kalerkantho


এইচএসসি : পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মো: শফিকুল ইসলাম, প্রভাষক ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ মোহাম্মদপুর, ঢাকা   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



            নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

            ‘ক’ নামক দেশটি জনগনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে তা আইন সভায় পাস করে। উক্ত সংবিধান অনুসারে দেশটির জাতীয় ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত হবে।

সর্বজনীন ভোটাধিকার এর ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধির নির্বাচনের ব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের

            জনবল শাসন বিভাগের মাধ্যমে নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

(ক)       বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ কবে জারি করা হয়?

(খ)       দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলতে কী বোঝো?

(গ)       ‘ক’ দেশটির সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল সাদৃশ্যটি ব্যাখ্যা করো।

(ঘ)       ‘ক’ দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম-উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও।

 

উত্তর

(ক)       ১৯৭২ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়।

(খ)       দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলতে এমন সংবিধানকে বোঝায় যার কোনো ধারা সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। দুষ্পরিবর্তন মানে সহজে পরিবর্তনীয় নয়। এ ধরনের সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়। যেমন—বাংলাদেশের সংবিধান পরিবর্তনে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদাস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।

(গ)       উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ দেশটির সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল সাদৃশ্য হলো উভয় দেশেই সংসদীয় গণতন্ত্র বিদ্যমান।

সংবিধানে গণতন্ত্রকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে গণতন্ত্রের উপস্থিতির মৌলিক বিধান রাখা হয়েছে। উদ্দীপকের ‘ক’ দেশটির রাষ্ট্রটির সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা পরোক্ষভাবে বলা হয়েছে।

            বাংলাদেশের সংসদও গণতান্ত্রিক নিয়মে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। এখানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে দেশের শাসনকার্য পরিচালনার ভার অর্পণ করা হয়। এখানে জাতীয় সংসদ সমস্ত ক্ষমতার উৎস। যেটি জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা একক এবং যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকে। এ সরকার পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করেন অর্থাৎ সংসদীয় গণতন্ত্রের দিক থেকে উদ্দীপকের ‘ক’ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের সাদৃশ্য বিদ্যমান।

(ঘ)       উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ রাষ্ট্রের সংবিধানের তুলনায় নিম্নোক্ত বিশেষত্বগুলোর কারণে বাংলাদেশের সংবিধান উত্তম।

১.        বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো সুস্পষ্ট। কিন্তু উদ্দীপকের ‘ক’ রাষ্ট্রে এটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সুতরাং বাংলাদেশের সংবিধান বেশি সুস্পষ্ট।

২.        বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে মৌলিকভাবে মৌলিক অধিকারসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।

            যেটি উত্তম সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ‘ক’ রাষ্ট্রের সংবিধানে এমন কোনো বর্ণনা দেওয়া

            হয়নি।

৩.       বাংলাদেশ একটি প্রজাতান্ত্রিক দেশ। এর সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এটাও উত্তম

            সংবিধানের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

৪.        সাংবিধানিক প্রাধান্য নিশ্চিত করা উত্তম সংবিধানের জন্য আবশ্যক। যেটি বাংলাদেশে সংবিধানের

            ৭ নং অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে।

৫.       বিচার বিভাগের স্বাধীনতা উত্তম সংবিধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। ২০০৭ সালের ১

            নভেম্বর শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে বিচার

            বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


মন্তব্য