kalerkantho


এইচএসসি প্রস্তুতি

বাংলা প্রথম পত্র

জীবন ও বৃক্ষ
মোতাহের হোসেন চৌধুরী

মো. শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজ, খিলগাঁও, ঢাকা   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাংলা প্রথম পত্র

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

 

১।         ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের লেখক মানবের সাধনা কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন এবং কেন?

            উত্তর : ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধের লেখক মানবের সাধনা বৃক্ষের মতো উত্সর্গীকৃত হওয়া উচিত বলে মনে করেন।

কারণ এখানে মানবকল্যাণ নিহিত।

 

            মোতাহের হোসেন চৌধুরী ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে বৃক্ষের সঙ্গে মানবজীবনের বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরেছেন। বৃক্ষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সব সময় মানবকল্যাণ বা পরের কল্যাণ করে।

            পরের কল্যাণে নিজেকে উত্সর্গ করতে পারলে বৃক্ষ নিজেকে সার্থক মনে করে। লেখক সমাজে বসবাসরত এমন এক শ্রেণির মানুষকে বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যারা নিজেদের কথা না ভেবে পরোপকারে সদা নিজেদের ব্যস্ত রাখে।

            এক শ্রেণির মানুষ কল্যাণকামী হওয়ায় মানবতার আসনে চিরদিন সম্মানিত হয়। বৃক্ষ যেমন ফুল, ফল, লতাপাতাসহ সব কিছু পরোপকারে দান করে নিজেকে সার্থক করে, ঠিক তেমনি কল্যাণকামী মানুষও পরোপকারে নিজেকে উত্সর্গ করে নিজ জীবনের সার্থকতা খুঁজে পায়।

 

২।         ‘সাধনার ব্যাপারে প্রাপ্তি একটি বড় জিনিস’—ব্যাখ্যা করো।

            উত্তর : পরোপকারে নিজেকে উত্সর্গ করার মাধ্যমে যে আনন্দ পাওয়া যায়, তা হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে ব্যাপক সাধনার প্রয়োজন। সাধনা দিয়ে প্রাপ্তির চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর নেই।

 

            ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে বৃক্ষ মানবজীবনের আদর্শের প্রতীক হয়ে আছে। প্রকৃতির অফুরন্ত আশীর্বাদে বৃক্ষ যা কিছু লাভ করে তা সর্বস্ব পরোপকারে বিসর্জন দিয়ে থাকে। দানের মাধ্যমেই বৃক্ষ প্রাপ্তির অনাবিল সুখ খুঁজে পায়। যেসব মানুষ বৃক্ষের আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে পরোপকারে নিজেদের ব্যস্ত রাখে, তারাও সহানুভূতি নিয়ে তৃপ্ত থাকে। একমাত্র পরের কল্যাণকে জীবনের শ্রেষ্ঠ অবলম্বন হিসেবে তারা গ্রহণ করে। প্রাপ্তির সব কিছু দানে তৃপ্ত থাকতে হলে নিরবচ্ছিন্ন সাধনার প্রয়োজন। কেননা সাধনার দ্বারা যা কিছু লাভ করা যায়, তা নিঃসন্দেহে একটি বড় প্রাপ্তি। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর নেই।

 

৩।        প্রাবন্ধিক জীবনকে বৃক্ষের মতো করে তুলতে বলেছেন কেন?

            উত্তর : বৃক্ষের বৃদ্ধি, বিকাশ, ফুল ও ফলে সমৃদ্ধ হওয়া অপরের কল্যাণের তরে হয়ে থাকে, যা মানবজীবনাদর্শের প্রতীকস্বরূপ।

            তাই প্রাবন্ধিক জীবনকে বৃক্ষের মতো করে তুলতে বলেছেন।

            জীবন বৃক্ষের শাখায় যে ফুল ফোটে তা-ই মনুষ্যত্ব। মানবজীবনের চঞ্চলতা ও গতিময়তার মধ্যে তার বৃদ্ধি ও বিকাশ পরিলক্ষিত হয়। মানুষের বৃদ্ধির ওপরে তাই তার হাত রয়েছে। এ বৃদ্ধি শুধু দৈহিক নয়, বরং আত্মিকও। মানুষকে প্রস্তুত হতে হয় অপরের সেবার জন্য। বৃক্ষের দিকে তাকালে তার বৃদ্ধি ও বিকাশকে উপলব্ধি করা যায়। তার এ বিকাশ শুধু অপরের কল্যাণার্থে। আর এ কারণেই প্রাবন্ধিক জীবনকে বৃক্ষের মতো করে তুলতে বলেছেন।


মন্তব্য