kalerkantho


এইচএসসি প্রস্তুতি ► সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

আবুল কালাম আল মাহমুদ, প্রভাষক, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, বরিশাল   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এইচএসসি প্রস্তুতি ► সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

 

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

হামিদুল স্যার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ দিতে গিয়ে শুধু বইয়ের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি আরো বলেন, সভ্যতা মূলত সংস্কৃতিরই একটি বিশেষ যুগ।

ক) লেখা আবিষ্কার হয় কোন প্রত্নতাত্ত্বিক যুগে?

খ) শহুরে মানুষেরা আত্মকেন্দ্রিক—ব্যাখ্যা করো।

গ) তুমি কী মনে করো উদ্দীপকে উল্লিখিত উদাহরণ দিয়ে সংস্কৃতির দুটি প্রকরণকেই বোঝানো যায়? যুক্তি দাও।

ঘ) উদ্দীপকে হামিদুল স্যার সংস্কৃতির সঙ্গে সভ্যতার যে সম্পর্কের কথা বলেছেন তার সঠিকতা প্রমাণ করো।

উত্তর :

ক) লেখা আবিষ্কার হয় লৌহ যুগে।

খ) শহুরে মানুষ পাশাপাশি বাস করলেও তাদের মধ্যে তেমন পরিচয় ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকে না বলে তারা আত্মকেন্দ্রিক হয়। শহর হচ্ছে গতিময় ও নিত্য পরিবর্তনশীল বিকাশমুখী জীবনযাত্রার মূর্ত প্রতীক। শহুরে মানুষ সবাই যার যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এ কারণে শহুরে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক এতটা অন্তরঙ্গ নয়। শহরে মূলত মানুষ নিজের আবশ্যককে চায়, পরস্পরকে চায় না।

তাই বলা যায়, শহুরে মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকে।

গ) হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকে উল্লিখিত উদাহরণ, তথা বই দিয়ে সংস্কৃতির দুটি প্রকরণকেই বোঝানো যাবে। সংস্কৃতির প্রকরণ দুই ধরনের। যথা—বস্তুগত ও অবস্তুগত। মানুষ তার জীবনযাপনের জন্য বস্তুগত যা কিছু তৈরি ও ব্যবহার করে তা বস্তুগত সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে। বস্তুগত সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের কিছু গুণগত সাফল্য, যার মাধ্যমে প্রধানত বোঝা যায়—মানুষ প্রকৃতিকে কতটুকু আয়ত্তে এনেছে। অন্যদিকে মানুষের সংস্কৃতি যখন বস্তু আকারে প্রকাশিত হয় না বা বাস্তবরূপ ধারণ করে না, তাকে বলা হয় সংস্কৃতির অবস্থাগত প্রকরণ। উদ্দীপকে হামিদুল স্যার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ দিতে গিয়ে শুধু বইয়ের কথা উল্লেখ করেন, যা সংস্কৃতির দুটি প্রকরণ, তথা বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতিকে বোঝায়। বইটি বস্তু হিসেবে যেমন বস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ, তেমনি বইয়ের ভেতরে লেখার যে বিষয়বস্তু তা মানুষের জ্ঞান, ধারণা, কৌশল, চিন্তাভাবনা, সাহিত্য দর্শন, আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রভৃতিকে ধারণ করায় তা অবস্তুগত সংস্কৃতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলা যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত উদাহরণ, তথা বই দিয়ে সংস্কৃতির দুটি প্রকরণকেই বোঝানো যাবে।

ঘ) উদ্দীপকে হামিদুল স্যার সভ্যতাকে সংস্কৃতিরই একটি বিশেষ রূপ উল্লেখ করে সংস্কৃতির সঙ্গে সভ্যতার বিশেষ সম্পর্কের কথা বলেছেন। সংস্কৃতি ও সভ্যতা আত্মনির্ভরশীলও বটে। যেমন—সংস্কৃতির দুটি অংশ বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতি, আবার বস্তুগত সংস্কৃতির চরম বিকাশই সভ্যতা। অন্যদিকে সংস্কৃতির উপাদান যেমন সভ্যতার উপাদান দ্বারা প্রভাবিত, তেমনি সভ্যতার উপাদানও সংস্কৃতির বিভিন্ন উপকরণের দ্বারা অনেকখানি প্রভাবিত। এ জন্য সংস্কৃতিকে সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি বলা হয়। এ প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার ও পেজ বলেন, সভ্যতা যদি দেহ হয়, তবে আত্মা হলো সংস্কৃতি। অনেক সমাজবিজ্ঞানী বস্তুর ব্যবহারিক দিক ও কলাকৌশলকে সংস্কৃতি বলেছেন। এমনকি বস্তুকেও তাঁরা সংস্কৃতি থেকে বাদ দেননি। আর তাঁদের মতে, মানুষের বিমূর্ত চিন্তার ফসল হলো সভ্যতা। আবার মানুষের চিন্তা যেহেতু সংস্কৃতির উপাদান, তাই বলা যায়, সংস্কৃতির একটি বিশেষ রূপ হলো সভ্যতা। উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে সভ্যতা মূলত সংস্কৃতিরই একটি বিশেষ রূপ।


মন্তব্য