kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী : বাংলা

পাঠ প্রস্তুতি

মো. জয়নাল আবেদীন, প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢাকা   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



     প্রদত্ত অনুচ্ছেদটি পড়ে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ক্রমিক প্রশ্নের উত্তর দাও।

     শত্রুরা যখন তুলে নিয়ে যায় প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক শহীদুল্লা কায়সারকে।

সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, নিজাম উদ্দীন আহমদ ও আ ন ম গোলাম মোস্তফা, প্রখ্যাত চিকিৎসক ফজলে রাব্বী, আবদুুল আলীম চৌধুরী, মোহাম্মদ মোর্তজাকেও একইভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় আরো বহুজনকে। তাঁরা আর কেউ জীবিত ফিরে আসেননি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এসব বুদ্ধিজীবীর অনেকের ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায় মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে। আবার অনেকের কোনো সন্ধানও পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর আমরা পালন করি ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’। এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ছিলেন তাঁরা। তাঁদের প্রাণদান আমরা কখনো ব্যর্থ হতে দেব না। আমরা তাঁদের স্মরণ করব চিরদিন। দেশ ও মাতৃভাষার জন্য ত্যাগের মহান আদর্শ তাঁরা স্থাপন করে গেছেন। আমরা সেই আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের যোগ্য মানুষরূপে গড়ে তুলব। তবেই তাঁদের ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে।

 

১।    সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখো।    ১–৫ = ৫

     (i) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কবে?

     ক. ১৬ ডিসেম্বর খ. ২৬ মার্চ

     গ. ১৪ ডিসেম্বর      ঘ. ১০ ডিসেম্বর

     উত্তর : গ. ১৪ ডিসেম্বর    

            (ii) শহীদুল্লা কায়সার কে ছিলেন?

     ক. প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা

     খ. প্রখ্যাত সুরকার

     গ. প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ

     ঘ. প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক

     উত্তর : ঘ. প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক

            (iii)   ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আবাসস্থল থেকে যাঁদের ধরে নিয়ে যায় তাঁদের—

     ক. অনেকেই ফিরে আসেন

     খ. অনেকেই বেঁচে আসেন

     গ. কেউ আর জীবিত ফিরে আসেননি

     ঘ. অনেকেই পলায়ন করেন

     উত্তর : গ. কেউ আর জীবিত ফিরে আসেননি

            (iv)   দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক বুদ্ধিজীবীর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়—

     ক. শাহবাগে ও ধানমণ্ডি লেকের পাড়ে

     খ. রাজারবাগ পুলিশলাইনসে

     গ. মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে

     ঘ. সংসদ ভবনের পেছনে

     উত্তর : গ. মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে

     (v) ফজলে রাব্বী কে ছিলেন—

     ক. প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা

     খ. প্রখ্যাত লেখক

     গ. প্রখ্যাত সাংবাদিক

     ঘ. প্রখ্যাত চিকিৎসক

     উত্তর : ঘ. প্রখ্যাত চিকিৎসক

২।     প্রদত্ত শব্দগুলোর অর্থ লেখো।     ১–৫ = ৫

     বুদ্ধিজীবী, বধ্যভূমি, সন্ধান, আদর্শ, ঋণ

     উত্তর :

     বুদ্ধিজীবী—সমাজ ও সংস্কৃতিসচেতন এবং বিজ্ঞানে দক্ষ সুশিক্ষিত মানুষ

     বধ্যভূমি—বধ বা হত্যা করার স্থান

     সন্ধান—খোঁজ, হদিস

     আদর্শ—অনুসরণীয় বা অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব

     ঋণ—দায়, দেনা

৩।    নিচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষেপে উত্তর দাও     ১+২+২ = ৫

     (ক) দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক বুদ্ধিজীবীর কী পাওয়া যায়—

     (খ) ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করা হয় কেন?

     (গ) আমরা কাদের আদর্শ অনুসরণ করে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব?

     উত্তর :

     (ক) দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে অনেক বুদ্ধিজীবীর ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়।

     (খ) ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর এ দেশের যশস্বী, মনস্বী, শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ ও সৃজনশীল মানুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয় বলে তাঁদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

     (গ) এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, যেসব বুদ্ধিজীবী দেশের স্বাধীনতার জন্য অকাতরে প্রাণ দান করেছেন, তাঁদের দেশপ্রেমের এই মহান আদর্শকে অনুসরণ করে নিজেদের মানুষের মতো মানুষ, তথা যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

 

৪।    অনুচ্ছেদটির মূলভাব লেখো।      ৫

     উত্তর : দেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশের জ্ঞানী-গুণী-যশস্বীদের হত্যা করার পাশাপাশি মেধাশূন্য করে দেওয়ার জঘন্য প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রকৃত দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী যশস্বীরা কখনোই মরেন না। আমরা তাই ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের স্মরণ করি।

    

