kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সৃজনশীল প্রশ্ন

তাহেরা খানম,সহকারী শিক্ষক,মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ,ঢাকা   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রথম অধ্যায় : ঔপনিবেশিক যুগ ও

 বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম

 

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

মাসুম একজন প্রবাসী। সে যে দেশে বসবাস করে, সে দেশের বেশির ভাগ সম্পদ ও উত্পাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। বেশির ভাগ শিল্প-কারখানা ও উত্পাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি নির্দেশে পরিচালিত হয়। কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কিভাবে এবং কার জন্য উত্পাদিত হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে।

(ক) অ্যাডাম স্মিথ কোন দেশের অর্থনীতিবিদ ছিলেন?

(খ) প্রান্তিক চিন্তা কী?

(গ) মাসুম যে দেশটিতে বসবাস করে সে দেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) ওই অর্থব্যবস্থা কি একটি কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থা? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর : (ক) অ্যাডাম স্মিথ ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ ছিলেন।

(খ) মানুষ একটি কাজ করার পর যদি ভাবে আরেকটু ভালো করলে তার ফল আরো ভালো হতো—তার এই চিন্তাকে প্রান্তিক চিন্তা বলে।

মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে। উদাহরণ—সুমি একটি বিষয়ে ‘এ’ গ্রেড পেল। তার কাছে মনে হলো আরেকটু  পড়লেই সে এ-প্লাস পেত।

সুমির এই অল্প একটু কম পড়াই হচ্ছে তার প্রান্তিক চিন্তা।

(গ) মাসুম যে দেশটিতে বসবাস করে সে দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।

যে অর্থব্যবস্থায় উত্পাদন, বণ্টন, বিনিময়, ভোগ প্রভৃতি সরকারের নির্দেশে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থব্যবস্থায় সমাজের বেশির ভাগ সম্পদ ও উত্পাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে, বেশির ভাগ শিল্প-কারখানা ও উত্পাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কিভাবে এবং কার জন্য উত্পাদিত হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দেয়।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে মাসুম যে দেশে বসবাস করে সে দেশের অর্থনীতিতে সমাজের বেশির ভাগ সম্পদ ও উত্পাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতেও বেশির ভাগ সম্পদ (জমি, কলকারখানা, খনি ইত্যাদি) ও উত্পাদনের উপাদানগুলোর মালিক হলো সরকার। অর্থাৎ সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানা বজায় থাকে। এ অর্থব্যবস্থায় সরকার দেশের উত্পাদন ও বণ্টনসহ অন্যান্য সব কাজ করে থাকে। কেন্দ্র বা সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে সব পরিকল্পনা করে থাকে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত উত্পাদিত দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা ইচ্ছাকৃত অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থব্যবস্থার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ মিল লক্ষ করা যায়। সুতরাং বলতে পারি, মাসুম যে দেশে বসবাস করে, সে দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।  

(ঘ) আমি মনে করি ওই অর্থব্যবস্থা বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা একটি কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থা।

যে অর্থব্যবস্থায় মানুষের কল্যাণ হয়, অর্থাৎ যে অর্থব্যবস্থা মানুষের অভাব-অনটন দূর করে, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমায়, দেশ ও জাতির অর্থনৈতিক উন্নতি করে, তাকেই কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থা বলা হয়।

উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মাসুম যে দেশে বসবাস করে, সে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন, যা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার আওতায় পড়ে। এ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সব নাগরিক যাতে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে এ উদ্দেশ্যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার লক্ষ্যই জনগণের কল্যাণ করা। এ অর্থব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের কোনো বিশেষ শ্রেণি যেন অর্থনৈতিকভাবে বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে না পারে। কারণ বিশেষ শ্রেণি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠলে আরেকটি অবহেলিত ও বৈষম্যপূর্ণ শ্রেণির উদ্ভব হবে। ফলে রাষ্ট্রের কোনো কোনো নাগরিক সুখে, স্বাচ্ছন্দ্যে, ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকবে এবং আরেকটি শ্রেণির জীবন হবে দুঃখভারাক্রান্ত, যা মোটেই কাম্য নয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রের সব নাগরিককে সমানভাবে সুখে-শান্তিতে রাখার জন্য এবং সবার কল্যাণ সাধনের জন্য সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বিকল্প নেই। তবে এ অর্থব্যবস্থার লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ সাধন হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাবও লক্ষ করা যায়। এ অর্থব্যবস্থায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে উত্পাদন পরিচালিত হওয়ায় সেখানে বহুসংখ্যক বেসরকারি উদ্যোক্তার অবাধ প্রতিযোগিতা থাকে না। যে কারণে এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে না। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়।

 

ওপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার কিছুটা নেতিবাচক দিক থাকলেও সামগ্রিক বিচারে এটি একটি কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থা।


মন্তব্য