kalerkantho


নবম ও দশম শ্রেণি

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

সৃজনশীল প্রশ্ন

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা   

১৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

তৃতীয় অধ্যায়

উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

সফিকের গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। সে বর্তমানে দিনাজপুরে স্থায়ীভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করে। কিন্তু প্রায় সময় গর্ব করে বলে, ‘আমি বঙ্গদেশের ছেলে এবং আমাদের অঞ্চল থেকেই বাঙালি নামের উত্পত্তি।’

ক) হরিকেল কী?

খ) জনপদ বলতে কী বোঝায়?

গ) উদ্দীপকের সফিকের জন্মস্থানটির ব্যাখ্যা করো।

ঘ) বাঙালি জাতি নিয়ে উদ্দীপকের সফিকের ধারণাটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

উত্তর : ক) আগে শ্রীহট্ট (সিলেট) থেকে চট্টগ্রামের অংশবিশেষ পর্যন্ত যে জনপদ বিস্তৃত ছিল তা হরিকেল নামে পরিচিত।

খ) প্রাচীন যুগে বাংলা (বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) এখনকার মতো কোনো একক ও অখণ্ড রাষ্ট্র বা রাজ্য ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল, যা পৃথক। পৃথক শাসক দ্বারা শাসিত ছিল। বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে তখন সমষ্টিগতভাবে নাম দেওয়া হয় জনপদ।

গ) উদ্দীপকে সফিকের জন্মস্থান হলো রাজশাহী। রাজশাহীতেই ‘পুণ্ড্র’ নামে প্রাচীন বাংলার এক জনপদ ছিল। বলা হয়, ‘পুণ্ড্র’ বলে এক জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। সে সময়কার পুণ্ড্রবর্ধন। বর্তমান বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলাজুড়ে বিস্তৃত ছিল। রাজমহল ও গঙ্গা, ভাগীরথী থেকে আরম্ভ করে করতোয়া পর্যন্ত মোটামুটি পুরো উত্তরবঙ্গই বোধ হয় সে সময় পুণ্ড্রবর্ধনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেন আমলে পুণ্ড্রবর্ধনের দক্ষিণ সীমা পদ্মা পেরিয়ে একেবারে খাড়ি (বর্তমান চব্বিশ পরগনার খাড়ি পরগনা) ও ঢাকার বরিশালের সমুদ্রতীর পর্যন্ত বিস্তৃৃত ছিল। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতরা অনুমান করেন।

ঘ) বাঙালি জাতি নিয়ে সফিকের ধারণাটি যথার্থ নয়। কারণ উদ্দীপকে সফিকের গ্রামের বাড়ি রাজশাহী বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বর্তমানে দিনাজপুরে সে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর ছিল প্রাচীন জনপদ পুণ্ড্রের অধীনে। পুণ্ড্র জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। প্রাচীন সভ্যতা নিদর্শনের দিক থেকে পুণ্ড্র প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ ঠিকই; কিন্তু সফিকের মন্তব্য অনুযায়ী বাঙালি নামের উত্পত্তিস্থল নয়। এ বাঙালি নামের উত্পত্তি হয়েছে প্রাচীন বাংলার আরেকটি জনপদ বঙ্গ থেকে। এ বঙ্গ জনপদটি বঙ্গ নামের জাতি গড়ে তুলেছিল। বঙ্গ জনপদের অবস্থান ছিল গঙ্গা ও ভাগীরথীর মাঝখানে। অঞ্চলটি প্রাচীন শিলালিপিতে বিক্রমপুর ও নাব্য নামের বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়। আধুনিক ইদিলপুর পরগনার কিয়দংশ; ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালীর নিম্নভূমি এবং বৃহত্তম বগুড়া, পাবনা, ময়মনসিংহের পশ্চিমাঞ্চল; ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে বঙ্গ জনপদ গঠিত হয়েছিল এবং এ বঙ্গ থেকে বাঙালি জাতির উত্পত্তি ঘটেছিল।

অর্থাৎ সফিকের ধারণা যথার্থ নয়।



মন্তব্য