kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একাদশ শ্রেণি : সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

মরিয়ম বেগম, সহকারী অধ্যাপক আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১।    অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলো উত্তর দাও :

      ‘ক’ কোম্পানি ভালো ওষুধ তৈরির জন্য প্রসিদ্ধ।

কিন্তু সম্প্রতি বাজারে তাদের ওষুধের চাহিদা কমে যাচ্ছে। এ জন্য কোম্পানির মালিক রোহান সাহেব তাঁর কিছু কর্মকর্তাকে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন মার্কেটে পাঠান। তাঁরা নির্বাচিত ক্রেতা-বিক্রেতার নিকট থেকে প্রশ্নমালার সাহায্যে সংগৃহীত উপাত্ত রোহান সাহেবকে দেন। তিনি তা পর্যালোচনা করে দেখেন, সুদৃশ্য মোড়কজাতকরণের অভাবে তাঁর কোম্পানির ওষুধের চাহিদা কমে গেছে।

     ক. ‘বিজ্ঞান বলতে বোঝায় কার্যকরণ সূত্রে গ্রথিত জ্ঞান’—উক্তিটি কার?

     খ. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলতে কী বোঝায়?

     গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানে সামাজিক গবেষণার কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

     ঘ. তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যে কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে তার বিকল্প কৌশল ব্যবহার করা যেত, যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর :

(ক) ‘বিজ্ঞান বলতে বোঝায় কার্যকরণ সূত্রে গ্রথিত জ্ঞান’ উক্তিটি করেছেন ব্রিটিশ দার্শনিক টমাস হবস্।

(খ) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো বিজ্ঞানের ভিত্তি। সাধারণত বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানের দক্ষ উপায়কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলা হয়। বিজ্ঞানী যে যৌক্তিক পদ্ধতিতে সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিষয়াবলি বর্ণনা, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাধারণ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন, তাকেই সাধারণ কথায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কোনো ধরাবাঁধা পর্যায়ক্রম থাকতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। এ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটা কোনো কিছু চাঁচিয়ে দেয় না। অর্থাৎ বাস্তব অবস্থা যেমন আছে, তাকে তেমনিভাবেই অনুসন্ধান করে। সত্য উদ্ঘাটনই এ পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য।

(গ)  উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানে গবেষণার সামাজিক জরিপ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

     সামাজিক গবেষণার জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে সামাজিক জরিপ অন্যতম। জরিপ কথাটির অর্থ হচ্ছে কোনো কিছু সরেজমিনে পরিমাপ বা নিরূপণ করা। কোনো সমাজের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কৌশলে তথ্যাবলি সংগ্রহ, তথ্যাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুসিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে জরিপ পদ্ধতি। বস্তুত জরিপ পদ্ধতির সাহায্যে কোনো একটি বিষয়ের সামগ্রিক চিত্র লাভ করা সম্ভব।

     উদ্দীপকে ‘ক’ কোম্পানি ভালো ওষুধ তৈরি করলেও সম্প্রতি বাজারে তাদের ওষুধের চাহিদা কমে গেছে। এ জন্য কোম্পানির মালিক তাঁর কিছু কর্মকর্তাকে এর কারণ অনুসন্ধানের জন্য মার্কেটে পাঠান। তাঁরা প্রশ্নমালার সাহায্যে সংগৃহীত তথ্য মালিককে দেন। ‘ক’ কোম্পানির তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পাঠ্য বইয়ের সামাজিক জরিপ পদ্ধতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ সামাজিক জরিপ পদ্ধতিতে কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশ্নমালার সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

     সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সামাজিক জরিপ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

(ঘ)  উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘ক’ কোম্পানি তথ্য সংগ্রহের জন্য সামাজিক জরিপ পদ্ধতি প্রয়োগ করে। এ পদ্ধতি ছাড়াও ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি, পরিসংখ্যান পদ্ধতি ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

     সমাজ গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো ঘটনা অনুধ্যান। সাধারণত একাধিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে একটি সাধারণ সূত্রে উপনীত হওয়ার প্রচেষ্টাকে বলা হয় ঘটনা অনুধ্যান পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে কোনো ঘটনার সব দিক বিশ্লেষণ করা হয় এবং কোনো একজন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ বা একটি অংশের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

     পরিসংখ্যান পদ্ধতির দ্বারা বিভিন্ন সামাজিক ঘটনাবলির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য গাণিতিক পরিমাপ করা হয়। এ পদ্ধতির সাহায্যে সমাজবিজ্ঞানীরা অপরাধ, দারিদ্র্য, বয়স, সামাজিক স্তরবিন্যাসের মতো বিভিন্ন সামাজিক ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক যাচাই করতে পারেন।

     পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে মানুষের সামাজিক জীবন পর্যবেক্ষণ করে সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং এর কর্মতত্পরতা পর্যালোচনা করা হয়। যখন কোনো রেকর্ড, উৎস, উপাত্ত লিখন বা মৌখিক তথ্য প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে না, তখন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়।

     পরিশেষে বলা যায়, সামাজিক জরিপ ছাড়াও উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে ‘ক’ কোম্পানির তার গবেষণাকার্য সম্পন্ন করতে পারে। এসব পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে গৃহীত তথ্যের ‘ক’ কোম্পানি তাদের ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।


মন্তব্য