kalerkantho


অষ্টম শ্রেণি : বিজ্ঞান

সৃজনশীল প্রশ্ন

জ্যোতি ভূষণ বিশ্বাস, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



প্রশ্ন : রাহি, ফায়াত ও রাহাত তিন বন্ধু একদিন ঢাকার মিরপুরের চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন প্রাণী দেখতে যায়। তারা কুমিরের খাঁচার সামনে গিয়ে দেখে সেখানে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা পুকুরে অনেক সোনাব্যাঙ ছোটাছুটি করছে। এরপর তারা দেখে চিড়িয়াখানার ঝিলগুলো বিভিন্ন হাঁসজাতীয় পাখিতে পরিপূর্ণ। এগুলো দেখে তিন বন্ধুর মন আনন্দে ভরে ওঠে। আসার পথে তারা চিড়িয়াখানার জাদুঘরে তিমির হাড়ের গঠন দেখতে পায়। রাহাত হঠাৎ বলে ওঠে তিমি মাছ কত বড়। কিন্তু রাহি রাহাতকে বলে তিমি পানিতে থাকে কিন্তু এটি মাছ নয়।

(ক) পেস্ট কী?

(খ) তারা মাছকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে কেন?

(গ) উদ্দীপকে তিন বন্ধু জাদুঘরে প্রবেশের পূর্বে যে প্রাণীগুলো দেখেছিল তাদের শ্রেণিবিন্যাস ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) উদ্দীপকে রাহি রাহাতকে যে কথাটি বলেছে, তা প্রমাণ করো।

 

উত্তর :

(ক) আর্থ্রোপোডা পর্বের যেসব প্রাণী মানুষের জীবনযাত্রা বা ফসলের ক্ষতিকর, সেসব পোকাকে পেস্ট বলা হয়।

(খ) সাধারণত প্রাণীদের দৈহিক গঠন যদি এমন হয় যে একে একাধিকবার কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর সমানভাবে ভাগ করা যায়, তাদের অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে। যেহেতু তারা মাছের পাঁচটি সমান বাহু আছে; ফলে এটি একাধিকবার সমানভাবে বিভক্ত হয়। তাই একে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে।

(গ) বিজ্ঞানীরা প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু যে প্রাণীগুলো দেখেছিল তার সবই মেরুদণ্ডী প্রাণী। সর্বপ্রথম তারা কুমির দেখেছিল, যার ত্বক শুষ্ক ও আঁইশযুক্ত। এটি বুকে ভর দিয়ে চলে এবং পায়ে পাঁচটি নখরযুক্ত আঙুল থাকায় এটি সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত। কৃত্রিম পুকুরে যে ব্যাঙ ছিল তার দেহ আঁইশবিহীন; কিন্তু ত্বক ভেজা ও গ্রন্থিযুক্ত। এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী এবং জীবনে একপর্যায় জলে ও অন্য পর্যায় স্থলে থাকে, তাই এরা উভচর। ঝিলের হাঁসের দেহ পোষক দ্বারা আবৃত এবং ঠোঁট চঞ্চুতে পরিণত হয়েছে। ফুসফুসে বায়ুথলি ও অগ্রপদ ডানায় রূপান্তর হওয়ায় এরা উড়তে পারে। এরা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী এবং হাড় ফাঁপা ও শক্ত। ফলে এদের শ্রেণি পক্ষীকুল।

(ঘ) উদ্দীপকে দেখা যায়, রাহি রাহাতকে বলেছিল তিমি মাছ নয়। আসলে রাহির তথ্য সম্পূর্ণ সত্য। কারণ যদিও তিমি পানিতে থাকে কিন্তু তিমির যে দৈহিক বৈশিষ্ট্য ও জীবনপ্রণালী দেখা যায়, তাতে তিমিকে মাছ বলা যায় না। তিমির অন্য মাছের মতো আঁইশ নেই। এরা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী; কিন্তু মাছ শীতল রক্তবিশিষ্ট হয়ে থাকে। এদের চোয়ালে বিভিন্ন ধরনের দাঁত থাকে, যা মাছে দেখা যায় না। তিমির হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট; কিন্তু মাছের দুটি প্রকোষ্ঠ থাকে মাত্র। মাছ সন্তানদের পুষ্টি দিতে পারে না; কিন্তু তিমির বাচ্চারা মা থেকে দুগ্ধ পান করে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, তিমি পানিতে বসবাস করলেও এটি মাছ নয়, আসলে এটি একটি জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী।


মন্তব্য