kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সৃজনশীল প্রশ্ন

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

উদ্দীপকটি পড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

আফ্রিকার একটি দেশ উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চল নিয়ে গঠিত। উত্তরাঞ্চলের লোকজন চায় দেশটি দক্ষিণাঞ্চলীয় অত্যাচারী শাসকদের হাত থেকে মুক্ত হোক।

তাই দেশটিতে কয়েকটি দল জনগণের চেতনা বৃদ্ধিতে কাজ করে। এসব দলের অনেক নেতা বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং অনেকে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, উপযোগিতা এবং এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণয়ন করেন।

ক. মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

খ. বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চীনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যাঁদের অবদানের মিল রয়েছে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তাঁদের অবদান ব্যাখ্যা করো।

ঘ. তুমি কী মনে করো, রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন? সপক্ষে যুক্তি দাও।

 

উত্তর :

ক. মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় আম্রকাননে মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

খ. বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চীনের ভূমিকা ছিল নেতিবাচক। বাংলাদেশের সঙ্গে তখন চীনের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। চীন ভারত-রাশিয়ার বিরোধী অবস্থানে ছিল।

তখন পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এ কারণে গণচীন আমাদের মুক্তি সংগ্রামে পাকিস্তানকে সর্বাত্মক সাহায্য করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের একুশে আগস্ট জাতিসংঘের সদস্যপদ প্রদানের প্রস্তাবে চীন ভেটো প্রদান করে। তাই দেখা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে চীন বাংলাদেশের শত্রুপক্ষকে সাহায্য করে নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক দলের অবদানের মিল রয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রথমে পূর্ব বাংলাার জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে সংগঠিত করে। ২৫ মার্চের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংগঠিত হয়ে সরকার গঠন, মুক্তিবাহিনী গঠন, বিদেশে জনমত সৃষ্টি ও সমর্থন আদায়, যুদ্ধের অস্ত্র সংগ্রহ এবং জনগণের মনোবল অটুট রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার ক্ষেত্রে শক্তি, মেধা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে সক্ষম হন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদান, ভারতে এক কোটি শরণার্থীর ত্রাণ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলা যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ ছাড়াও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—ন্যাপ (ভাসানী), ন্যাপ (মোজাফফর), কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় কংগ্রেস ইত্যাদি। এসব দলের নেতা ও কর্মীরা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

ঘ. হ্যাঁ, আমি মনে করি, রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করেন রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ প্রথমে পূর্ব বাংলার জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে সংগঠিত করে। এরপর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর জনগণকে স্বাধীনতা আনয়নে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতাযুদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়ে জনগণ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাংলাদেশ সরকার গঠন করে। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাকে ১০ এপ্রিল ১৯৭১ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে। এত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, উপযোগিতা এবং এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রণীত হয়। ২৫ মার্চের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংগঠিত হয়ে সরকার গঠন, মুক্তিবাহিনী গঠন, বিদেশে জনমত সৃষ্টি ও সমর্থন আদায়, যুদ্ধের অস্ত্র সংগ্রহ এবং জনগণের মনোবল অটুট রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার ক্ষেত্রে শক্তি, মেধা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে সক্ষম হন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সমর্থনে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, পিডিপিসহ কিছু দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে। দলগুলো শান্তি কমিটি, রাজাকার, /আলবদর-আলশামস নামের বিশেষ বাহিনী গঠন করে। এসব বাহিনী হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, নারীর সম্ভ্রমহানির মতো মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। স্বাধীনতাবিরোধী এ বাহিনীগুলো মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাঙালিদের মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। রাজনৈতিক দলগুলো এসব ঘৃণ্য অপরাধীদের প্রতিহত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায়, রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।


মন্তব্য