kalerkantho


এইচএসসি প্রস্তুতি

জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র

আলোর সাহায্যে ঙ২ গ্রহণ ও ঈঙ২ ত্যাগ করার প্রক্রিয়াকে ফটোরেসপিরেশন বলে। সবুজ উদ্ভিদে ঈ৩ চক্র তথা ক্যালবিন চক্র চলাকালে পরিবেশে তীব্র আলো ও উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি হলে সালোকসংশ্লেষণ না হয়ে ফটোরেসপিরেশন ঘটে।

১। চিত্রের আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক) শ্বসন হার কী?         ১

খ) সবাত ও অবাত শ্বসনের পার্থক্য লেখো।        ২

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত U ও V-এর পারস্পরিক পরিবর্তনে শারীরতাত্ত্বিক পদ্ধতির একটি আধুনিক মতবাদ বর্ণনা করো।                                   ৩

ঘ) উদ্দীপকের ক্ষুদ্রাঙ্গটির মাধ্যমে উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক কার্যগুলো সম্পাদিত হয়—বিশ্লেষণ করো।                    ৪

 

উত্তর : ক) শ্বসন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ যে পরিমাণ CO2 ত্যাগ করে এবং যে পরিমাণ O2 গ্রহণ করতে তার অনুপাতকে শ্বসন হার বলে।

                 নির্গত CO2- এর পরিমাণ

শ্বসন হার (R.Q.) =

                  গৃহীত O2- এর পরিমাণ

খ) সবাত শ্বসন ও অবাত শ্বসনের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ—

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র দুটি পত্ররন্ধ্রের চিত্র। U ও V দ্বারা যথাক্রমে পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ অবস্থা দেখানো হয়েছে। পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার কৌশল সম্পর্কে আধুনিক মতবাদ বা আয়ন প্রবাহ মতবাদ নিচে বর্ণনা করা হলো—

আধুনিক মতবাদ বা আয়ন প্রবাহ মতবাদ : এ মতবাদ মতে, পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ রাখতে পটাসিয়াম আয়ন (K+) ভূমিকা রাখে। দিনের বেলায় রক্ষীকের পর্যাপ্ত পরিমাণ পটাসিয়াম আয়ন (K+) ও ক্লোরাইড আয়ন (Cl-) শোষণ করে। ফলে রক্ষীকোষে অভিস্রবণিক চাপ বেড়ে যায় এবং তখন পার্শ্ববর্তী মেসোফিল টিস্যু থেকে রক্ষীকোষে পানির ব্যাপন ঘটে। এ সময় রক্ষীকোষে টাগার প্রেসার (TP) বেড়ে যাওয়ার ফলে তা স্ফীত হয়ে ধনুকের ন্যায় বেঁচে যায়। ফলে ছিদ্র খুলে যায়।

রাতের বেলায় পটাসিয়াম আয়ন (K+) ও ক্লোরাইড আয়ন

(Cl-) রক্ষীকোষ থেকে বের হয়ে আসে। ফলে রক্ষীকোষের অতিস্রবণিক চাপ কমে যায়।

এর ফলে পানি রক্ষীকোষ থেকে বের হয়ে আসে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।

ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষুদ্রাঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদের যে প্রস্বেদন ঘটে তাকে পত্রবন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলে।

প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবনিক প্রক্রিয়া।

উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনের গুরুত্ব ও উপকারিতা :

(১) পানি শোষণ : পাতায় প্রস্বেদনের ফলে বাহিকা নালিতে পানির যে টান পড়ে সেই টান মূলরোম কর্তৃক পানি শোষণে সাহায্য করে থাকে। তাই জীবন রক্ষাকারী পানি শোষণে প্রস্বেদনের ভূমিকা আছে।

(২) লবণ পরিশোষণ : প্রস্বেদনের কারণে চারদিক থেকে লবণ মূলের কাছাকাছি আসে। তাই উদ্ভিদ সহজে লবণ পরিশোষণ করতে পারে।

(৩) অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা দান : প্রস্বেদনের ফলে কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। কোষরসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অন্তঃঅভিস্রবণের সহায়ক।

(৪) উদ্ভিদদেহকে শীতলতা দান : প্রস্বেদনের ফলে তরল পানিকে বাষ্পাকারে পরিণত করতে উদ্ভিদদেহের কিছু তাপ ব্যয় হয়। ফলে উদ্ভিদদেহ অপেক্ষাকৃত শীতল হয়।

