kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি চারু ও কারুকলা

পাঠ প্রস্তুতি

মো. জাকির হোসেন,সিনিয়র শিক্ষক,বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা, ঢাকা   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অষ্টম শ্রেণি চারু ও কারুকলা

উয়ারী-বটেশ্বর, নরসিংদী

১। মাটি খুঁড়ে কোন কোন প্রাচীন জনপদ আবিষ্কৃত হয়েছে? জনপদগুলো ধ্বংস হওয়ার কারণ বর্ণনা করো।

উত্তর : বাংলাদেশে মাটির স্তূপ ও গড় অঞ্চল খনন করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন বাংলার কিছু জনপদ আবিষ্কৃত হয়। এগুলো হলো রাজশাহীর পাহাড়পুর, কুমিল্লার ময়নামতি, বগুড়ার মহাস্থানগড়, নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার নাটেশ্বর সভ্যতা।

কয়েক হাজার বছর ধরেই প্রাচীন বাংলা অঞ্চল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজা ও শাসকদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। তাদের মহলে তখন শিল্পকলার চর্চা ছিল। কিন্তু এক অঞ্চলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের রেষারেষি ও যুদ্ধবিগ্রহ সব সময় লেগেই ছিল। পরাজিত অঞ্চল লুট করা, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া, ধ্বংস করে দেওয়া—এসব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। তাই কোনো কোনো অঞ্চল বিরান অর্থাৎ মানবশূন্য হয়ে যেত। দীর্ঘদিন বিরান থেকে একসময় মাটিচাপা পড়ে যেত। যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত ঝড়ঝঞ্ঝা, ভূমিকম্পসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও একসময় সেগুলো মাটির নিচে চাপা পড়ে যেত।

এর ফলে প্রাচীন বাংলার অনেক শিল্পকর্মই প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।

 

২। ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত উল্লেযোগ্য কালো পাথরের ভাস্কর্য সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে বেশ কিছু প্রাচীন জনপদ আবিষ্কৃত হয়। সেসব জনপদ থেকেই প্রাচীন বাংলার কিছু কিছু শিল্পকলার নিদর্শন উদ্ধার করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আবিষ্কৃত সেসব শিল্পকর্ম ঢাকার জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তার মধ্যে শিল্পনৈপুণ্যে ও কারুকার্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কষ্টিপাথর বা কালো পাথরের তৈরি মূর্তি।

কালো পাথরের মূর্তিগুলোর মধ্যে অশোক, অজন্তা, দশভুজা, দশরথের মূর্তিই প্রধান। অজন্তা একটি নারী মূর্তি। এটি হিন্দু ধর্মালম্বীদের কাছে সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত। কালো পাথর কেটে, খোদাই করে মূর্তিটির গায়ে পোশাক-পরিচ্ছদ ও বিভিন্ন অলংকারের আকৃতি রয়েছে। পাল রাজা প্রথম মহিপালের আমলে নির্মিত একটি অনিন্দ্যসুন্দর শিল্পমণ্ডিত কালো পাথরে মূর্তি গণেশ। এ ছাড়া এরূপ আরো কিছু কষ্টিপাথরের তৈরি মূর্তি বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে এগুলো প্রাচীন বাংলার শিল্পকলার এক অনবদ্য নিদর্শন এবং মহামূল্যবান সম্পদ।


মন্তব্য