     প্রদত্ত অনুচ্ছেদটি পড়ে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।

     বগুড়া শহর থেকে ১২ কিমি উত্তরে প্রাচীরঘেরা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড়ে আছে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর। জাদুঘরের পাশেই রয়েছে গোবিন্দভিটা টিলার মতো উঁচু জায়গায়। মাটির ঢিবি খুঁড়ে বের করা হয়েছে প্রাচীন যুগের স্থাপত্য। ঢিবির নিচে আছে করতোয়ার ক্ষীণধারা। একসময় বিশাল নদী ছিল করতোয়া। এখন প্রায় মৃত নদী। মহাস্থানগড়ে একদিন রাজা-রানিসহ সবই ছিল। জনকোলাহলে মুখরিত ছিল এই নগর। আজ একটি জনশূন্য বিরানভূমি। মহাস্থানগড় দুর্গের ভেতরে দুটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আছে। এটি লোকমুখে বৈরাগীর ভিটা নামে পরিচিত। এসব ধ্বংসাবশেষ খনন করে জৈনধর্মের কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বৌদ্ধধর্ম, হিন্দুধর্ম ও ইসলামী সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন সুন্দরভাবে সাজানো আছে জাদুঘরে।

৫।    সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লেখো।    ১–৫ = ৫

     (i) বগুড়া জেলার শহর থেকে মহাস্থানগড়ের দূরত্ব কত?

     ক. ১২ কিমি  খ. ১৩ কিমি

     গ. ১৪ কিমি   ঘ. ১২ কিমি

            (ii) মহাস্থানগড় কেন বিখ্যাত

     ক. রাজা-রানিদের জন্য     

খ. প্রাচীন শহর হিসেবে

     গ. প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য

ঘ. জাদুঘরের জন্য

            (iii)   রাজা কোন পদ?

     ক. বিশেষণ   খ. বিশেষ্য

     গ. ক্রিয়া     ঘ. অব্যয়

            (iv) প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া যায় কিভাবে?

     ক. জাদুঘর থেকে    

খ. পুরনো বই পড়ে

     গ. বৃদ্ধ লোকের মাধ্যমে

ঘ. মাটি খুঁড়ে

     (v) বিরান শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি

     ক. জনশূন্য   খ. বসতিশূন্য

     গ. লোকালয়  ঘ. পরিত্যক্ত

৬।    নিচে কয়টি শব্দ দেওয়া হলো—উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে নিচের শূন্যস্থান পূরণ করো।   ১–৫ = ৫

     শব্দার্থ : প্রাচীন,

     ঢিবি, ক্ষীণধারা,

     স্থাপত্য,

     বিরানভূমি, পুরাতন, সেকেলে,

     উঁচু স্থান, ম্রিয়মাণ স্রোত, মৃদু প্রবাহ

     নির্মাণশৈলী, জনশূন্য স্থান

     (ক) মাটির ঢিবি খুঁড়ে বের করা হয়েছে—নগরী।

     (খ) ঢাকার শহরে অনেক প্রাচীন—রয়েছে।

     (গ) একসময়ের জনবসতিপূর্ণ এলাকাটি এখন—।

     (ঘ) চীনের—পৃথিবী বিখ্যাত।

     (ঙ) সুবিশাল ব্রহ্মপুত্র বর্তমানে—পরিণত হয়েছে।

     উত্তর :

     ক. প্রাচীন খ. স্থাপত্য গ. বিরানভূমি ঘ. ঢিবি ঙ. ক্ষীণধারায়।

৭।    নিচের প্রশ্নগুলো লেখো।   ৩–৫ = ১৫

     (ক) প্রাচীন নগরী মহাস্থানগড়ের বর্ণনা দাও

     (খ) মহাস্থানগড়ের পুরনো নাম কী? এখানে কী কী নিদর্শন পাওয়া গেছে?

     (গ) মহাস্থানগড়ে জাদুঘরের পাশে কী আছে। বর্ণনা করো।

     উত্তর :

     (ক) মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার অন্যতম নগরী। এটি বগুড়া জেলা শহর থেকে ১২ কিমি দূরে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। এখানে অনেক প্রাচীন নিদর্শন লক্ষ করা যায়, তার মধ্যে অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর। গোবিন্দভিটা, খোদার পাথর ভিটা ইত্যাদি মহাস্থানগড়ে দুটি জলধারা লক্ষ করা যায়। একটির নাম জয়িতকণ্ড বা জীবনকূপ, আর অপরটির নাম মানকলির কণ্ডু।

     (খ) মহাস্থানগড়ের পুরনো নাম পুণ্ড্রবর্ধন। মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ থেকে অনেক প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে। এগুলো হলো—শিলালিপি থেকে শুরু করে ভগ্ন জৈনমূর্তি, বুদ্ধমূর্তি, অলংকৃত ইট, ধাতব মুদ্রা। এ ছাড়া জৈনধর্মের নিদর্শন, বৌদ্ধ, হিন্দু ও ইসলাম ধর্মের নিদর্শন।

     (গ) মহাস্থানগড়ের জাদুঘরের পাশেই রয়েছে গোবিন্দভিটা। এখানে আছে একটি অতিথিশালা, গোবিন্দাভিটা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। টিলার মতো উঁচু জায়গা। তার নিচে করতোয়ার ক্ষীণধারা।


মন্তব্য