(৫) পাতায় ছত্রাক আক্রমণ রোধ : প্রস্বেদনের ফলে পাতার পৃষ্ঠে কিছু পানিগ্রাহী লবণ জমা হয়, যা ছত্রাক আক্রমণ থেকে পাতাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

প্রস্বেদনের অপকারিতা :

১। প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে বাষ্পাকারে পানি বের করে দিতে উদ্ভিদের শক্তির অপচয় হয়।

২। প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদের শোষিত পানির অপচয় হয়।

৩। শোষিত পানির পরিমাণ অপেক্ষা প্রস্বেদন বেশি হলে প্রস্বেদন অনেক সময় উইলটিং ঘটিয়ে উদ্ভিদের জীবনকে বিপন্ন করে ও মৃত্যু ডেকে আনে।

 

২। উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

                  আলো

12H2O+6CO2A+6H2O+602

                ক্লোরোফিল

ক) শ্বসনিক বস্তু কী?        ১

খ) ফটোরেসপিরেশন বলতে কী বোঝায়?     ২

গ) উদ্দীপকের A-এর সৃষ্টি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।        ৩

ঘ) উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।      ৪

উত্তর : ক) শ্বসন প্রক্রিয়ায় যে যৌগিক বস্তুগুলো জারিত হয়ে সরলবস্তুতে পরিণত হয়, সেসব বস্তুকে শ্বসনিক বস্তু বলে। শর্করা, আমিষ, চর্বি ও জৈবিক এসিডগুলো শ্বসনিক বস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

খ) আলোর সাহায্যে O2 গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ করার প্রক্রিয়াকে ফটোরেসপিরেশন বলে। সবুজ উদ্ভিদে C3 চক্র তথা ক্যালবিন চক্র চলাকালে পরিবেশে তীব্র আলো ও উচ্চ তাপমাত্রা সৃষ্টি হলে সালোকসংশ্লেষণ না হয়ে ফটোরেসপিরেশন ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্টে CO2 এর পরিমাণ কম 3O2 এর পরিমাণ বেশি হলেই ফটোরেসপিরেশন হয়। RuBP CO2 এর পরিবর্তে O2 এর সঙ্গে বিক্রিয়া করে গ্লাইকোলেট তৈরি করে। গ্লাইকোলেট ক্লোরোপ্লাস্ট ত্যাগ করে সাইটোপ্লাজমে এসে পার-অক্সিসোমে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়ায় ক্লোরোপ্লাস্ট, পার-অক্সিসোম ও মাইটোকন্ড্রিয়া অংশগ্রহণ করে। ফটোরেসপিরেশন C3 উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ হার ২৫% পর্যন্ত কমাতে পারে।

 

গ) উদ্দীপকে ‘A’ হলো শর্করা। নিম্নে শর্করা তৈরির ক্যালভিন চক্র আলোচনা করা হলো—

১। বায়ুমণ্ডলের CO   ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমাতে গিয়ে ৫-কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ ১.৫ বিসফসফেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে

৬-কার্বনবিশিষ্ট অস্থায়ী কিটো অ্যাসিড সৃষ্টি করে। রুবিস্কো এনজাইম CO2 কে রাইবুলোজ ১.৫ বিসফসফেটের সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে।

২। ৬-কার্বনবিশিষ্ট অস্থায়ী কিটোএসিড ১ অণু পানি গ্রহণ করে আর্দ্রবিশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই অণু ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড সৃষ্টি করে।

৩। ATP থেকে একটি ফসফেট গ্রহণ করে ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড ১, ৩-বিসফসফোগ্লিসারিক এসিডে (BPGA) পরিণত হয়। এখানে একটি ATP খরচ হয় এবং ১টি অউচ মুক্ত হয়। এখানে ৩-ফসফোগ্লিসারেট কাইনেজ এনজাইম বিক্রিয়ায় সাহায্য করে।

৪। ১, ৩-বিসফসফোগ্লিসারিক এসিড বিজারিত হয়ে গ্লিসারালডিহাইড ৩-ফসফেটে (G3P) পরিণত হয়। এখানে একটি ফসফেট হাইড্রোজেন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। NADPH+H+ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে এবং ঘঅউচ হিসেবে মুক্ত হয়। গ্লিসারালডিহাইড ৩-ফসফেট ডিহাইড্রোজিনেজ এনজাইম এ বিক্রিয়ায় সাহায্য করে।

