kalerkantho

জানা-অজানা

সপ্তগ্রাম

[নবম-দশম শ্রেণির ব্যবসায় উদ্যোগ বইয়ে সপ্তগ্রামের কথা উল্লেখ আছে]

আব্দুর রাজ্জাক   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সপ্তগ্রাম

মধ্য যুগীয় বাংলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্য বন্দর সপ্তগ্রাম বা সাতগাঁও। ‘সপ্তগ্রাম’ শব্দটির অর্থ সাতটি গ্রাম। গ্রামগুলো হলো—বাঁশবেড়িয়া, কৃষ্টপুর, বাসুদেবপুর, নিত্যানন্দপুর, শিবপুর, সাম্ব্বচোরা ও বলদঘাটি। বর্তমানে পলি ভরাট হয়ে যাওয়া সরস্বতী নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম তীরে এবং সরস্বতী-হুগলির সঙ্গমস্থলের কাছেই ছিল সপ্তগ্রামের অবস্থান। সপ্তদশ শতাব্দীতে সরস্বতী নদী মরে যেতে শুরু করলে ধীরে ধীরে এটি নৌ-চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

১৩৫০ সালে বাংলায় তুঘলক শাসনকালে (১৩৩৬-৫৮) ইবনে বতুতা সপ্তগ্রামে আসেন। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের ধারণা, সপ্তগ্রামের স্থানীয় বণিকরা বিদেশে বাণিজ্য করতে যেতেন না; বরং আরব, পারস্য ও তুরস্ক থেকে বণিকরা সপ্তগ্রামে আসতেন। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে পর্তুগিজ বণিকরা সপ্তগ্রামে আসা-যাওয়া শুরু করেন। মোগল আমলে সপ্তগ্রাম অঞ্চলটি তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত ছিল—সাতগাঁও সরকার, সেলিমাবাদ সরকার ও মান্দারন সরকার। প্রাক-মুসলিম যুগে গ্রামটি ছিল হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন সংস্কৃৃতির কেন্দ্রস্থল।

 

   

 



মন্তব্য