kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সৃজনশীল প্রশ্ন

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উদ্দীপকটি পড়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

সাদিকদের দেশ প্রায় ২০০ বছর অন্য একটি সাম্রাজ্যবাদী দেশের অধীনে পরিচালিত হয়েছিল।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট এ দেশটি সাম্রাজ্যবাদী দেশের অধীন থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন একটি দেশের পূর্বাঞ্চল, তথা একটি প্রদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু পশ্চিম অংশের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব প্রদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতিকে সব সময় নিজেদের করায়ত্ত করে রাখে। ফলে পূর্ব প্রদেশের জনগণ প্রথমে নিজেদের ভাষা রক্ষার আন্দোলন শুরু করে এবং কালক্রমে এ আন্দোলন তাদের জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়।

ক.কে দ্বিজাতিতত্ত্ব প্রবর্তন করেন?

খ.ছয় দফা কর্মসূচির পটভূমি ব্যাখ্যা করো।

গ.সাদিকদের দেশের সঙ্গে পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থানের মিলগুলো ব্যাখ্যা করো।

ঘ.তুমি কী মনে করো, এ ধরনের আন্দোলন সর্বপ্রথম ছাত্ররাই সূচনা করেছিল? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।

 

উত্তর :

ক.মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতিতত্ত্ব প্রবর্তন করেন।

খ.পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম সুস্পষ্ট রূপ লাভ করে ছয় দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে যোগদান করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান।

সেখানে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য ছয় দফা তুলে ধরেন।

গ.সাদিকদের দেশের সঙ্গে পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থানের বেশ কিছু মিল আছে। সাদিকদের দেশ অন্য একটি সাম্রাজ্যবাদী দেশের অধীনে প্রায় ২০০ বছর পরিচালিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট দেশটি সাম্রাজ্যবাদী দেশের অধীন থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন একটি দেশের পূর্বাঞ্চল তথা একটি প্রদেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অনুরূপভাবে পাঠ্যপুস্তকে দেখতে পাই, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। জন্ম নেয় দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। একটি ভারত অন্যটি পাকিস্তান। জিন্্াহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়। পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ক্ষেত্রে আমরা সাদিকদের সঙ্গে পূর্ব বাংলার অন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থানের মিল লক্ষ করতে পারি। উদ্দীপক থেকে আরো দখতে পাই, সাদিকদের দেশের পশ্চিম অংশের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব প্রদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতিকে সব সময় নিজদের করায়ত্ত করে রাখে। ফলে পূর্ব প্রদেশের জনগণ প্রথমে নিজেদের ভাষা রক্ষার আন্দোলন শুরু করে এবং কালক্রমে এ আন্দোলন তাদের জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়। এ বৈশিষ্ট্যগুলোও পাঠ্যপুস্তকের সঙ্গে মিল রয়েছে। পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। পূর্ব বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে। এর বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তোলে। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু করে। ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়। পরিশেষে বলা যায়, সাদিকদের দেশের সঙ্গে পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থানে উল্লিখিত মিলগুলো লক্ষ করা যায়।

ঘ.হ্যাঁ, আমি মনে করি, এ ধরনের আন্দোলন সর্বপ্রথম ছাত্ররাই সূচনা করেছিল। ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে ছাত্ররা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ পালনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। ’ ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনেও তিনি অনুরূপ ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে এবং ‘না না’ বলে তার উক্তির প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই পূর্ব বাংলায় ভাষাকেন্দ্রিক যে আন্দোলন শুরু হয় তা ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি আস্থার বহিঃপ্রকাশ। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষার মাধ্যমে পূর্ব বাংলার জনগণ জাতীয়ভাবে নিজেদের বিকাশের গুরুত্ব বুঝতে পারে। এ ভূখণ্ডে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রভাষা উর্দু নয় বরং বাংলাকে সমর্থন করে। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহকে অনুকরণ করে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। এটা প্রমাণিত যে ভাষা আন্দোলনে ছাত্ররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে, যা পরবর্তী সময়ে বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে।


মন্তব্য