৫। এক অণু গ্লিসারালডিহাইড ৩-ফসফেট ট্রায়োজ ফসফেট আইসোমারেজ এনজাইমের সহায়তায় এক অণু ডাইহাইড্রোক্সি অ্যাসিটোন ৩-ফসফেটে পরিণত হয়।

৬। এক অণু ডাইহাইড্রোক্সি অ্যাসিটোন ৩-ফসফেট এবং এক অণু গ্লিসারালডিহাইড ৩-ফসফেট মিলিতভাবে সৃষ্টি করে এক অণু ফ্রুস্টোজ-১, ৬-বিসফসফেট, এন্ডোলেজ এনজাইম এ বিক্রিয়ায় সহায়তা করে।

৭। ফ্রুস্টোজ ১, ৬ বিসফসফেট এক অণু পানি গ্রহণ করে সৃষ্টি করে ফ্রুস্টোজ ৬-ফসফেট; এক অণু ফসফেট মুক্ত হয়। এখানে ফসফেটেজ এনজাইম সহায়তা করে।

৮। ফ্রুস্টোজ ৬-ফসফেট, গ্লিসারালডিহাইড ৩-ফসফেটের সঙ্গে মিলিতভাবে সৃষ্টি করে এক অণু জাইলুলোজ ৫-ফসফেট এবং এক অণু ইরিথ্রোজ ৪-ফসফেট ট্রান্সকিটোলেজ এনজাইম বিক্রিয়ায় সাহায্য করে। ইরিথ্রোজ ৪-ফসফেট আরো কয়েকটি বিক্রিয়ার মাধ্যমে এই চক্রের পরবর্তী পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়।

৯। জাইলুলোজ ৫-ফসফেট ইপিমারেজ এনজাইমের সহায়তায় রাইবুলোজ ৫-ফসফেটে পরিণত হয়।

১০। রাইবুলোজ ৫-ফসফেট, রাইবুলোজ ৫-ফসফেট কাইনেজ এনজাইমের সহায়তায় ATP থেকে এক অণু ফসফেট গ্রহণ করে রাইবুলোজ ১, ৫-বিসফসফেট (RuBP) আবার উৎপাদন করে। এখানে এক অণু ADP মুক্ত হয়। রাইবুলোজ ১, ৫- বিসফসফেট আবার বায়ুস্থ CO2 গ্রহণ করে চক্রটি চালু রাখে।

খ) উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া।

নিম্নে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো—

(১) জীবজগতের প্রাথমিক খাদ্য : সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে যে শর্করা উৎপন্ন হয়, তা সমগ্র জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য।

(২) সৌরশক্তির বন্ধন : একমাত্র সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমেই সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়ে খাদ্যের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। সবুজ উদ্ভিদ ছাড়া প্রাণীদের মাধ্যমে এ কাজ সম্ভব নয়। তাই প্রাণিজগৎ খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল।

(৩) পরিবেশ পরিশোধন : সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO2 শোষিত হয় এবং O2 উৎপন্ন হয়। প্রাণিকুলের জন্য ক্ষতিকারক CO2 শোষণ করে এবং সব জীবের শ্বসনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় O2 সরবরাহ করে। এ প্রক্রিয়া পরিবেশ পরিশোধন করে থাকে। এভাবে সবুজ উদ্ভিদের এ প্রক্রিয়া জীবজগেক নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।

(৪) দৈহিক বৃদ্ধি : সালোকসংশ্লেষণের ফলে উদ্ভিদদেহে খাদ্য সঞ্চিত হয়, ফলে দেহের বৃদ্ধি ঘটে। শাকসবজি, ফলমূল প্রভৃতি উৎপাদন তাই পরোক্ষভাবে সালোকসংশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল।

(৫) মানবসভ্যতা : উদ্ভিদ থেকেই নানা প্রকার গৃহোপকরণ, বস্ত্র, ওষুধ প্রভৃতি তৈরি হয়। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ হলে মানবসভ্যতা নিঃসন্দেহে ব্যাহত হবে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা বলা চলে, জীবনের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ নির্ভর করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার ওপর।


মন্তব্য