kalerkantho


এইচএসসি : পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো. শফিকুল ইসলাম, প্রভাষক, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ড. সুলতান মাহমুদ রানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি পাঠদানকালে এক শিক্ষার্থী প্রশ্ন করে, স্যার, পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক কী? মি. রানা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, পৌরনীতির সঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের যেমন সাদৃশ্য রয়েছে তেমনি দুটি বিষয়ের মধ্যে বৈসাদৃশ্যও রয়েছে। এ দুটি বিষয়ের একটি ছাড়া অন্যটি নিষ্প্রাণ। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ছাড়াও অন্যান্য সামাজিকবিজ্ঞানের সঙ্গে পৌরনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ক. ‘সিভিটাস’ শব্দের অর্থ কী?

খ. সুশাসন বলতে কী বোঝো?

গ. উদ্দীপকে মি. রানা কর্তৃক আলোচিত পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে যেসব সাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক তুলে ধরেন, তা উপস্থাপন করো।

ঘ. উদ্দীপকে আলোচিত বিষয় দুটির মধ্যে তুমি যেসব বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক দেখতে পাও, তা আলোচনা করো।

 

উত্তর

ক. ‘সিভিটাস’ শব্দের অর্থ ‘নগররাষ্ট্র’।

খ. সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন। জনগণের অংশগ্রহণমূলক আইনের শাসন ও অবাধ তথ্য প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের উন্নত সেবা পাওয়ার অধিকার সুশাসন নিশ্চিত করে। আইনের শাসন : গণতান্ত্রিক সরকার, ই-গভর্নেন্স, দক্ষ আমলাতন্ত্র, স্বাধীন বিচার বিভাগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি সুশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামক।

গ. উদ্দীপকে মি. রানা কর্তৃক আলোচিত পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে যেসব সাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক রয়েছে সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো :

পৌরনীতি ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Civics’ শব্দটি এসেছে দুটি লাতিন শব্দ ‘Civics’ ও ‘Civitas’ থেকে। এদের অর্থ যথাক্রমে নাগরিক ও নগররাষ্ট্র। তাই পৌরনীতির অর্থ নগররাষ্ট্রের নাগরিকদের উত্তম উপায়ে শাসন করা। অপর পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Political Science’ শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ Polities ও Polis থেকে। এদের ও নগররাষ্ট্রের শাসন প্রণালী সম্পর্কে আলোচনা। তাই অর্থগত দিক থেকে এর পরস্পর অভিন্ন। পৌরনীতির আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে পড়ে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, জাতি ও জাতীয়তা, আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান প্রভৃতি। অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, জাতি ও জাতীয়তা, আইন ইত্যাদি। তাই পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে বিষয়বস্তুর দিক থেকে মিল রয়েছে।

পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা-বিষয়ক বিজ্ঞান আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রকেন্দ্রিক বিজ্ঞান হলেও এটি নাগরিকতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। তাই বলা যায়,  পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।

ঘ. উদ্দীপকে আলোচিত বিষয় দুটির মধ্যে আমি যেসব বৈসাদৃশ্যমূলক সম্পর্ক দেখতে পাই সে সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো :

পৌরনীতির আলোচনার ক্ষেত্র রাষ্ট্রবিজ্ঞান অপেক্ষা সংকীর্ণ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাজনৈতিক ব্যবস্থা, তুলনামূলক রাজনীতি, ক্ষমতাসহ মানুষের রাজনৈতিক জীবনের সব বিষয়ই আলোচনা করে। কিন্তু এসব বিষয় পৌরনীতিতে আলোচিত হয় না। এ ছাড়া পৌরনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোচনায় দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য রয়েছে। পৌরনীতি নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রাজনৈতিক পার্থক্য রয়েছে। পৌরনীতি নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রাজনৈতিক বিষয়াবলি আলোচনা করে। অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে রাজনৈতিক বিষয়াবলি আলোচনা করে। এ ছাড়া উভয় বিষয়ের মধ্যকার আলোচ্য বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য লক্ষ করা যায়। পৌরনীতি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, সুনাগরিকতা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রাষ্ট্রীয় সংগঠনগুলোর ওপর আলোচনায় গুরুত্ব দেয়।

তাই উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্যগত দিক থেকে উভয় শাস্ত্রের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হলেও তাদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান।


মন্তব্য