kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দশম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

সৃজনশীল প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর, ঢাকা   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



     বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু

 

     উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

     মাসুদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের একটি দেশে বেড়াতে যায়। দেশটিতে বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।

বর্ষাকালে দেশটির আরাকান ও টেনাসেরিস নামক উপকূলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। গ্রীষ্মকালে দেশটির গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৯হ্ন সেলসিয়াস। কিন্তু শীতকালে কোনো কোনো অঞ্চলে তুষারপাত হয় এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি চলে যায়।

     (ক) ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?

     (খ) গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের আবহাওয়া কেমন থাকে?

     (গ)  উদ্দীপকের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বিবরণ অনুসারে মাসুদ কোন দেশে বেড়াতে গিয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

     (ঘ) উক্ত দেশের জলবায়ুর সঙ্গে বাংলাদেশের জলবায়ুর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।

     উত্তর :

     (ক) ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

     (খ) গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের আবহাওয়া উষ্ণ থাকে।

     মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। এটি বাংলাদেশের উষ্ণতম ঋতু। এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮হ্ন সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১হ্নসে. পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ সময় সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেশি থাকে। এ সময় সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়।

     (গ) উদ্দীপকের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বিবরণ অনুসারে মাসুদ মিয়ানমারে বেড়াতে গিয়েছিল।

     মিয়ানমার দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত। দেশটির জলবায়ু ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ক্রান্তীয় মৌসুমি ধরনের।

     উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দেশটিতে বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। আমরা জানি, মিয়ানমারে বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। আরাকান ও টেনাসেরিস উপকূল মিয়ানমারে অবস্থিত এবং সেখানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত মিয়ানমারে বর্ষাকাল। এ সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইয়াঙ্গুনে বৃষ্টিপাত শুরু হয়, মাসের শেষ দিকে এটি সারা দেশে বিস্তার লাভ করে এবং অক্টোবর মাস পর্যন্ত চলতে থাকে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মকালে দেশটির গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৯হ্ন সেলসিয়াস এবং শীতকালে কোনো কোনো অঞ্চলে তুষারপাত হয় ও তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি চলে যায়। গ্রীষ্মকালে মিয়ানমারের অধিকাংশ স্থান অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে এবং গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৯হ্ন সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে এবং উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে শীতকালে তুষারপাত হয়, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি চলে যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশের জলবায়ু ও ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে মিয়ানমারের জলবায়ু ও অবস্থানের সাদৃশ্য থাকায় বলা যায়, মাসুদ মিয়ানমারে বেড়াতে গিয়েছিল।  

     (ঘ) মিয়ানমারের জলবায়ুর সঙ্গে বাংলাদেশের জলবায়ুর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাদৃশ্য রয়েছে, তবে কিছু বৈসাদৃশ্যও লক্ষ করা যায়।

     মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়ই ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত বলে এ দুই দেশের জলবায়ুর মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। উদ্দীপকের আলোকে নিম্নে এ দুই দেশের জলবায়ুর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য তুলে ধরা হলো : 

     সাদৃশ্য :

১.   উভয় দেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর অন্তর্গত।

২.   উভয় দেশেই বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

৩.   উভয় দেশের জলবায়ুতে তিনটি ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। যেমন—গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল ও শীতকাল।

৪.   গ্রীষ্মকালে উভয় দেশের অধিকাংশ স্থান অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে।

৫.   উভয় দেশের গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে অবস্থান করে।

৬.   বর্ষাকালে উভয় দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

৭.   উভয় দেশে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে।

     বৈসাদৃশ্য :

১.   মিয়ানমারে মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। কিন্তু বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল।

২.   মিয়ানমারে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শীতকাল। আর বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতকাল।

৩.   মিয়ানমারে শীতকালে কোনো কোনো স্থানে তুষারপাত হয় এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি চলে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে বছরের কোনো সময় তুষারপাত হয় না এবং তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছে না।


মন্তব্য