন।



মন্তব্য