kalerkantho


এইচএসসি প্রস্তুতি পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. শফিকুল ইসলাম, প্রভাষক, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নিচের উদ্দীপকটি মনোযোগসহ পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

‘ক’ নামক দেশটি একটি উন্নয়নশীল দেশ। সেখানে আইনের শাসনের অনুপস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা বিদ্যমান। দাতা সংস্থা ও দাতা দেশগুলোর সাহায্যের পূর্বশর্ত হিসেবে এসব সমস্যা সমাধান করে দেশ সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও সচেতন জনগোষ্ঠীর মাঝেও এ ব্যাপারে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

    (ক) শুদ্ধাচার কী?

    (খ) আইনের শাসন বলতে কী বোঝায়?

    (গ) সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ‘ক’ দেশটির বিদ্যমান সমস্যা ব্যাখ্যা করো।

    (ঘ) ওই সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিকের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর :

(ক) সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষকে শুদ্ধাচার বলে।

 (খ)    সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকার সংরক্ষণকে আইনের শাসন বলে। আইনের শাসন জনগণের অধিকার আদায়ের রক্ষাকবচ। আইনের শাসনের তিনটি ভিত্তির কথা বলা হয়েছে—

ক. আইনের চোখে সবাই সমান, খ. আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগযোগ্য, গ. সবাই সমানভাবে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী।

 

(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে ‘ক’ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশটি শাসনব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়নে যথেষ্ট সচেতন, তা সত্ত্বেও উন্নয়নের পথে তারা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা থেকে ‘ক’ দেশটি নিম্নোক্ত সমস্যাবলির সম্মুখীন হচ্ছে—

১.আইনগত কাঠামোর অনুপস্থিতি : উপযুক্ত আইনগত কাঠামো একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র, আইনের শাসন ইত্যাদি প্রথাগত আইনের মাধ্যমে উপস্থিত থাকা উচিত। তাহলেই দেশটি দাতা সংস্থা ও দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবে।

২.রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা : উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় দেখা গেছে যে ‘ক’ দেশটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিদ্যমান। এটি একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বড় বাধা। তা রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

৩.সন্ত্রাস ও দুর্নীতি : দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লিখিত অন্তরায়। জাতীয় উন্নয়নের জন্য দেশকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো বিপদে কিংবা সাহায্য-সহযোগিতায় উন্নত দেশগুলো তাদের ভূমিকা পালনে সচেষ্ট হবে।

সর্বোপরি দেশের জনগোষ্ঠী এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে সচেতন হয়ে নিজের দেশকে ভালোবেসে দেশের উন্নয়নে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে হবে।

(ঘ)উদ্দীপকের আলোচনায় দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক সংগঠন ও দেশের জনগোষ্ঠীর অসচেতনতার কারণে দেশটি পিছিয়ে পড়েছে। নিজেদের দক্ষতার অভাব ও বিভিন্ন জটিলতায় দেশটি এমনভাবে জড়িয়ে পড়েছে যে দাতা সংস্থাগুলোও তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সংকোচ বোধ করছে। এসব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ও যথাযথ ভূমিকা এবং দেশের নাগরিকদের নিজের দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সচেতন হওয়া। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম রাজনৈতিক দলগুলোর সচেতনতার প্রয়োজন। তারা নিজেদের সদিচ্ছার মাধ্যমে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশের নাগরিকদের মধ্যে অসচেতনতার সমস্যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি বিরাট প্রতিবন্ধকতা। ‘ক’ দেশটির সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দেশটির জনগণের নিজেদের আগ্রহ ও কার্যকর অংশগ্রহণ থাকা বাঞ্ছনীয়। শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে। জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সব দিক বিবেচনা করে তারপর তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণের উদাসীনতা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কার্যকর সহজতর হয় শুধু শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থায়। রাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশই সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দান করতে পারে। উচ্চ নৈতিকতা বোধসম্পন্ন জাতি সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে। জনগণকে অবশ্যই সরকারি কর্মকাণ্ডে যাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। সর্বোপরি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য জনকল্যাণকামী  জনমতের ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।


মন্তব্য