kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেএসসি প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন

তাহেরা খানম, সহকারী শিক্ষক মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিরপুর, ঢাকা   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দ্বিতীয় অধ্যায়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

১। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতি ছিল পাকিস্তানের পক্ষে।

প্রথম দিকে অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানকে সহায়তা করে। তবে নিজ দেশের বিরোধী দলের চাপে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভারতে অবস্থানরত বাঙালি শরণার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। একাত্তরের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র প্রচণ্ড ভারতবিরোধী ও পাকিস্তানঘেঁষা নীতি অনুসরণ করতে থাকে। স্বভাবতই তাদের ভূমিকা বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস ও সিনেটের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।

 

২। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা কেমন ছিল?

উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরু হওয়ার সময় থেকে বিদেশি সাংবাদিকরা পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তাঁরাই প্রথম বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ পাকবাহিনীর গণহত্যা ও বর্বরতার খবর ছড়িয়ে দেন। সাইমন ড্রিং এ রকমই একজন সাংবাদিক, যিনি নিজ চোখে সব দেখে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা সম্পর্কে অবহিত হন এবং সত্য কথা লেখেন। এভাবে এন্থনি ম্যাসকারনহাস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করেন। এ ছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।

 

৩। যৌথ বাহিনীর নেতৃত্বে যুদ্ধের ঘটনা সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর অভিযানের ফলেই বাংলাদেশ সহজে পাকিস্তানিদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

মধ্য নভেম্বর থেকে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে সম্মুখযুদ্ধে কার্যকর সহায়তা দিতে থাকে। ১৩ নভেম্বর ট্যাংকসহ দুই ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সৈন্য যশোরে ঘাঁটি স্থাপন করে। পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আরো সুদৃঢ় আক্রমণের জন্য ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকার একটি যৌথ কমান্ড গঠন করে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে এটি গঠিত হয়। এ যৌথ অভিযানের ফলেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছিল।

 

৪। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঘটনা সংক্ষেপে লেখো।

উত্তর : পাকিস্তানি বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ বিকেল ৫টায় পাকিস্তানি বাহিনী যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসর্ম্পণ করে। এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ওই দিন দুপুর থেকেই। সে দিন ভোর ৫টা থেকেই যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। যৌথ বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন জেনারেল নাগরা। তিনিই অগ্রবর্তী দলের প্রতিনিধি হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ইতিমধ্যে দুপুরে আত্মসর্ম্পণ দলিলটি নিয়ে ভারতীয় বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জ্যাকব ঢাকা এসে পৌঁছান। শীতের পড়ন্ত বিকেলে একটি হেলিকপ্টারে আগরতলা থেকে এসে পৌঁছান যৌথ বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি, মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। রেসকোর্স ময়দানে খোলা আকাশের নিচে একটি টেবিলে বসে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় মেনে নেয়।


মন্তব্য