kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন,কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কিশোর কাজি

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক : সজল বন্ধুদের সঙ্গে স্কুল থেকে ফেরার পথে একটি ব্যাগ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে। ব্যাগটি উঠিয়ে তাতে অনেক টাকা দেখতে পেয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। সজল টাকাগুলো প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের একজন লোক টাকাগুলো তার বলে দাবি করেন। কিন্তু কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে সজল বুঝতে পারে তিনি প্রকৃত মালিক নন। তখন তারা থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তায় প্রকৃত মালিক খুঁজে পায় এবং ব্যাগটি হস্তান্তর করে। মালিক ব্যাগটি অক্ষত অবস্থায় পেয়ে খুশি হয়ে দোয়া করেন।

ক) বালকেরা ভাঙা কলসটিকে কী দিয়ে পূর্ণ করেছিল?

খ) আলী কোজাইয়ের ঘটনা নিয়ে বিচারের নাটক হয়েছিল কেন?

গ) উদ্দীপকের সজলের কাজটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের যে ঘটনাকে প্রতিফলিত করে তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ) “ঘটনাগত মিল থাকলেও উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের ভাবের যে বেশ অমিল রয়েছে”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর : ক) বালকেরা ভাঙা কলসটিকে কতগুলো মাটির ঢেলা দিয়ে পূর্ণ করেছিল।

খ) আলী কোজাইয়ের মোহর চুরির ঘটনাটি সারা বাগদাদে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে এই ঘটনা নিয়ে বিচারের নাটক হয়েছিল।

‘কিশোর কাজি’ গল্পের বণিক আলী কোজাই হজব্রত পালনের জন্য মক্কা যাওয়ার সময় সারা জীবনের সঞ্চয় সোনার মোহর একটি কলসিতে ভরে জলপাই দিয়ে ঢেকে বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে যায়। একদিন নাজিমের স্ত্রী জলপাই খেতে চাইলে সে কলস থেকে জলপাই নিতে গিয়ে দেখে তাতে সোনার মোহর। তখন সে মোহরগুলো লুকিয়ে নতুন জলপাই দিয়ে আবার কলসটি পূর্ণ করে। আলী ফিরে এসে কলসে মোহর না পেয়ে বন্ধুর কাছে তা ফেরত চাইলে সে অস্বীকার করে। বাধ্য হয়ে আলী কাজির দরবারে নালিশ করে কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ঘটনার কোনো প্রতিকার হয় না। তত দিনে মোহর চুরির ঘটনাটি সারা বাগদাদে ছড়িয়ে পড়ায় ওই ঘটনা নিয়ে বিচারের নাটক হয়েছিল।

গ) উদ্দীপকের সজলের কাজটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী-নাজিমের বিচারকার্যটি প্রতিফলিত করে।

‘কিশোর কাজি’ গল্পের আলী কোজাইয়ের বন্ধু নাজিম তার রেখে যাওয়া কলসিতে মোহরের সন্ধান পেয়ে তা আত্মসাৎ করে কলসিটি আবার জলপাই দিয়ে পূর্ণ করে রাখে। হজব্রত পালন শেষে আলী নাজিমের কাছ থেকে কলসিটি বাড়ি নিয়ে তাতে শুধু জলপাই-ই পায়। নাজিমকে মোহর ফিরিয়ে দিতে বললে সে মোহরের কথা আলী ও কাজির দরবারে অস্বীকার করে। সারা বাগদাদে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিন বাগদাদের খলিফা হারুন-অর-রশিদ নৈশ ভ্রমণে গিয়ে দেখতে পান কয়েকজন বালক আলী ও নাজিমের বিচার খেলা খেলছে। বালকদের একজন আলী ও একজন নাজিম সাজল। একজন আলী সেজে একটি ভাঙা কলসিতে কতগুলো মাটির ঢেলাপূর্ণ জলপাইয়ের কলসি তৈরি করল। বিচার আরম্ভ হলে আলী নালিশ করল। কাজি সাজা বালক নাজিমকে মোহরের কথা জিজ্ঞেস করলে সে তা অস্বীকার করে। তখন কাজি এক জলপাই ব্যবসায়ী সেজে আসা বালককে দিয়ে জলপাইগুলো পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারে যে, জলপাইগুলো মাত্র এক মাস আগের। কিশোর কাজির বিচারে নাজিমের মিথ্যাবাদিতা প্রমাণিত হলে সে বাধ্য হয়ে আলীকে মোহরগুলো ফিরিয়ে দেয়। খলিফা বালকদের এই বিচার কার্যে মুগ্ধ হয়ে বালকটিকে দিয়ে আলী ও নাজিমের বিচারকার্যটি সম্পন্ন করান। বিচারে নাজিমের সাজা হয় ও আলী কোজাই তার মোহরগুলো ফেরত পায়।

উদ্দীপকের সজলও টাকাভর্তি ব্যাগটি প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পরামর্শ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। একজন লোক টাকাগুলো দাবি করলে সজল কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে বুঝতে পারে সে প্রকৃত মালিক নয়। তখন থানায় গিয়ে পুলিশের সহায়তায় প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেয়ে ব্যাগটি হস্তান্তর করে। উদ্দীপকের সজলের এই কাজটি ‘কিশোর কাজি’ গল্পের বালকদের দ্বারা আলী ও নাজিমের বিচার খেলার ঘটনাটি প্রতিফলিত করে।

ঘ) ঘটনাগত মিল থাকলেও উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের ভাবের যে বেশ অমিল রয়েছে তা হলো—ধনসম্পদের লোভে পড়ে বন্ধুও প্রতারণা করতে পারে।

‘কিশোর কাজি’ গল্পের বণিক আলী কোজাই তার জীবনের সঞ্চয় সব সোনার মোহর খলিফার নিকট জমা না রেখে বিশ্বস্ত বন্ধু নাজিমের কাছে রেখে যায়, যদিও আলী কোজাই মোহর রাখার কথা না বলে বন্ধুকে জলপাইয়ের কথা বলেছিল। নাজিমের স্ত্রী একদিন জলপাই খেতে চাইলে নাজিম বাজার থেকে জলপাই কিনে না এনে বন্ধুর আমানতে হাত দেয়। তার যুক্তি হলো, পরে জলপাই কিনে কলসিটি ভরে রাখলেই হবে। কিন্তু কলসি উপুড় করে যখন সে রাশি রাশি সোনার মোহর পেল, তখন তার মাথায় কুবুদ্ধি খেলে যায়। সে কলসির মোহর লুকিয়ে রেখে নতুন জলপাই দিয়ে ভরে রাখে। দীর্ঘদিন পর আলী কোজাই দেশে ফিরে কলসি বাসায় নিয়ে দেখে তাতে মোহর নেই। ওই বিষয়ে নাজিমকে জানালে সে কিছুই জানে না বলে জানায়। শুধু তাই নয়, মোহরের লোভে সে কাজির দরবারে গিয়েও মোহরের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

উদ্দীপকের সজলের পাওয়া টাকাভর্তি ব্যাগটির কথা জানাজানি হলেও গ্রামের একজন লোক টাকার লোভে ব্যাগটি তার বলে দাবি করে।

উপর্যুক্ত বক্তব্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ঘটনাগত মিল থাকলেও উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে ‘কিশোর কাজি’ গল্পের বিশ্বস্ত বন্ধুর প্রতারণা করার দিক থেকে বেশ অমিল রয়েছে।

 



মন্তব্য