kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নবম ও দশম শ্রেণি অর্থনীতি

সৃজনশীল প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিরপুর, ঢাকা   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয় অধ্যায় : অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

রাসেল একজন প্রতিভাবান দক্ষ ব্যবসায়ী। সে তার সাংগঠনিক ক্ষমতা দ্বারা নিজস্ব ভূমির ওপর কলকারখানা তৈরি করেছে।

এ ছাড়া সে বনভূমি থেকে কাঠ সংগ্রহ করে তা দিয়ে আসবাবপত্র তৈরি করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে। এতে তার প্রচুর মুনাফা হয়।

(ক) উত্পত্তির দিক থেকে সম্পদ কয় প্রকার?

(খ) উপযোগ কী?

(গ) উদ্দীপকে কোন কোন ধরনের সম্পদের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

(ঘ) উক্ত সম্পদগুলোকে কী অর্থনৈতিক সম্পদ বলা যায়? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর :

(ক) উত্পত্তির দিক থেকে সম্পদ তিন প্রকার।

(খ) উপযোগ বলতে কোনো দ্রব্যের মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতাকে বোঝায়।

 উপযোগ সম্পদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কোনো দ্রব্য সম্পদ হতে হলে সেই দ্রব্যের উপযোগ সৃষ্টির ক্ষমতা থাকতে হবে। কোনো দ্রব্যের উপযোগ না থাকলে তা কেউ টাকা দিয়ে কেনে না।

(গ) উদ্দীপকে প্রাকৃতিক, মানবিক এবং উত্পাদিত সম্পদের কথা বলা হয়েছে।

 উত্পত্তির দিক থেকে সম্পদ তিন প্রকার। যথা—প্রাকৃতিক, মানবিক ও উত্পাদিত সম্পদ। প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া যেসব দ্রব্য মানুষের প্রয়োজন মেটায়, তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। যেমন—ভূমি, বনভূমি, খনিজসম্পদ, নদ-নদী ইত্যাদি। মানুষের বিভিন্ন প্রকার যোগ্যতা ও দক্ষতাকে মানবিক সম্পদ বলা হয়। যেমন—শারীরিক যোগ্যতা, প্রতিভা, উদ্যোগ, দক্ষতা ইত্যাদি। প্রাকৃতিক ও মানবিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে যে সম্পদ সৃষ্টি হয়, তাকে উত্পাদিত সম্পদ বলা হয়। যেমন—কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, যাতায়াত, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইত্যাদি।

 উদ্দীপকে রাসেল একজন প্রতিভাবান দক্ষ ব্যবসায়ী। এখানে রাসেলের প্রতিভা ও দক্ষতা মানবিক সম্পদ। কেননা এগুলো তার যোগ্যতা। সে নিজস্ব ভূমির ওপর কলকারখানা তৈরি করেছে। এখানে ভূমি প্রাকৃতিক সম্পদ কিন্তু এর ওপর নিজের প্রতিভা বা মানবিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে কলকারখানা তৈরি করেছে। সুতরাং তার কলকারখানা উত্পাদিত সম্পদ। সে বনভূমি থেকে কাঠ সংগ্রহ করে তা দিয়ে আসবাববপত্র তৈরি করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে। এখানে বনভূমি প্রাকৃতিক সম্পদ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উত্পাদিত সম্পদ।

(ঘ) উক্ত সম্পদগুলোর কোনো কোনোটিকে অর্থনৈতিক সম্পদ বলা যায় আবার কোনো কোনোটিকে অর্থনৈতিক সম্পদ বলা যায় না।

সম্পদ শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। আমাদের প্রতিদিনের আলোচনায় সম্পদ শব্দটি প্রায়ই আমরা ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু অর্থনীতির ভাষায় সব জিনিসকেই সম্পদ বলা যায় না। অর্থনীতিতে সম্পদ হলো সেই সব জিনিস বা দ্রব্য যেগুলো পেতে চাইলে অর্থ ব্যয় করতে হয়। যেমন—ঘরবাড়ি, আসবাববপত্র, টিভি ইত্যাদি দৃশ্যমান বস্তুগত সম্পদ এবং ডাক্তারের সেবা, শিক্ষকের পাঠদান ইত্যাদি অদৃশ্যমান বা অবস্তুগত সম্পদ। উল্লিখিত জিনিসগুলো পেতে চাইলে অর্থ ব্যয় করতে হয়। অর্থনৈতিক সম্পদ হতে হলে সম্পদের চারটি বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে—উপযোগ, অপ্রাচুর্যতা, হস্তান্তরযোগ্যতা এবং বাহ্যিকতা। যে সম্পদের মধ্যে এ চারটি বৈশিষ্ট্যের একটি বৈশিষ্ট্যও অনুপস্থিত থাকে, তাকে অর্থনৈতিক সম্পদ বলা যায় না।

উদ্দীপকের রাসেল একজন প্রতিভাবান দক্ষ ব্যবসায়ী। এখানে তার প্রতিভা ও দক্ষতাকে অর্থনৈতিক সম্পদ বলা যায় না। কারণ এগুলোর বাহ্যিক অস্তিত্ব নেই। সে নিজস্ব ভূমির ওপর কলকারখানা তৈরি করেছে। এখানে ভূমি ও কলকারখানায় অর্থনৈতিক সম্পদের চারটি বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান রয়েছে। তাই এগুলো অর্থনৈতিক সম্পদ। অনুরূপভাবে উদ্দীপকে উল্লিখিত বনভূমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অর্থনৈতিক সম্পদের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত সব সম্পদকেই অর্থনৈতিক সম্পদ বলা যায় না। এগুলোর কোনো কোনোটি অর্থনৈতিক সম্পদ আবার কোনো কোনোটি অর্থনৈতিক সম্পদ নয়।


মন্তব্য