kalerkantho


এসএসসি প্রস্তুতি পৌরনীতি ও নাগরিকতা

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর, ঢাকা   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নাগরিক ও নাগরিকতা

১। জন্মস্থান নীতি অনুসারে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী সন্তান যে দেশে জন্মগ্রহণ করবে, সে সেই দেশের নাগরিক হবে।

এ নীতি অনুসারে পিতা-মাতা যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেন, সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ওই রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। যেমন—বাংলাদেশি পিতা-মাতার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকতা নির্ধারণে রাষ্ট্রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ নীতি অনুসারে কোনো মা-বাবার সন্তান অন্য দেশের জাহাজ বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করলেও জাহাজ বা দূতাবাস যে দেশের, সে ওই দেশের নাগরিক হবে।

২। অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : কতগুলো শর্ত পালনের মাধ্যমে এক রাষ্ট্রের নাগরিক অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করলে তাকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলা হয়।

সাধারণত অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত পালন করতে হয়, সেগুলো হলো—১) সেই রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা ২) সরকারি চাকরি করা ৩) সততার পরিচয় দেওয়া ৪) সে দেশের ভাষা জানা ৫) সম্পত্তি ক্রয় করা ৬) দীর্ঘদিন বসবাস করা ৭) সেনাবাহিনীতে যোগদান করা।

রাষ্ট্রভেদে এসব শর্ত ভিন্ন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি যদি এসব শর্তের এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করে, তবে তাকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়। আবেদন ওই রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক গৃহীত হলে অনুমোদনসূত্রে নাগরিকে পরিণত হয়।

৩। দ্বৈত নাগরিকতা কাকে বলে?

উত্তর : এক ব্যক্তির একই সঙ্গে দুটি দেশের নাগরিকতা অর্জনকে দ্বৈত নাগরিকতা বলে।

সাধারণত একজন ব্যক্তি একটিমাত্র রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জনের সুযোগ পায়। তবে জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের দুটি নীতি থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন—বাংলাদেশ নাগরিকতা নির্ধারণে জন্মনীতি অনুসরণ করে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জন্মনীতি ও জন্মস্থান উভয় নীতি অনুসরণ করে। কাজেই বাংলাদেশের পিতা-মাতার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তান জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে। আবার জন্মনীতি অনুযায়ী সে বাংলাদেশের নাগরিকতা অর্জন করবে। এ ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকতার সৃষ্টি হবে।

৪। সুনাগরিক বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : বুদ্ধি-বিবেক সম্পন্ন ও আত্মসংযমী নাগরিকদের সুনাগরিক বলা হয়।

রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়। আমাদের মধ্যে যে বুদ্ধিমান, যে সব সমস্যা অতি সহজে সমাধান করতে পারে, যার বিবেক আছে, যে ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে, আর যে আত্মসংযমী, যে বৃহত্তর স্বার্থে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করতে পারে—এসব গুণসম্পন্ন নাগরিকদের বলা হয় সুনাগরিক।

৫। নাগরিক অধিকার কী?

উত্তর : নাগরিক অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা।

অধিকার ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। অধিকার ছাড়া মানুষ তার ব্যক্তিত্বকে উপলব্ধি করতে পারে না। অধিকারের মূল লক্ষ্য ব্যক্তির সর্বজনীন কল্যাণ সাধন। রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য অধিকার অপরিহার্য।

৬। নাগরিকের নৈতিক অধিকার কী?

উত্তর : মানুষের বিবেক ও সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে যে অধিকার আসে তাকে নৈতিক অধিকার বলে।

নৈতিক অধিকারের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। যেমন— দুর্বলকে সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না। যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তা ছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

৭। নাগরিকের আইনগত অধিকার কী?

উত্তর : যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।

আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন—সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার। সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি। যেমন—জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি। নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সব ধরনের অভাব-অভিযোগের আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া—এগুলো রাজনৈতিক অধিকার। আবার জীবনধারণ, জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার প্রভৃতি হচ্ছে নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকার। এসবই নাগরিকের আইনগত অধিকার।

৮। তথ্য অধিকার আইন কী?

উত্তর : জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন একটি যুগান্তকারী আইন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত তথ্য অধিকার আইনটি ৫ এপ্রিল ২০০৯ (২২ চৈত্র, ১৪১৫) তারিখে রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে এবং এ আইনটি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করা হয়। এ আইনটি চালু হওয়ার আগে যেসব তথ্য গোপন ছিল, জনগণ তা জেনে নিজেদের অধিকার যেমন ভোগ করতে পারবে, তেমনি সেসব প্রতিষ্ঠানের কাজের ওপর নজরদারি স্থাপন করে, তাদের কাজকে আরো নিয়মতান্ত্রিক ও সত্যনিষ্ঠ করে তুলতে পারবে। জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্য অধিকার আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৯। নাগরিক বলতে কী বোঝো?

উত্তর : যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রতি কিছু সুনির্দিষ্ট অধিকার ভোগ করে ও কর্তব্য পালন করে তাকে নাগরিক বলে।

আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কারণ আমরা এ দেশে জন্মগ্রহণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছি, রাষ্ট্র প্রদত্ত সব ধরনের অধিকার, যেমন—সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করছি এবং রাষ্ট্রের প্রতি বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করছি। সুতরাং আমরা বলতে পারি, যে ব্যক্তি কোনো রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে, রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে, তাকে ওই রাষ্ট্রের নাগরিক বলে।

১০। নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি কী কী?

উত্তর : নাগরিকতা অর্জনের দুটি পদ্ধতি রয়েছে।

যেমন—ক. জন্মসূত্রে ও খ. অনুমোদনসূত্রে।

জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে দুটি নীতি অনুসরণ করা হয়—

(১) জন্মনীতি ও (২) জন্মস্থান নীতি।

জন্মনীতি অনুযায়ী পিতা-মাতার নাগরিকতা দ্বারা সন্তানের নাগরিকতা নির্ধারিত হয় এবং জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী পিতা-মাতা যে দেশেরই নাগরিক হোন না কেন, সন্তান যে রাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করবে সে ওই রাষ্ট্রের নাগরিকতা লাভ করবে।


মন্তব্য